hadith book logo

অমুসলিমদের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ প্রসঙ্গ

লেখকঃ ড. রাগিব আস-সারজানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১

দ্বিতীয় আবেদন: মুসলিম সমাজে বসবাসকারী অমুসলিমদের প্রতি।

এটিই আমাদের ধর্ম।

এতে কি আপন বিধি-বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ভীতি সঞ্চার করার মতো কিছু আছে?

ইসলামি শরী‘আতের মৌলিক নীতিমালা এবং সেগুলোর সরেজমিনে বাস্তবায়নের ইতিহাস এ কথার দাবী করে যে, অমুসলিমরা গোটা পৃথিবীতে ইসলামের মতো এতো অধিক সদাচারী, ন্যায়পরায়ণ ও মহৎ কোনো মতাদর্শ কোথাও দেখে নি। পৃথিবীর ইয়াহূদী-খ্রিস্টানরা ইসলামী রাষ্ট্রের ছায়াতলে যে সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তা পেয়েছে তা তারা ‍ নিজেদের রাষ্ট্রের স্বজাতীয় লোকদের ন্যায়পরায়ণতার মাঝেও পায় নি।

আমরা আমাদের ধর্মের বিস্তৃত ইতিহাসের কোথাও এমন কিছু খুঁজে পাই নি যা মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী সংখ্যালঘু অমুসলিমদের প্রতি কোনোরূপ অত্যাচার, নিপীড়ন বা পক্ষপাতমূলক আচরণের ইঙ্গিত বহন করে। আমরা ইসলামের উষালগ্ন থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত সকল শ্রেণির অমুসলিমদের সাথে লেন-দেনে সদাচারণ, বিচারে ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিকভাবে সম্মান প্রদর্শনের মূলনীতিকেই প্রতিপালন করে আসছি।

ইতিহাসের কোথাও কিংবা ঘটনাপ্রবাহের কোনো দৃশ্যে যদি আপনি কোনো মুসলিম শাসক বা বিচারক কর্তৃক যুলুম-নির্যাতনের কিছু দেখতে পান তাহলে সেটাকে ‍ নিশ্চয় বিচ্ছিন্ন ঘটনাই বলতে হবে এবং দেখবেন যে, সেখানে যুলুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অবশ্যই মুসলিম ব্যক্তিরাও রয়েছেন। যালিম তো যুলুম করার ক্ষেত্রে মুসলিম-অমুসলিম বিচার করে না। একজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিমও তেমন। সে ইনসাফের ক্ষেত্রে মুসলিম ও অমুসলিমের মাঝে কোনো পার্থক্য নির্ণয় করে না।

আমাদের দীনের ন্যায়পরায়ণতার সবচেয়ে স্পষ্ট ও সুন্দরতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে ন্যায়পরায়ণতা সর্বজনীন। মানুষই নয় শুধু বরং এখানে প্রতিটি সৃষ্টজীবের সাথে ইনসাফ করা হয়। যে দীনে কোনো বিড়াল কিংবা উষ্ট্রীর সাথে এমনকি কোনো উদ্ভিদের প্রতিও অবিচার করা নিষিদ্ধ সে দীনে কীভাবে মানুষের প্রতি অবিচারের অবকাশ থাকতে পারে?!!

মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ও নির্ভরতার কারণ হলো যে, আমরা মুসলিমরা তাদের সাথে ইনসাফ ও তাদের প্রতি অনুগ্রহ করাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে ধর্মীয় ইবাদত হিসেবেই পালন করে থাকে। আমরা যদি অমুসলিমদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম-নির্যাতন করি এতে আমরা আমাদের রবের নিকট অপরাধী সাব্যস্ত হই। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বড় ধরণের অন্যায় কাজে জড়িত বলে বিবেচিত হই। পরকালে এর জন্য হিসাব ও জবাবদিহিতার ভয়ে শঙ্কিত থাকি।

﴿يَوۡمَ لَا يَنفَعُ مَالٞ وَلَا بَنُونَ ٨٨ إِلَّا مَنۡ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلۡبٖ سَلِيمٖ ٨٩﴾ [ الشعراء : ٨٨، ٨٩ ]

“যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোনো উপকারে আসবে না, তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তরে।” [সূরা আশ-শু‘আরা, আয়াত: ৮৮-৮৯]

ব্যক্তিগত সমালোচনা এবং আভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আমাদেরকে সংযত রাখে। আমাদের কোনো পুলিশ বা সভা-সংঘের প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা আমাদের অন্তরে গ্রথিত। তিনি আমাদেরকে শিখিয়েছেন যেমনটি এ গ্রন্থে আমরা দেখেছি যে, আমরা যেন অমুসলিমদের প্রতি দয়াদ্র হই, তাদের সাথে নম্র ও কোমল আচরণ করি, তাদের কল্যাণে হস্ত প্রসারিত করি এবং তাদের স্বার্থে মন-প্রাণ উজাড় করে দেই।

এসব কিছু করতে আমরা কখনো চাপ বা কষ্ট অনুভব করি না; বরং এটিই আমাদের ধর্মের স্বভাবজাত প্রকৃতি এবং এমনই আমাদের লাইফ স্টাইল। সকলের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান হচ্ছে আমাদেরকে জানুন, বুঝুন এবং অনুধাবন করুন।