১
ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা
লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঈমান হ্রাসকারী বা ঘাটতিকারক বিষয়সমূহ
আর ঈমান হ্রাসকারী বিষয়সমূহ: (আর তা হচ্ছে এমন) কথামালা, কার্যাবলী ও বিশ্বাসসমষ্টি— শরী‘আত প্রবর্তক সিদ্ধান্ত পেশ করেছেন যে, এগুলোর দ্বারা ঈমান কমে, কিন্তু একেবারে বিনষ্ট হয়ে যায় না।
আর ঈমান হ্রাসকারী বিষয়সমূহ যেমন: ছোট শির্ক এবং কবীরা ও সগীরা গুনাহসমূহ।
আর ছোট শির্ক ( الشرك الأصغر ): তা এমন পর্যায়ের শির্ক, কুরআন ও সুন্নাহ’র বক্তব্যের মধ্যে যা শির্ক নামে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তা বড় শির্ক ( الشرك الأكبر )-এর সীমানায় উন্নীত হয়নি। কারণ, তা বড় শির্কের মাধ্যম বা উপলক্ষের মত।
আর যেমনিভাবে বড় শির্ক ( الشرك الأكبر ) সকল আমলকে বিনষ্ট করে দেয়। ঠিক তেমনিভাবে ছোট শির্ক ( الشرك الأصغر ) সকল আমল নষ্ট করে না; বরং তার সাথে সংশ্লিষ্ট আমলটিকে নষ্ট করে দেয়।
আর ছোট শির্ক ( الشرك الأصغر ) ও বড় শির্ক ( الشرك الأكبر )-এর মাঝে কতগুলো বিষয় দ্বারা পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। যেমন,
তার ব্যাপারে শরী‘আতের সুস্পষ্ট বক্তব্য। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الأَصْغَرُ» .
“আমি তোমাদের ব্যাপারে যেসব বিষয়ে ভয় করি, তন্মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ছোট শির্ক।” [আহমাদ, হাদীস নং ২৩৬৩৬]
আর ওহীর বক্তব্যসমূহ থেকে সাহাবীগণের বুঝ ও উপলব্ধি। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ ، فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ» .
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করল, সে কুফুরী করল অথবা শির্ক করল।” [তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৩৫]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
«الطِّيَرَةُ شِرْكٌ» .
“কুলক্ষণ নেওয়া শির্ক।” [আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৯১২]
আর তার নির্দেশক হিসেবে যা এসেছে, তার আসাটা অনির্দিষ্টভাবে, নির্দিষ্টভাবে নয়। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إن الرُّقَى والتَّمَائِمَ والتِّوَلَةَ شِرْك»
“নিশ্চয় জাদু-মন্ত্র, তাবিজ-কবচ ও বশীকরণবিদ্যা শির্ক।” [আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৮৮৫]
আর ছোট শির্ক ( الشرك الأصغر ) কবীরা গুনাহ’র চেয়ে মারাত্মক ও ভয়াবহ, আর ঈমানের সাথে তার (নেতিবাচক) সম্পর্কের বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং অনেক বেশি।
আর ‘কবীরা’ গুনাহ ( الكبائر ) হলো: যা দুনিয়াতে লা‘নত (অভিশাপ) অথবা ‘হদ’ (শরী‘আত নির্ধারতি শাস্তি)-এর উপযুক্ত করে অথবা আখেরাতে শাস্তির অনুগামী করে, আর কবীরা গুনাহ’র মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: জীবন হত্যা, সুদ, ব্যভিচার, অপবাদ এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
আর ‘সগীরা’ গুনাহ ( الصغائر ) হলো: যা কবীরা গুনাহসমূহের মানে বা সীমানায় উন্নীত হয় নি, আর যে ব্যক্তি কবীরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকে, তার সগীরা গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
উদাহরণস্বরূপ ঈমান হ্রাসকারী কিছু বিষয় [যখন আকীদার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে না এমন অবস্থায় কেবল উক্ত বিধান হবে, নতুবা তা শির্কে আকবার হবে এবং ঈমান বিনষ্ট করবে। (সম্পাদক)]:
ইবাদতের ক্ষেত্রে সামান্য ‘রিয়া’ বা লৌকিকতা প্রদর্শন, প্রাণবিশিষ্ট সৃষ্টিজীবের ছবি অঙ্কন। আর বরকত অর্জনের জন্য কবরের মাঝে ও তার দিকে ফিরে সালাত আদায় করা, আর কবরকে মাসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা এবং তার ওপর ঘর বা প্রাসাদ নির্মাণ করা, আর আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করা। আল্লাহ তা‘আলার নিকট সৃষ্টির সাহায্যে সুপারিশ প্রার্থনা করা, আর যেসব নাম ও গুণাবলী আল্লাহ তা‘আলার জন্য খাস (নির্দিষ্ট), সেসব নামে নাম রাখা, আর তাঁর নামসমূহ ছাড়া অন্যের সাথে বান্দা বা দাসের সম্পর্কযুক্ত করে নাম রাখা বা ডাকা (যেমন, ‘আবদুশ শামছ’ তথা সূর্যের বান্দা বা দাস, কালীদাস ইত্যাদি); বিদ‘আত পন্থায় ঝাঁড়-ফুক করা, তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা, বিদ‘আতপন্থী জ্যোতিষীর নিকট আসা-যাওয়া করা, অশুভ লক্ষণ বলে বিবেচনা করা। আর জাহেলী দল এবং জাতিগত ও বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদের সমর্থন করা, আর সে ক্ষেত্রে বাতিল ধর্মের অনুসারীদের অনুসরণ ও অনুকরণ করা, যা তাদের ধর্মীয় বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়, আর এ বিষয়গুলোর কিছু বিষয় শির্কের মাধ্যম বা উপায়-উপকরণ। আর কিছু বিষয় হলো এর চেয়ে নিম্নমানের অপরাধ।
আর ঈমান হ্রাসকারী বিষয়সমূহ যেমন: ছোট শির্ক এবং কবীরা ও সগীরা গুনাহসমূহ।
আর ছোট শির্ক ( الشرك الأصغر ): তা এমন পর্যায়ের শির্ক, কুরআন ও সুন্নাহ’র বক্তব্যের মধ্যে যা শির্ক নামে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তা বড় শির্ক ( الشرك الأكبر )-এর সীমানায় উন্নীত হয়নি। কারণ, তা বড় শির্কের মাধ্যম বা উপলক্ষের মত।
আর যেমনিভাবে বড় শির্ক ( الشرك الأكبر ) সকল আমলকে বিনষ্ট করে দেয়। ঠিক তেমনিভাবে ছোট শির্ক ( الشرك الأصغر ) সকল আমল নষ্ট করে না; বরং তার সাথে সংশ্লিষ্ট আমলটিকে নষ্ট করে দেয়।
আর ছোট শির্ক ( الشرك الأصغر ) ও বড় শির্ক ( الشرك الأكبر )-এর মাঝে কতগুলো বিষয় দ্বারা পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। যেমন,
তার ব্যাপারে শরী‘আতের সুস্পষ্ট বক্তব্য। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الأَصْغَرُ» .
