hadith book logo

ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২

অষ্টম পরিচ্ছেদ: ঐক্য ও সংহতি কামনা করা এবং বিভেদ ও অনৈক্যকে প্রত্যাখ্যান করা

নিশ্চয় সুন্নাত ঐক্য ও সংহতির সাথে সম্পর্কযুক্ত, যেমনিভাবে বিদ‘আত বিভেদ ও অনৈক্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত হলেন তারা, যারা আল-কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন, সকলে মিলে বাণীতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং ভ্রাতৃত্বের প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্যসমূহ যথাযথভাবে অনুধাবন ও কার্যকর করেছেন।

সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত জাতীয়তাবাদী পতাকার জন্য অথবা আঞ্চলিকতার দাবি নিয়ে সংঘবদ্ধ বা দল গঠন করেনি।

এবং তারা গোটা মুসলিম জাতির স্বার্থের উপরে কোনো খণ্ডিত দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার বা প্রাধান্য দেন নি।

আর তারা বিশ্বাস করেন যে, জাতির কল্যাণ কামনায় উপদেশের অন্যতম আমানত হলো ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করা, ঐক্য ও সংহতি কামনা করা এবং বিভেদ ও অনৈক্যের ব্যাপারে নিষেধ করা।

আর বিরোধ সংঘটিত হওয়া একটি প্রাকৃতিক বাস্তবতা, আর তার কারণগুলো পরিহার করার মাধ্যমে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং দীনের স্বার্থে সতর্কতাস্বরূপ তার থেকে বেরিয়ে আসা শরী‘আতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

সুতরাং ঐকমত্য হতে হলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তার ওপর হতে হবে।

আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত যে ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন, সে ব্যাপারে তারা পরস্পরকে ওজর আছে বলে ধরে নিবে এবং একে অপরকে ক্ষমা করবে; এ ক্ষেত্রে ফিকহী ও আকীদাগত বিষয় সমান বলে বিবেচিত হবে।

আর যে ব্যক্তি জামা‘আত থেকে বেরিয়ে যাবে, সে ব্যক্তিকে দাওয়াত দিয়ে, উপদেশ দিয়ে, তার সাথে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বিতর্ক করার মধ্য দিয়ে, দলীল-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে এবং সন্দেহ-সংশয় দূর করে তাকে ফিরিয়ে আনা ওয়াজিব। তারপর সে যদি তাওবা করে ভালো কথা; অন্যথায় তার সাথে ব্যবহার করা হবে তার উপযুক্ত প্রাপ্যতার ভিত্তিতে।

আর ঐক্যবদ্ধ থাকার উপায়সমূহ থেকে কিছু:

দীনের মধ্যে ইলম (জ্ঞান) ও আমলের সমন্বয় করা।

আর আকীদা-বিশ্বাস ও শরী‘আতের দিক থেকে সার্বিকভাবে দীনের দিকে আহ্বান করা।

আর (দীনের) দাওয়াত গ্রহণকারী উম্মাত ও দাওয়াত পাওয়ার উপযুক্ত উম্মাত থেকে শুরু করে সকল মানুষকে দীনের দিকে আহ্বান করা।

আর দীনের ব্যাপারে ঝগড়া-বিবাদ করা থেকে এবং সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ ছাড়া ঝগড়া ও বিতর্ক করা থেকে সতর্ক করা।

আর ভাই ভাই হিসেবে মেলামেশা করার ক্ষেত্রে সততা ও ক্ষমার পরিচয় দেওয়া এবং গোয়েন্দাগিরি না করা, আর বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা এবং ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা।