hadith book logo

ইসলামী মিডিয়ার স্বরূপ ও তাৎপর্য

লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

খ. সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতা

মিডিয়া সর্বদা সত্য সংবাদ পরিবেশনকারী ও যাবতীয় তথ্য-উপাত্তের আমানতদার হিসেবে বিবেচিত হবে। কেননা সত্য মহাগ্রন্থ আল্-কুরআন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যেহেতু ইসলামী মিডিয়া ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিভাগ সম্পর্কে প্রচারণা চালায় সেহেতু তা অবশ্যই সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত গুণাবলীর অধিকারী। অতএব, সত্যবাদিতা একজন ইসলামী মিডিয়া ব্যক্তিত্বের অন্যতম চারিত্রিক গুণ। মহান আল্লাহ্‌ বলেন-

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَكُونُواْ مَعَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١١٩ ﴾ [ التوبة : ١١٩ ]

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।’’ [.সূরা তাওবাহ : ১১৯।]

ইসলামী মিডিয়া এ বৈশিষ্ট্যটি সবসময় অনুশীলন করে থাকে। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা এবং মিথ্যাকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য ন্যায় ও ইনসাফের দিকে মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট করা এর অন্যতম কাজ। দীনকে হেফাজত করতে এবং দুনিয়ার জীবনে তা বাস্তবায়নে তা সদা সচেষ্ট।

সত্যের বিপরীত মিথ্যা, পবিত্র কুরআনে মিথ্যা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মিথ্যাবাদীকে বিভিন্ন স্থানে অভিসম্পাতও দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন-

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِ‍َٔايَٰتِ ٱللَّهِ لَا يَهۡدِيهِمُ ٱللَّهُ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ ١٠٤ ﴾ [ النحل : ١٠٤ ]

‘‘নিশ্চয় যারা আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহে ঈমান আনে না, তাদেরকে আল্লাহ্‌ হিদায়াত করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’’ [.সূরা আন নাহল : ১০৪।]

মিথ্যা বলার মাঝে নেফাকী চরিত্র ফুটে উঠেছে। এটি মুনাফিকদের অন্যতম লক্ষণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

«آيَةُ المُنَافِقِ ثَلاَثٌ : إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ»

অর্থাৎ ‘‘মুনাফিকের তিনটি আলামত। যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে তার খিয়ানত করে।’’ [.ইমাম বুখারী, সহীহ, প্রাগুক্ত, বাবু মান আমারা বি ইনজাযিল ও‘য়াদ, হাদীস নং ২৬৮২।]

সত্যবাদীতার সাথে তিনটি বিষয় জড়িত।

এক. সত্য সংবাদ প্রদান।

দুই. সত্য কথা বলা।

তিন. সঠিক হুকুম দেয়া।

উপর্যুক্ত তিনটি দিকেই মিডিয়া সত্যকে অনুসরণ করলে সে মিডিয়াটি জনসাধারণের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে। আর কোনো কিছু যদি গ্রহণযোগ্য না হয় তখন তার আবেদনটি স্থায়ী হয় না। ইসলাম যেহেতু সুন্দর, স্থায়ী। তাই এ মিডিয়া ইসলামী সংবাদ পরিবেশন, বক্তব্য প্রদান ও বিচারের ক্ষেত্রে সততা নিশ্চিত করে থাকে। মূলতঃ এগুলো সবই তাকওয়ার অংশ। মহান আল্লাহ্‌ বলেন-

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُونُواْ قَوَّٰمِينَ لِلَّهِ شُهَدَآءَ بِٱلۡقِسۡطِۖ وَلَا يَجۡرِمَنَّكُمۡ شَنَ‍َٔانُ قَوۡمٍ عَلَىٰٓ أَلَّا تَعۡدِلُواْۚ ٱعۡدِلُواْ هُوَ أَقۡرَبُ لِلتَّقۡوَىٰۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا تَعۡمَلُونَ ٨ ﴾ [ المائ‍دة : ٨ ]

‘‘হে মুমিনগণ! আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে; কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার করবে, এটা তাক্ওয়ার কাছাকাছি। আর তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ্‌ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।’’ [.সূরা আল্-মায়েদা : ৮।]