hadith book logo

ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিদ‘আত ও তার অনুসারীদের ব্যাপারে অভিমত

দীনের মধ্যে প্রত্যকটি অভিনব জিনিসই বিদ‘আত, আর প্রত্যেকটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামের মধ্যে যাবে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত ‘ইবাদতকে তাওকীফী বা কুরআন-সুন্নাহর দলীল নির্ভর করা এবং বিদ‘য়াতের সকল উপায় বন্ধ করার তাকিদ দেয়, আরও জোর দেয় এমন প্রত্যেক বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য, যা সুন্নাহ পরিপন্থী।

কারণ, শরী‘আতের অধিভুক্ত বিষয়ের দলীলটি নির্দোষ সাহাবী ও অভিজ্ঞ হাদীস বিশারদগণের উপলব্ধি এবং ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ দ্বারা পবিত্র শরী‘আত-মাফিক হতে হবে।

আর এ উম্মাতের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সুতরাং যখন তাঁর কোনো সুন্নাত বিনা বিরোধে বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হবে, তখন কোনো মানুষের কথায় কারও জন্য তা প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়।

আর বিদ‘আতপন্থীরা হলো তারা, যারা শরী‘আতের অনুসরণ থেকে পিছিয়ে থাকে; তারা অজ্ঞতা, গোঁড়ামি, বাড়াবাড়ি ও প্রবৃত্তির অনুসারী; তারা অন্যায়ভাবে বিতর্ক করে এবং সত্য সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরেও তার ব্যাপারে তারা ঝগড়া-বিবাদ করে।

তারা পূর্ববর্তী সৎব্যক্তিগণের রীতিনীতির দুর্নাম করার ব্যাপারে সংঘবদ্ধ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের সাথে শত্রুতা করার ব্যাপারেও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান।

তারা কিতাবের ব্যাপারে মতবিরোধকারী, কিতাব অমান্যকারী এবং কিতাবের বিরোধিতার ব্যাপরে তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ।

তারা মনে করে যে, ঈমানের বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ’র বক্তব্যসমূহ যথেষ্ট নয়। আর তারা কাশ্ফ (আধ্যাত্মিকভাবে গোপন জগতের উন্মুক্তিতা), ‘যাওক’ (রুচি ও বিচক্ষণতা) এবং স্বপ্নসমষ্টি দ্বারা দলীল পেশ করে।

আর তারা বানোয়াট বর্ণনাসমূহের ওপর নির্ভর করে।

আর তারা বিশুদ্ধ ‘আহাদ’ (মাশহুর, আযীয ও গরীব) হাদীস দ্বারা দলীল দেওয়ার বিষয়টিকে বর্জন করে।

তারা দুর্বল যুক্তিকে সহীহ বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দেয় এবং বিভিন্ন বক্তব্যকে তার যথাস্থান থেকে পরিবর্তন ও বিকৃত করে।

আর তারা অমুসলিমদের ধর্ম থেকে নিয়মনীতি গ্রহণ করে এবং অবিশ্বাসীদের কারিকুলাম ও সংস্কৃতি দ্বারা তারা প্রভাবিত হয়।

আর সুন্নাহ বহির্ভূত ফিরকা বা দলগুলো- যেমন, শিয়া, মু‘তাযিলা, মুরজিয়া এবং এদের মত আরও অন্যান্য সম্প্রদায় এক কথায় শাস্তির হুমকিতে নিপতিত। কারণ, তাদের বিধান হলো শাস্তির হুমকির শিকার ব্যক্তিবর্গের বিধান, তারা তাদের শাস্তির মুখোমুখি হবে; আবার তাদের কাউকে কাউকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন তাদের অজ্ঞতার কারণে অথবা তাদের ভালো কাজের বদলে অথবা পাপ মোচনকারী তাওবার বিনিময়ে অথবা গোনহ মোচনকারী বিপদ-মুসিবতের কারণে অথবা গ্রহণযোগ্য ‘মাকবুল শাফা‘আত’-এর কারণে...... ইত্যাদি ইত্যাদি।

আর ইসলাম বহির্ভূত দলগুলো- যেমন, বাতেনী, রাফেযী, কাদিয়ানী ও বাহাই সম্প্রদায় এক কথায় কাফির এবং তাদের হুকুম হলো মুরতাদ তথা ইসালাম ত্যাগকারীদের হুকুমের মতো।