পরিচ্ছেদঃ ৩৬
দুই. সহীহ আকীদা-বিশ্বাস প্রসার
পৃথিবীতে প্রেরিত মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মনোনীত সকল শ্রেষ্ঠ মানব মানুষের আকীদাহ-বিশ্বাস সংশোধনের প্রতি সর্বদা আহ্বান জানিয়েছেন। কেননা নূহ আলাহিস সালামের সময়কাল থেকেই মানুষ বিভিন্ন মূর্তিপূজা, অগ্নিপূজা, আল্লাহর সাথে বিভিন্ন সত্তার অংশীদার স্থাপন করছিল। তাই নবী-রাসূলগণ তাদের সেসব কর্ম ত্যাগ করে এক আল্লাহ্র ইবাদতে আহ্বান জানিয়েছেন। কুরআনে এসেছে,
﴿ لَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوۡمِهِۦ فَقَالَ يَٰقَوۡمِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرُهُۥٓ إِنِّيٓ أَخَافُ عَلَيۡكُمۡ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٖ ٥٩ ﴾ [ الاعراف : ٥٩ ]
‘‘অবশ্যই আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার সম্প্রদায়ের কাছে। অতঃপর তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ্র ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন সত্য ইলাহ্ নেই। নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর মহাদিনের শাস্তির আশংকা করছি।’’ [.সূরা আল্-আ’রাফ: ৫৯।]
একজন মানুষের জীবনে বিশুদ্ধ আকীদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আকীদার ভিন্নতা দেখা দেয়ায় মুসলিমগণ শী‘আ, সুন্নী প্রভৃতি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আকীদা শুদ্ধ না হলে বিশুদ্ধ ইসলাম জীবনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমাদের দেশে মানুষের মাঝে এ বিষয়ের খুবই অভাব রয়েছে। মিডিয়ার সাহায্যে আকীদা সম্বলিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, প্রশ্নোত্তর প্রভৃতির মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ আকীদা বিশ্বাস জাগ্রত করা সম্ভব।
মানুষ যা সত্য হিসেবে জানে এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করে সেটা অন্যকে জানানো তার স্বভাবগত বিষয়। কেউ যদি বিশ্বাস করে যে, এক আল্লাহ্ আছেন, তার ইবাদত করতে হবে, তার সামনে একদিন সকল কার্যক্রমের হিসাব দেয়ার জন্য দাঁড়াতে হবে, তবে সে অনুসারে কাজ করা যে দরকার এ ধরনের বিশ্বাস আকীদার অংশ বিশেষ। ‘হাদীসে জিব্রাইল’-এ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকীদা বলতে ঈমান, ইসলাম, ইহসান প্রভৃতিকে বুঝিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলাম হলো: এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয় এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ্র রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, রমজান মাসে সাওম পালন করা, সামর্থ থাকলে হজ্জ করা। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এর প্রশ্ন করা এবং উত্তর সত্যায়ন করাতে আমরা আশ্চার্যান্বিত হলাম। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঈমান হলো আল্লাহ্, ফেরেস্তাগণ, আসমানী গ্রন্থসমূহ, রাসূলগণ, পরকাল দিবস ও তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। তারপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইহসান হলো, তুমি আল্লাহ্র ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো, যদি তুমি তাঁকে নাও দেখ, নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। [.ইমাম মুসলিম, সহীহ, প্রাগুক্ত, বাবু মা‘রিফাতিল ইসলাম, ওয়াল ঈমান ওয়াল ক্বদর, হাদীস নং ১।]