hadith book logo

ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ: রাসূলগণের ওপর ঈমান

ঈমানের রুকনসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি রুকন হলো, নবী ও রাসূলগণের ওপর ঈমান আনয়ন করা, আর এ আস্থা পোষণ করা যে, তারা হলেন আল্লাহর সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠাংশ, আর গোটা দীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নবীগণের নবুওয়াতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের ওপর ভিত্তি করে।

সমষ্টিগতভাবে তাদের প্রতি এবং আল-কুরআনে বিস্তারিতভাবে যাদের আলোচনা হয়েছে, তাদের প্রতি ঈমান আনয়ন করা বাধ্যতামূলক।

আর তাদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং বিশ্বাস না করাটা তাদের সকলকে অস্বীকার করার মতো অপরাধ।

আর নবুওয়াতের বিষয়টি রিসালাতের ওপর অগ্রগণ্য, আর নবুওয়াত ও রিসালাত উভয়টি অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত, অর্জিত নয়। সুতরাং প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন।

আর তারা হলেন সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, আর বিশ্বাস ও জীবন-পদ্ধতির দিক থেকে তারা সকলের চেয়ে বেশি সঠিক ও ন্যায়পরায়ণ এবং চারিত্রিক দিক থেকে সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানুষ, আর তারা হলেন সকলের চেয়ে বেশি সত্যভাষী। কোনো বিপদ-মুসীবত ও দুঃখ-কষ্ট তাদের পিঠ বাঁকা করতে পারেনি, আর কোনো ষড়যন্ত্রই তাদের দৃঢ় সিদ্ধান্তকে দুর্বল করতে পারে নি। তাদের আত্মা ছিল দুনিয়াবিমুখ, আর তাদের রব-এর ব্যাপারে তাদের ভয়ের আগুন সবসময় প্রজ্জ্বলিত ছিল, আর তাদের চোখের অশ্রু সবসময় প্রবাহমান ছিল। তারপর তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল সাহায্য ও শুভ পরিণাম।

তাদের কেউ কেউ দুনিয়ার কর্তৃত্ব লাভ করেছেন, তারপর তাদের কোনো নিয়ম-নীতির পরিবর্তন হয়নি এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রের ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটে নি। তাদের রবের প্রতি তাদের বিশ্বাস ছিল চমৎকার এবং তাঁর প্রতি তাদের আত্মসমর্পণ ছিল সুস্পষ্টভাবে।

আল্লাহ তা‘আলা তাদের হাতে অনেক উজ্জ্বল নিদর্শন প্রকাশ করেছেন, যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে উপস্থিত ও অনুপস্থিত ব্যক্তি।

আর তাদের জীবনকালের পরিসমাপ্তির দ্বারা তাদের মু‘জিযাগুলোর কার্যকারিতাও শেষ হয়ে গেছে, তবে কালজয়ী মু‘জিযা ও অহঙ্কারের প্রতীক আল-কুরআনুল কারীম ব্যতীত, তার ওপর অতিক্রান্ত হয়েছে যামানার চৌদ্দ শতাব্দী, অথচ তাঁর অনবদ্যতা ও চমৎকারিত্ব অভিনব নিত্যনতুন, আর যামানার যৌবন কেটে গেছে, অথচ তাঁর উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য বেড়েই চলছে, বছরকে বছর শেষ হয়ে গেল এবং দিনগুলো আর রাতগুলো একে একে কেটে গেল, অথচ কেউ তাঁর মতো করে একটি সূরাও নিয়ে আসতে পারেনি এবং কেউ কোনো দিন পারবেও না, যদিও জিন্ন জাতি ও মানুষ জাতি পরস্পর পরস্পকে এ ব্যাপারে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে থাকে।