hadith book logo

ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

সপ্তম পরিচ্ছেদ: ঈমানের শ্রেণিবিভাগ ও তাওহীদের প্রকারভেদ

আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত হবে, আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব, তাঁর ‘ওয়াহদানিয়্যাত’ (একত্ববাদ), ‘রুবূবিয়্যাত’ (প্রভুত্ব), সুন্দর সুন্দর নাম, মহান গুণাবলী এবং তাঁর ‘উলুহিয়্যাত’ এর প্রতি ঈমান আনার বিষয়সমূহ।

আর তাওহীদ বা একত্ববাদ হলো এ বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা‘আলাকে এক ও একক, তাঁর সত্ত্বা, নামসমূহে; সুতরাং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি তাঁর গুণাবলীতেও একক; সুতরাং তাঁর মতো কেউ নেই, তিনি স্বীয় কার্যাবলীতেও একক; সুতরাং তাঁর কোনো তুলনা নেই, তিনি ইবাদতের হকদার হিসেবেও একক। কেবল তিনিই সকল ইবাদাতের হকদার, সুতরাং তাঁর কোনো শরীক নেই। তাই যে নির্দেশ তিনি দিয়েছেন কেবল তাঁর আনুগত্য ও ইবাদত করা, এবং যে ব্যাপারে তিনি নিষেধ করেছেন এবং হুমকি প্রদান করেছেন তা থেকে বিরত থাকা,।

আর ঈমান ও তাওহীদের সমন্বয় সাধনকারী বিষয় হচ্ছে, বান্দা শুধু তার রবের উদ্দেশ্যে তার অন্তর দ্বারা বিশ্বাসসমূহ লালন করবে, তার মুখে বিশ্বাসের কথাগুলো উচ্চারণ করবে এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা বিশ্বাস নিঃসৃত কাজগুলো সম্পাদন করবে।

আর যখন ঈমান ও তাওহীদের প্রকৃতরূপ সুপ্ত থাকে (আল্লাহ ও রাসূল থেকে প্রাপ্ত) সংবাদকে বিশ্বাস করা, মেনে নেওয়া ও নির্দেশ বাস্তবায়ন করার মধ্যে, তখন যথাযথ ও যুক্তিযুক্ত হবে তাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দু’টি রুকন বা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা: এক প্রকারের সম্পর্ক থাকবে (আল্লাহ ও রাসূল থেকে প্রাপ্ত) খবরসমূহ বিশ্বাস করা, জানা ও সাব্যস্তকরণের সাথে, আর অপর প্রকারের সম্পর্ক থাকবে আনুগত্য করার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করার সাথে।

আর যখন রুবূবিয়্যাতের গুণাবলীর সাথে আল্লাহ তা‘আলাকে এককভাবে সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে ত্রুটি হয়, তাঁর মহান নামসমষ্টি ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে অবিশ্বাসের জন্ম হয় এবং আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের ব্যাপারে শির্ক ও বিদ‘আতের প্রকাশ ঘটে, তখন পূর্ববর্তী বিজ্ঞ আলেমগণ প্রতিটি দিক ও বিভাগের ব্যাপারে জবাব দানে মনোযোগ দেন এবং প্রতিটি বিষয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করার ব্যাপারে যত্নবান হন।

আর শরী‘আতের বক্তব্যসমূহ যথাযথ অনুসন্ধান, সুন্দরভাবে সাজানো ও যথার্থ বিন্যাসের দাবী হচ্ছে, ঈমান ও তাওহীদ প্রসঙ্গে মোটামুটিভাবে দু’টি বাব বা অধ্যায়ের ব্যবস্থা থাকবে:

‘জ্ঞানগত তথ্যভিত্তিক আল্লাহর একত্ববাদ’ ( التوحيدُ العلميُّ الخبريُّ ) ও

‘উদ্দেশ্যমূলক কাঙ্ক্ষিত একত্ববাদ’ ( التوحيدُ القصديُّ الطلبيُّ ) বিস্তারিতভাবে যাতে থাকবে তিনটি বাব বা অধ্যায়:

‘রুবূবিয়্যাতের ব্যাপারে আল্লাহর একত্ববাদ’ ( التوحيد في الربوبية ),

‘উলূহিয়্যাত তথা ইবাদতের ব্যাপারে আল্লাহর একত্ববাদ ( التوحيد في الألوهية ) ও

‘নামসমষ্টি ও গুণাবলীর ব্যাপারে আল্লাহর একত্ববাদ ( التوحيد في الأسماء و الصفات ),

প্রকৃতপক্ষে এগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, ওৎপ্রোতভাবে জড়িত এবং আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী বান্দার হৃদয়ে এগুলো একত্রিত ও অবিচ্ছিন্নভাবেই অবস্থান করে।

আর যেমনিভাবে গ্রন্থনাটি তাওকীফী বা কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য দ্বারা সরাসরি নির্ধারিত নয়, তেমনিভাবে ঈমান ও তাওহীদের মধ্যেও সংখ্যা নিরূপণ করার মত কিছু নেই; বরং এখানে বিবেচ্য বিষয় হলো উদ্দেশ্য ও অর্থগত তাৎপর্য, শব্দ ও শব্দকাঠামো বা বর্ণমালা উদ্দেশ্য নয়।