hadith book logo

ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১

সপ্তম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর দিকে আহ্বান, সৎ কাজের নির্দেশ ও জিহাদ

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর দিকে আহ্বান, সৎকাজের আদেশ করা এবং জিহাদ করা নৈকট্য অর্জন করার অন্যতম মহান উপায় এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ, আর তা হলো নবীগণের মিশন এবং পছন্দনীয় লোকগণের পথ, আর এসব কারণেই তারা ব্যয় করেছেন জীবন ও মূল্যবান সম্পদ এবং মুক্তহস্তে দান করেছেন বেশি দামী ও কম দামী সকল কিছু।

আর তারা বিশ্বাস করেন যে, তাদের দাওয়াত দেওয়া, আদেশ করা, নিষেধ করা ও জিহাদ করার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো: জনগণকে ঈমান গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা, তাদেরকে এক আল্লাহর গোলাম বানানো এবং মানুষের গোলামি থেকে বের করে মানুষের রব-এর গোলামে পরিণত করা, আর বিশ্বকে বিশৃঙ্খলামুক্ত করা এবং রাষ্ট্র ও জনগণের নিকট শরী‘আতের দলীলসমূহ উপস্থাপন করা।

আর তারা তাদের দাওয়াতের ভিত্তি স্থাপন করেন কতগুলো শক্তিশালী মূলনীতির ওপর ও স্থায়ী ভিত্তির ওপর আর তারা দাওয়াতের ক্ষেত্রে সাধারণত নবীগণের হিদায়াতের অনুসরণ করেন, আর বিশেষ করে নবী মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সহাবীগণের নীতি অবলম্বন করেন।

তারা তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদ ও ইখলাসে (একনিষ্ঠতায়) বিশ্বাস করেন।

তারা পূর্ববর্তী সৎ ব্যক্তিবর্গ ও সুন্নাহ’র অনুসরণ করেন।

আর তারা ইলম (জ্ঞান) ও ফিকহ প্রচার করেন।

আর তারা নতুন প্রজন্মকে যথাযথ প্রতিপালনের মাধ্যমে বিকশিত করেন-

আকিদা-বিশ্বাস ও শরী‘আতের দিক থেকে ইসলামের ব্যাপারে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন করে।

জনগণের শ্রেণি ও অবস্থাদি সম্পর্কে সচেতন করে।

দাওয়াত দানের মূলনীতি ও উপায়-উপকরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞ করে।

তারা বুদ্ধি-বিবেচনা ও সঠিক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সৎকাজের আদেশ করেন এবং অসৎকাজে নিষেধ করেন।

আর এমন প্রত্যেকটি খারাপ ও অশ্লীলতার প্রতিবাদ করা ওয়াজিব, যা বর্তমানে বিদ্যমান, অনুসন্ধান ছাড়াই দৃশ্যমান এবং কোনো গবেষণা ছাড়াই সুবিদিত, আর কিসের দ্বারা তা মূলোৎপাটন করা যায় সে পরিকল্পনা করা আবশ্যক, যাতে তা বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে না পারে অথবা বড় ধরনের কল্যাণজনক কিছু নষ্ট করতে না পারে।

আর এ ক্ষেত্রে কল্যাণ ও ক্ষতির দিকগুলো নির্ণয় করা এবং বিরোধের সময় সে ব্যাপারে প্রাধান্য বা অগ্রাধিকার দানের দায়িত্বটি অভিজ্ঞ আলেমগণের ওপর ন্যস্ত করা, যারা বুদ্ধিমত্তা, সতর্কতা, দীনদারী ও তাকওয়ার দিক থেকে অধিক নির্ভরযোগ্য।

আর মন্দ দূর করা বা কমিয়ে আনা শরী‘আতের দাবি, তবে মন্দ দূর করার সাথে সমপরিমাণ ভালো দূর হয়ে যাওয়া অথবা সমপরিমাণ মন্দ অর্জিত হওয়ার অবস্থা তৈরী হলে সে মন্দ দুর করা যাবে কিনা এ বিষয়টি চিন্তাভাবনা ও গবেষণার ক্ষেত্র।

আর মন্দ দূর করা এবং সাথে তার চেয়ে আরও বড় ধরনের মন্দের আমদানি করা অথবা এর চেয়ে বড় ধরনের ভালো কিছু হারিয়ে ফেলা শরী‘আতের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।

আর তারা বিশ্বাস করেন যে, জিহাদ হচ্ছে ইসলামের শীর্ষ চূড়া এবং জীবন ও সম্পদ দিয়ে তা কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে।

আর জিহাদের আবশ্যকতা অস্বীকার করা মানে দীনের একটি সুনির্দিষ্ট জরুরি বিষয়কে অস্বীকার করা, আর তা ‘মানসূখ’ (রহিত) হয়ে গেছে বলে দাবি করা অথবা তাকে কথার জিহাদের সাথে নির্দিষ্ট করে দেওয়াটা দীনের মধ্যে বিদ‘আত ও গোমরাহী বলে গণ্য।

আর জিহাদ দু ধরনের, প্রতিরোধ করা এবং আহ্বান করা, আর শরী‘আতে জিহাদকে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে সীমালঙ্ঘনকারীদের বাড়াবাড়িকে প্রতিরোধ করার জন্য এবং (দীনের) দা‘ওয়াতপ্রাপ্তদের ওপর থেকে ফিতনা দূর করার জন্য, আর দীনের শত্রুদেরকে ভীতি প্রদর্শন করার জন্য এবং মুসলিমগণের রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী করার জন্য।

সুতরাং যদি তাতে যোগদান না করে পিছনে থেকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে যায়, তাহলে ব্যাপারটি মূল্যায়িত হবে সে ক্ষেত্রে অক্ষমতার পরিমাণ অনুযায়ী এবং সাথে তার থেকে গ্রহণ করা হবে জিহাদের জন্য প্রস্তুতির আনুসাঙ্গিক উপায়-উপকরণ।