hadith book logo

ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫

চতুর্থ অধ্যায়: বিবিধ মাসআলা প্রথম পরিচ্ছেদ: আলে বাইত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমের ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের আকিদা

আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজন হলেন তারা, যাদের জন্য সাদকা গ্রহণ করা হারাম, আর তারা হলেন- আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র পরিবার-পরিজন, জা‘ফর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র পরিবার-পরিজন, ‘আকীল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র পরিবার-পরিজন, ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র পরিবার-পরিজন এবং হারেছ ইবন আবদিল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’র সন্তানগণ।

আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজনের অন্তর্ভুক্ত হলেন- তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণ, তারা দুনিয়াতে ও সর্বোচ্চ জান্নাতে তাঁর একান্ত প্রিয় সঙ্গীনী। তারা হলেন- মুমিনগণের জননী, যাদের থেকে আল্লাহ সকল প্রকার পঙ্কিলতা দূর করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে পবিত্র করেছেন সকল প্রকার কলুষতা ও অপবিত্রতা থেকে; বিশেষ করে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে আমৃত্যু এককভাবে সংসার করেছেন। কারণ, তিনি তাঁর বর্তমানে আর কোনো বিয়ে করেন নি। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু ভিন্ন মেজাজের সংসার করেছেন। কেননা তাঁকে তিনি ভিন্ন অন্য কেউ বিয়ে করেন নি।

আর তাঁর পরিবার-পরিজনের অন্তর্ভুক্ত হলেন: যাদেরকে তিনি পোশাক বা আচ্ছাদন দ্বারা আবৃত করেছেন। তারা হলেন- আলী ও ফাতেমা, হাসান ও হোসোইন এবং তাদের বংশধর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম আজমা‘ঈন।

আর তারা হলেন শ্রেষ্ঠতম পূণ্যবান ব্যক্তিবর্গ এবং পবিত্রতম বংশধর, মর্যাদাবান গৌরবময় পরিবার এবং বংশগতভাবে সবচেয়ে সম্মানিত।

আর তাদেরকে মহব্বত করার মাধ্যমে আহলে সুন্নাতের জনগোষ্ঠী আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন করেন, আর তাদের প্রতিরক্ষা ও মর্যাদা সুরক্ষার মাধ্যেমে তারা দীনদারি হাসিল করেন, আর তাদেরকে যারা ঘৃণা করে অথবা দুর্ণাম করে তারা প্রকাশ্যে তাদেরকে ঘৃণা করার কথা ঘোষণা করে, আর তাদেরকে ভালোবাসার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক দেওয়া নির্দেশের প্রতি আমল করেন।

আর তারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেন এবং তাদেরকে সম্মান করেন, আর (এ ক্ষেত্রে) তারা ভণ্ড ও ফাঁকিবাজদের তরীকা থেকে মুক্ত।

আর তারা তাদের ব্যাপারে কোনোরূপ বাড়াবাড়ি করনে না এবং তাদেরকে নিষ্পাপ মনে করনে না, আর (এ ক্ষেত্রে) তারা রাফেযী (শিয়া)দের তরীকা থেকে মুক্ত।

আর তারা তাদের মধ্যকার ‘মুহসিন’ বান্দাকে উচ্চমর্যাদায় তুলে ধরেন এবং তাদের মধ্যকার সমালোচিতজনের উদ্দেশ্যে এমন কথা বলেন, যা তাদের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ بَطَّأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ»

“যে ব্যক্তিকে তার আমল পিছিয়ে দেবে, তার বংশমর্যাদা তাকে এগিয়ে দিতে পারবে না।” [মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৮]

আর যে ব্যক্তি উত্তম বংশ ও সৎ আমলের মধ্যে সমন্বয় করতে পারবে, সে ব্যক্তি দ্বিগুণ ভালো অর্জন করতে পারল এবং দ্বিগুণ মর্যাদা লাভ করল।