১
ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা
লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমানের স্তরসমূহ
আর ঈমানের মূলবিষয় যখন পুরাপুরিভাবে বিশ্বাস ও আত্মসমর্পন এবং বিশেষভাবে ‘গায়েব’ তথা অদেখা বিষয়াবলীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তখন তার পরিপূর্ণতার জন্য আবশ্যক হলো: ঈমানের রুকনসমূহ ও যাবতীয় ফরয বিষয়গুলো পালন করা এবং কবীরা গুনাহসমূহ ও যাবতীয় হারাম বিষয়গুলো বর্জন করা। আর তার পরিপূর্ণতার জন্য মুস্তাহাব হলো: মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজগুলো সম্পাদন করা, ‘মাকরূহ’ বা অপছন্দনীয় বিষয়গুলো পরিহার করা এবং যাবতীয় সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা।
আর অন্তর, মুখ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আনুগত্যের দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবাধ্য আচরণের কারণে ঈমানের ঘাটতি হয়। সুতরাং ঈমানের কতগুলো স্তর ও পর্যায় রয়েছে।
তার প্রথম স্তর হলো: এমন ঈমান, যা জাহান্নামের মধ্যে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করা থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, আর ঈমানের এ স্তরটিকে বলা হয় أصل الإيمان (মূল ঈমান) অথবা مطلق الإيمان (নামমাত্র ঈমান) অথবা الإيمان المجمل (মোটামুটি ঈমান), আর তার হকীকত হলো: একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইবাদত করা। সুতরাং ইবাদতের সকল আনুষ্ঠানিকতা শুধু তাঁর উদ্দেশ্যেই হবে, আর আনুগত্য ও আত্মসমর্পনের দ্বারা এককভাবে তাঁকেই পাওয়ার উদ্দেশ্য হবে। অতএব, হালাল ও হরামের প্রশ্নে শুধু তাঁরই শরণাপন্ন হতে হবে, যদিও এ স্তরের ঈমানদার ব্যক্তি স্বীয় নাফসের প্রতি যুলুম করে তারা আবশ্যকীয় দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করে এবং অন্যায় কাজে প্রলুব্ধ হয়; যতক্ষণ সে ঈমান বিনষ্টকারী বিষয় থেকে বিরত থাকবে, (ততক্ষণ সে এ স্তরের মুমিন বলে গণ্য হবে)।
আর ঈমানের মধ্যম স্তর হলো: এমন ঈমান, যা জাহান্নামে প্রবশে করতে দেবে না, আর ঈমানের এ স্তরটিকে বলা হয় الإيمان الواجب (আবশ্যকীয় বা বাধ্যতামূলক ঈমান) অথবা الإيمان المطلق (পূর্ণ ঈমান) অথবা الإيمان المفصل (বিস্তারিত বা ব্যাপক ঈমান)।
আর এ প্রকারের ঈমান مطلق الإيمان (নামমাত্র ঈমান)-কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সাথে অতিরিক্ত আবশ্যকীয় কাজ সম্পাদন করা ও নিষিদ্ধ কাজসমূহ বর্জন করার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, আর এটা হলো তার আবশ্যকীয় পরিপূর্ণতা বা পরিপূরক আর মর্যাদার ক্ষেত্রে এ পর্যায়ের ঈমানদার ব্যক্তি কয়েক স্তরে বিন্যস্ত।
আর মধ্যম স্তরের ঈমানদার ব্যক্তির প্রথম মানযিল বা আবাসস্থল হলো জান্নাত। সুতরাং সে কখনও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
আর الإيمان المطلق (পূর্ণাঙ্গ ঈমান)-এর অনুপস্থিতি مطلق الإيمان (নামমাত্র ঈমান) না থাকার বিষয়টিকে আবশ্যক করে না।
আর ইমানের সর্বোচ্চ স্তর হলো: এমন ঈমান, যা তার অধিকারীকে ব্যক্তিকে জান্নাতের মধ্যে মর্যাদা উন্নত করার ব্যবস্থা করবে, আর ঈমানের এ স্তরটিকে বলা হয় الإيمان المستحب (মুস্তাহাব ঈমান) অথবা الإيمان الكامل بالمستحبات (মুস্তাহাবসমূহ দ্বারা পূর্ণাঙ্গ ঈমান)।
আর এ স্তরের মুমিনের মধ্যে দাবি করা হয় الإيمان المطلق (পূর্ণাঙ্গ ঈমান)-এর বাস্তব উপস্থিতি এবং সাথে আরও অতিরিক্ত থাকবে মুস্তাহাব কাজসমূহ যথাযথভাবে পালন করা এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বিষয়গুলো থেকে আত্মরক্ষা করা, আর এটা হলো তার মুস্তাহাব পরিপূর্ণতা।
আর সর্বোচ্চ স্তরের ঈমানদার ব্যক্তি কল্যাণের কাজে অগ্রগামী হয়ে পৌঁছে যাবেন জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে।
আর ঈমানের এসব স্তরের স্বপক্ষে দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী, তিনি বলেন,
﴿ثُمَّ أَوۡرَثۡنَا ٱلۡكِتَٰبَ ٱلَّذِينَ ٱصۡطَفَيۡنَا مِنۡ عِبَادِنَاۖ فَمِنۡهُمۡ ظَالِمٞ لِّنَفۡسِهِۦ وَمِنۡهُم مُّقۡتَصِدٞ وَمِنۡهُمۡ سَابِقُۢ بِٱلۡخَيۡرَٰتِ﴾ [ فاطر : ٣٢ ]
“তারপর আমরা কিতাবের অধিকারী করলাম তাদেরকে, যাদেরকে আমাদের বান্দাদের মধ্য থেকে আমরা মনোনীত করেছি, তবে তাদের কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যমপন্থী এবং কেউ কল্যাণের কাজে অগ্রগামী।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ৩২]
