১
ইসলামী মিডিয়ার স্বরূপ ও তাৎপর্য
লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৫
এক. ইসলামী দা‘ওয়াহ প্রচারের মাধ্যম
ইসলামী দা‘ওয়াহ হল মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো। যেহেতু ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ দীন সেহেতু, তার দা‘ওয়াতও শ্রেষ্ঠ। মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিতে এ মহতি কাজের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামী দা‘ওয়াহ যেমনি ফরয তেমনি ইসলামী মিডিয়াও অত্যাবশ্যক। সকল নবী-রাসূল তাঁদের সমকালীন মিডিয়া ব্যবহার করে দা‘ওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান যেহেতু ইসলামে রয়েছে, সেহেতু ইসলামের দা‘ওয়াত উপস্থাপনের মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। পবিত্র কুরআনে নবী-রাসূলগণের দা‘ওয়াত পদ্ধতি ও মাধ্যম বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর জাতিকে দা‘ওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্যে বলেন,
﴿ يَغۡفِرۡ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمۡ وَيُؤَخِّرۡكُمۡ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّىۚ إِنَّ أَجَلَ ٱللَّهِ إِذَا جَآءَ لَا يُؤَخَّرُۚ لَوۡ كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٤ قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوۡتُ قَوۡمِي لَيۡلٗا وَنَهَارٗا ٥ فَلَمۡ يَزِدۡهُمۡ دُعَآءِيٓ إِلَّا فِرَارٗا ٦ ﴾ [ نوح : ٤، ٦ ]
‘‘তিনি তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে অবকাশ দেবেন এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় আল্লাহ্ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হলে তা বিলম্বিত হয় না; যদি তোমরা এটা জানতে!’ তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আমি তো আমার সস্প্রদায়কে দিনরাত ডেকেছি, ‘কিন্তু আমার ডাক তাদের পলায়ন প্রবণতাই বৃদ্ধি করেছে।’’ [.সূরা নূহ: ৪-৬।]
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানব সভ্যতা বিকাশে নবী-রাসূলগণের অবদানই বেশী। যুগে যুগে প্রেরিত ঐসব নবী-রাসূলের সুন্নাত হলো দা‘ওয়াত দান। তাঁরা মানুষকে এক আল্লাহ্র ইবাদাত করতে এবং তাগুতকে বর্জন করতে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। কুরআনে এসেছে,
﴿ وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ فَمِنۡهُم مَّنۡ هَدَى ٱللَّهُ وَمِنۡهُم مَّنۡ حَقَّتۡ عَلَيۡهِ ٱلضَّلَٰلَةُۚ فَسِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُكَذِّبِينَ ٣٦ ﴾ [ النحل : ٣٦ ]
‘‘আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম এ নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্ ‘ইবাদাত কর এবং তাগূতকে বর্জন কর। অতঃপর তাদের কিছু সংখ্যককে আল্লাহ্ হিদায়াত দিয়েছেন, আর তাদের কিছু সংখ্যকের উপর পথভ্রান্তি সাব্যস্ত হয়েছিল; কাজেই তোমরা যমীনে পরিভ্রমণ কর অতঃপর দেখে নাও মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কী হয়েছে?’’ [.সূরা আন নাহল : ৩৬।]
কুরআনের অন্যত্র এসেছে,
﴿إِنَّآ أَرۡسَلۡنَٰكَ بِٱلۡحَقِّ بَشِيرٗا وَنَذِيرٗاۚ وَإِن مِّنۡ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٞ ٢٤ ﴾ [ فاطر : ٢٤ ]
‘‘নিশ্চয় আমরা আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে; আর এমন কোনো উম্মত নেই যার কাছে গত হয় নি সতর্ককারী।’’ [.সূরা ফাতির : ২৪।]
অপর এক আয়াতে নবীগণের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে,
﴿وَمَا كَانَ لِمُؤۡمِنٖ وَلَا مُؤۡمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمۡرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلۡخِيَرَةُ مِنۡ أَمۡرِهِمۡۗ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلٗا مُّبِينٗا ٣٦ ﴾ [ الاحزاب : ٣٦ ]
‘‘আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয়ে তাদের কোনো (ভিন্ন সিদ্ধান্তের) ইখতিয়ার সংগত নয়। আর যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হবে।’’ [.সূরা আল্-আহযাব: ৩৯।]