“আমি তোমাদের ব্যাপারে যেসব বিষয়ে ভয় করি, তন্মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ছোট শির্ক।” [আহমাদ, হাদীস নং ২৩৬৩৬]
আর ওহীর বক্তব্যসমূহ থেকে সাহাবীগণের বুঝ ও উপলব্ধি। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ ، فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ» .
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করল, সে কুফুরী করল অথবা শির্ক করল।” [তিরমিযী, হাদীস নং ১৫৩৫]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
«الطِّيَرَةُ شِرْكٌ» .
“কুলক্ষণ নেওয়া শির্ক।” [আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৯১২]
আর তার নির্দেশক হিসেবে যা এসেছে, তার আসাটা অনির্দিষ্টভাবে, নির্দিষ্টভাবে নয়। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إن الرُّقَى والتَّمَائِمَ والتِّوَلَةَ شِرْك»
“নিশ্চয় জাদু-মন্ত্র, তাবিজ-কবচ ও বশীকরণবিদ্যা শির্ক।” [আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৮৮৫]
আর ছোট শির্ক ( الشرك الأصغر ) কবীরা গুনাহ’র চেয়ে মারাত্মক ও ভয়াবহ, আর ঈমানের সাথে তার (নেতিবাচক) সম্পর্কের বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং অনেক বেশি।
আর ‘কবীরা’ গুনাহ ( الكبائر ) হলো: যা দুনিয়াতে লা‘নত (অভিশাপ) অথবা ‘হদ’ (শরী‘আত নির্ধারতি শাস্তি)-এর উপযুক্ত করে অথবা আখেরাতে শাস্তির অনুগামী করে, আর কবীরা গুনাহ’র মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: জীবন হত্যা, সুদ, ব্যভিচার, অপবাদ এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
আর ‘সগীরা’ গুনাহ ( الصغائر ) হলো: যা কবীরা গুনাহসমূহের মানে বা সীমানায় উন্নীত হয় নি, আর যে ব্যক্তি কবীরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকে, তার সগীরা গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
উদাহরণস্বরূপ ঈমান হ্রাসকারী কিছু বিষয় [যখন আকীদার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে না এমন অবস্থায় কেবল উক্ত বিধান হবে, নতুবা তা শির্কে আকবার হবে এবং ঈমান বিনষ্ট করবে। (সম্পাদক)]:
ইবাদতের ক্ষেত্রে সামান্য ‘রিয়া’ বা লৌকিকতা প্রদর্শন, প্রাণবিশিষ্ট সৃষ্টিজীবের ছবি অঙ্কন। আর বরকত অর্জনের জন্য কবরের মাঝে ও তার দিকে ফিরে সালাত আদায় করা, আর কবরকে মাসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা এবং তার ওপর ঘর বা প্রাসাদ নির্মাণ করা, আর আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করা। আল্লাহ তা‘আলার নিকট সৃষ্টির সাহায্যে সুপারিশ প্রার্থনা করা, আর যেসব নাম ও গুণাবলী আল্লাহ তা‘আলার জন্য খাস (নির্দিষ্ট), সেসব নামে নাম রাখা, আর তাঁর নামসমূহ ছাড়া অন্যের সাথে বান্দা বা দাসের সম্পর্কযুক্ত করে নাম রাখা বা ডাকা (যেমন, ‘আবদুশ শামছ’ তথা সূর্যের বান্দা বা দাস, কালীদাস ইত্যাদি); বিদ‘আত পন্থায় ঝাঁড়-ফুক করা, তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা, বিদ‘আতপন্থী জ্যোতিষীর নিকট আসা-যাওয়া করা, অশুভ লক্ষণ বলে বিবেচনা করা। আর জাহেলী দল এবং জাতিগত ও বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদের সমর্থন করা, আর সে ক্ষেত্রে বাতিল ধর্মের অনুসারীদের অনুসরণ ও অনুকরণ করা, যা তাদের ধর্মীয় বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়, আর এ বিষয়গুলোর কিছু বিষয় শির্কের মাধ্যম বা উপায়-উপকরণ। আর কিছু বিষয় হলো এর চেয়ে নিম্নমানের অপরাধ।