সুতরাং প্রথমত ‘মুসলিম’ সাধারণ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি। আর দ্বিতীয়ত ‘মুমিন’ পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি। আর তৃতীয়ত ‘মুহসিন’ সকল মুস্তাহাব কাজ সম্পাদন করার সাথে সাথে পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি।
আর অন্তর, মুখ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আনুগত্যের দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবাধ্য আচরণের কারণে ঈমানের ঘাটতি হয়। সুতরাং ঈমানের কতগুলো স্তর ও পর্যায় রয়েছে।
তার প্রথম স্তর হলো: এমন ঈমান, যা জাহান্নামের মধ্যে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করা থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, আর ঈমানের এ স্তরটিকে বলা হয় أصل الإيمان (মূল ঈমান) অথবা مطلق الإيمان (নামমাত্র ঈমান) অথবা الإيمان المجمل (মোটামুটি ঈমান), আর তার হকীকত হলো: একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইবাদত করা। সুতরাং ইবাদতের সকল আনুষ্ঠানিকতা শুধু তাঁর উদ্দেশ্যেই হবে, আর আনুগত্য ও আত্মসমর্পনের দ্বারা এককভাবে তাঁকেই পাওয়ার উদ্দেশ্য হবে। অতএব, হালাল ও হরামের প্রশ্নে শুধু তাঁরই শরণাপন্ন হতে হবে, যদিও এ স্তরের ঈমানদার ব্যক্তি স্বীয় নাফসের প্রতি যুলুম করে তারা আবশ্যকীয় দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করে এবং অন্যায় কাজে প্রলুব্ধ হয়; যতক্ষণ সে ঈমান বিনষ্টকারী বিষয় থেকে বিরত থাকবে, (ততক্ষণ সে এ স্তরের মুমিন বলে গণ্য হবে)।
আর ঈমানের মধ্যম স্তর হলো: এমন ঈমান, যা জাহান্নামে প্রবশে করতে দেবে না, আর ঈমানের এ স্তরটিকে বলা হয় الإيمان الواجب (আবশ্যকীয় বা বাধ্যতামূলক ঈমান) অথবা الإيمان المطلق (পূর্ণ ঈমান) অথবা الإيمان المفصل (বিস্তারিত বা ব্যাপক ঈমান)।
আর এ প্রকারের ঈমান مطلق الإيمان (নামমাত্র ঈমান)-কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সাথে অতিরিক্ত আবশ্যকীয় কাজ সম্পাদন করা ও নিষিদ্ধ কাজসমূহ বর্জন করার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, আর এটা হলো তার আবশ্যকীয় পরিপূর্ণতা বা পরিপূরক আর মর্যাদার ক্ষেত্রে এ পর্যায়ের ঈমানদার ব্যক্তি কয়েক স্তরে বিন্যস্ত।
আর মধ্যম স্তরের ঈমানদার ব্যক্তির প্রথম মানযিল বা আবাসস্থল হলো জান্নাত। সুতরাং সে কখনও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
আর الإيمان المطلق (পূর্ণাঙ্গ ঈমান)-এর অনুপস্থিতি مطلق الإيمان (নামমাত্র ঈমান) না থাকার বিষয়টিকে আবশ্যক করে না।
আর ইমানের সর্বোচ্চ স্তর হলো: এমন ঈমান, যা তার অধিকারীকে ব্যক্তিকে জান্নাতের মধ্যে মর্যাদা উন্নত করার ব্যবস্থা করবে, আর ঈমানের এ স্তরটিকে বলা হয় الإيمان المستحب (মুস্তাহাব ঈমান) অথবা الإيمان الكامل بالمستحبات (মুস্তাহাবসমূহ দ্বারা পূর্ণাঙ্গ ঈমান)।
আর এ স্তরের মুমিনের মধ্যে দাবি করা হয় الإيمان المطلق (পূর্ণাঙ্গ ঈমান)-এর বাস্তব উপস্থিতি এবং সাথে আরও অতিরিক্ত থাকবে মুস্তাহাব কাজসমূহ যথাযথভাবে পালন করা এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বিষয়গুলো থেকে আত্মরক্ষা করা, আর এটা হলো তার মুস্তাহাব পরিপূর্ণতা।
আর সর্বোচ্চ স্তরের ঈমানদার ব্যক্তি কল্যাণের কাজে অগ্রগামী হয়ে পৌঁছে যাবেন জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে।
আর ঈমানের এসব স্তরের স্বপক্ষে দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী, তিনি বলেন,
﴿ثُمَّ أَوۡرَثۡنَا ٱلۡكِتَٰبَ ٱلَّذِينَ ٱصۡطَفَيۡنَا مِنۡ عِبَادِنَاۖ فَمِنۡهُمۡ ظَالِمٞ لِّنَفۡسِهِۦ وَمِنۡهُم مُّقۡتَصِدٞ وَمِنۡهُمۡ سَابِقُۢ بِٱلۡخَيۡرَٰتِ﴾ [ فاطر : ٣٢ ]
“তারপর আমরা কিতাবের অধিকারী করলাম তাদেরকে, যাদেরকে আমাদের বান্দাদের মধ্য থেকে আমরা মনোনীত করেছি, তবে তাদের কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যমপন্থী এবং কেউ কল্যাণের কাজে অগ্রগামী।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ৩২]
সুতরাং প্রথমত ‘মুসলিম’ সাধারণ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি। আর দ্বিতীয়ত ‘মুমিন’ পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি। আর তৃতীয়ত ‘মুহসিন’ সকল মুস্তাহাব কাজ সম্পাদন করার সাথে সাথে পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি।