hadith book logo

ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

একাদশ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের মূলনীতি

আল্লাহর সকল নামই অতি সুন্দর, চাই সে নামটি এক শব্দে হউক অথবা সংযুক্ত শব্দে হউক অথবা হউক পাশাপাশি কয়েক শব্দের সংমিশ্রণে।

আর আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহের প্রতি ঈমান স্থাপন করার বিষয়টি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: নামের প্রতি ঈমান, নামের নির্দেশিত অর্থের প্রতি ঈমান এবং নামের চাহিদা ও দাবিকৃত প্রভাবের প্রতি ঈমান। যেমন, সে বিশ্বাস করবে যে, তিনি عليمٌ (মহাজ্ঞানী), ذو علمٍ محيطٍ (অসীম জ্ঞানের অধিকারী) এবং أنه يُدبّرُ الأمر وفقَ علمه (তিনি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন)।

আমাদের রব আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ তাওকীফী বা কুরআন-হাদীস নির্ভর। যা পর্যাপ্ত পরিমাণ দলীল-প্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত।

আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ দ্বারা নাম সাব্যস্ত করে ও গুণ সাব্যস্ত করে। তবে যখন নাম বুঝায় তখন তা একই সত্তার নাম হিসেবে সমার্থে কিন্তু যখন তা দ্বারা গুণ বুঝায় তখন তাঁর নামসমূহে নিহিত গুণসমূহ ভিন্ন ভিন্ন অর্থবোধক।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ তাঁর গুণাবলীর প্রতিও নির্দেশ করে। কারণ, নামগুলো তাঁর কিছু গুণাবালী থেকে নির্গত।

আর তাঁর নামের সংখ্যা ৯৯ (নিরানব্বই)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং তা গণনাকারীগণের গণনায় সীমাবদ্ধ করা যাবে না।

আর আল্লাহ তা‘আলার প্রত্যেকটি নামই শ্রেষ্ঠ-মর্যাদাপূর্ণ; কিন্তু সত্যিকার অর্থে সেগুলো শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতর।

আর যখন তাঁর কোনো নাম গঠন কাঠামোতে ভিন্ন হয় এবং অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি হয়, তখন তা আল্লাহর নামসমূহ থেকে বের হয়ে যায় না।

আর এ (নামগুলোর) ক্ষেত্রে অবিশ্বাস বা বিকৃতিকরণ বলে গণ্য হবে-

তা সাব্যস্ত ও প্রমাণিত হওয়ার পর অস্বীকার করা

অথবা তা যা নির্দেশ করে, তা অস্বীকার করার দ্বারা।

অনুরূপভাবে তা গঠন ও তৈরি করার ক্ষেত্রে নতুন মত প্রবর্তন করা দ্বারা

অথবা সে নামগুলোকে সৃষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর নাম ও গুণাবলীর সাথে উপমা দেওয়ার দ্বারা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَذَرُواْ ٱلَّذِينَ يُلۡحِدُونَ فِيٓ أَسۡمَٰٓئِهِۦۚ سَيُجۡزَوۡنَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٨٠﴾ [ الاعراف : ١٨٠ ]

“আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, তাদেরকে বর্জন কর। তাদের কৃতকর্মের ফল অচিরেই তাদেরকে দেওয়া হবে।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৮০]