অতএব ইসলামী দা‘ওয়াতের কাজ নবী-রাসূলগণের। তাঁদের অবর্তমানে দায়িত্ব সকল মুসলিম উম্মাহর উপর বর্তায়। আর এ দায়িত্ব পালনের অর্থ হল নবুয়তের দায়িত্ব পালন। আজকাল ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাহায্যে খুব সহজে স্বল্প সময়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যে কোন ম্যাসেজ পৌঁছানো যায়। ফলে ইসলাম প্রচারে ইসলামী মিডিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
﴿ يَغۡفِرۡ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمۡ وَيُؤَخِّرۡكُمۡ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّىۚ إِنَّ أَجَلَ ٱللَّهِ إِذَا جَآءَ لَا يُؤَخَّرُۚ لَوۡ كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٤ قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوۡتُ قَوۡمِي لَيۡلٗا وَنَهَارٗا ٥ فَلَمۡ يَزِدۡهُمۡ دُعَآءِيٓ إِلَّا فِرَارٗا ٦ ﴾ [ نوح : ٤، ٦ ]
‘‘তিনি তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে অবকাশ দেবেন এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় আল্লাহ্ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হলে তা বিলম্বিত হয় না; যদি তোমরা এটা জানতে!’ তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আমি তো আমার সস্প্রদায়কে দিনরাত ডেকেছি, ‘কিন্তু আমার ডাক তাদের পলায়ন প্রবণতাই বৃদ্ধি করেছে।’’ [.সূরা নূহ: ৪-৬।]
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানব সভ্যতা বিকাশে নবী-রাসূলগণের অবদানই বেশী। যুগে যুগে প্রেরিত ঐসব নবী-রাসূলের সুন্নাত হলো দা‘ওয়াত দান। তাঁরা মানুষকে এক আল্লাহ্র ইবাদাত করতে এবং তাগুতকে বর্জন করতে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। কুরআনে এসেছে,
﴿ وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ فَمِنۡهُم مَّنۡ هَدَى ٱللَّهُ وَمِنۡهُم مَّنۡ حَقَّتۡ عَلَيۡهِ ٱلضَّلَٰلَةُۚ فَسِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُكَذِّبِينَ ٣٦ ﴾ [ النحل : ٣٦ ]
‘‘আর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছিলাম এ নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্ ‘ইবাদাত কর এবং তাগূতকে বর্জন কর। অতঃপর তাদের কিছু সংখ্যককে আল্লাহ্ হিদায়াত দিয়েছেন, আর তাদের কিছু সংখ্যকের উপর পথভ্রান্তি সাব্যস্ত হয়েছিল; কাজেই তোমরা যমীনে পরিভ্রমণ কর অতঃপর দেখে নাও মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কী হয়েছে?’’ [.সূরা আন নাহল : ৩৬।]
কুরআনের অন্যত্র এসেছে,
﴿إِنَّآ أَرۡسَلۡنَٰكَ بِٱلۡحَقِّ بَشِيرٗا وَنَذِيرٗاۚ وَإِن مِّنۡ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٞ ٢٤ ﴾ [ فاطر : ٢٤ ]
‘‘নিশ্চয় আমরা আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে; আর এমন কোনো উম্মত নেই যার কাছে গত হয় নি সতর্ককারী।’’ [.সূরা ফাতির : ২৪।]
অপর এক আয়াতে নবীগণের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে,
﴿وَمَا كَانَ لِمُؤۡمِنٖ وَلَا مُؤۡمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمۡرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلۡخِيَرَةُ مِنۡ أَمۡرِهِمۡۗ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلٗا مُّبِينٗا ٣٦ ﴾ [ الاحزاب : ٣٦ ]
‘‘আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয়ে তাদের কোনো (ভিন্ন সিদ্ধান্তের) ইখতিয়ার সংগত নয়। আর যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হবে।’’ [.সূরা আল্-আহযাব: ৩৯।]
অতএব ইসলামী দা‘ওয়াতের কাজ নবী-রাসূলগণের। তাঁদের অবর্তমানে দায়িত্ব সকল মুসলিম উম্মাহর উপর বর্তায়। আর এ দায়িত্ব পালনের অর্থ হল নবুয়তের দায়িত্ব পালন। আজকাল ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাহায্যে খুব সহজে স্বল্প সময়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যে কোন ম্যাসেজ পৌঁছানো যায়। ফলে ইসলাম প্রচারে ইসলামী মিডিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।