১
ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা
লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
নবম পরিচ্ছেদ: রবের গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রতি ঈমান
রবের গুণের সাথে আল্লাহ তা‘আলাকে এককভাবে নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করেছে আল-কুরআন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٢﴾ [ الفاتحة : ٢ ]
“সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।” [সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ২]
আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যতের প্রতি ঈমান আনয়ন করা মানে রবের কার্যাবলীতে ও রুবুবিয়্যতের চাহিদা অনুসারে তাঁর সৃষ্টি, তাকদীর (নিয়তি নির্ধারণ), রাজত্ব এবং ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার বিষয়টি এককভাবে তার জন্য নির্ধারণ করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖ وَهُوَ ٱلۡوَٰحِدُ ٱلۡقَهَّٰرُ ١٦﴾ [ الرعد : ١٦ ]
“আল্লাহ সকল বস্তুর স্রষ্টা, আর তিনি এক, মহা প্রতাপশালী।” [সূরা আর-রা‘দ, আয়াত: ১৬]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿وَقُلِ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي لَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدٗا وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٞ فِي ٱلۡمُلۡكِ وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ وَلِيّٞ مِّنَ ٱلذُّلِّۖ وَكَبِّرۡهُ تَكۡبِيرَۢا ١١١﴾ [ الاسراء : ١١١ ]
“বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি, তাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো অংশীদার নেই এবং যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না, যে কারণে তাঁর কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং সসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১১১]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۚ ﴾ [ يونس : ٣١ ]
“...তিনি সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন।” [সূরা ইউনূস, আয়াত: ৩১]
আর আল্লাহ তা‘আলার রবুবিয়াতে শির্ক করার বিষয়টি বর্ণনাভিত্তিক ও যুক্তিনির্ভর দলীল দ্বারা বাতিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿قُلۡ أَغَيۡرَ ٱللَّهِ أَبۡغِي رَبّٗا وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيۡءٖۚ ﴾ [ الانعام : ١٦٤ ]
“বলুন, ‘আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে রব খুঁজব? অথচ তিনিই সবকিছুর রব’।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৬৪]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿مَا ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ مِن وَلَدٖ وَمَا كَانَ مَعَهُۥ مِنۡ إِلَٰهٍۚ إِذٗا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَٰهِۢ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖۚ سُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ ٩١﴾ [ المؤمنون : ٩١ ]
“আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহও নেই। যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অন্যের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যে গুণে তাকে গুণান্বিত করে, তা থেকে আল্লাহ কত পবিত্র, মহান!” [সূরা আর-মুমিনূন, আয়াত: ৯১]
আর যে ব্যক্তি রুবুবিয়্যাতে তার ঈমানকে খাঁটি ও নির্ভেজাল করতে পারবে, তা তাকে অবশ্যই আল্লাহর ‘উলুহিয়্যাত’ তথা একমাত্র তাঁরই ইবাদতের প্রতি ঈমান গ্রহণের দিকে যেতে বাধ্য করবে। ফলে সে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই আনুগত্য ও ইবাদত করবে।
কারণ, শুধু রুবুবিয়্যাতের তথা প্রভুত্বের স্বীকৃতি প্রদান করাটাই শির্ক থেকে মুক্ত থাকা এবং ঈমানের ভিতর প্রবেশ করার জন্য যথেষ্ট নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗ لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرّٗا وَلَا نَفۡعٗا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتٗا وَلَا حَيَوٰةٗ وَلَا نُشُورٗا ٣﴾ [ الفرقان : ٣ ]
“আর তারা তাঁর পরিবর্তে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে অন্যদেরকে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না; বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের অপকার কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। আর মৃত্যু, জীবন ও উত্থানের ওপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৩]
আর যে ব্যক্তি এ ঈমানকে নিশ্চিত করবে এবং আল্লাহকে এককভাবে তাঁর রুবুবিয়্যত তথা প্রভুত্বের ব্যাপারে মেনে নিবে, তা তার জন্য ইবাদতের পথটি মসৃণ করবে, তার বিবেক আলোকিত হবে, হৃদয়-মন প্রশান্ত হবে এবং তাকদীর ও ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। ফলে তার বক্ষ সম্প্রসারিত হবে এবং সে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে যথাযথভাবে।
﴿ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٢﴾ [ الفاتحة : ٢ ]
“সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।” [সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ২]
আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যতের প্রতি ঈমান আনয়ন করা মানে রবের কার্যাবলীতে ও রুবুবিয়্যতের চাহিদা অনুসারে তাঁর সৃষ্টি, তাকদীর (নিয়তি নির্ধারণ), রাজত্ব এবং ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার বিষয়টি এককভাবে তার জন্য নির্ধারণ করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖ وَهُوَ ٱلۡوَٰحِدُ ٱلۡقَهَّٰرُ ١٦﴾ [ الرعد : ١٦ ]
“আল্লাহ সকল বস্তুর স্রষ্টা, আর তিনি এক, মহা প্রতাপশালী।” [সূরা আর-রা‘দ, আয়াত: ১৬]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿وَقُلِ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي لَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدٗا وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٞ فِي ٱلۡمُلۡكِ وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ وَلِيّٞ مِّنَ ٱلذُّلِّۖ وَكَبِّرۡهُ تَكۡبِيرَۢا ١١١﴾ [ الاسراء : ١١١ ]
“বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি, তাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো অংশীদার নেই এবং যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না, যে কারণে তাঁর কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং সসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১১১]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۚ ﴾ [ يونس : ٣١ ]
“...তিনি সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন।” [সূরা ইউনূস, আয়াত: ৩১]
আর আল্লাহ তা‘আলার রবুবিয়াতে শির্ক করার বিষয়টি বর্ণনাভিত্তিক ও যুক্তিনির্ভর দলীল দ্বারা বাতিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿قُلۡ أَغَيۡرَ ٱللَّهِ أَبۡغِي رَبّٗا وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيۡءٖۚ ﴾ [ الانعام : ١٦٤ ]
“বলুন, ‘আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে রব খুঁজব? অথচ তিনিই সবকিছুর রব’।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৬৪]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿مَا ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ مِن وَلَدٖ وَمَا كَانَ مَعَهُۥ مِنۡ إِلَٰهٍۚ إِذٗا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَٰهِۢ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖۚ سُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ ٩١﴾ [ المؤمنون : ٩١ ]
“আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহও নেই। যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অন্যের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যে গুণে তাকে গুণান্বিত করে, তা থেকে আল্লাহ কত পবিত্র, মহান!” [সূরা আর-মুমিনূন, আয়াত: ৯১]
আর যে ব্যক্তি রুবুবিয়্যাতে তার ঈমানকে খাঁটি ও নির্ভেজাল করতে পারবে, তা তাকে অবশ্যই আল্লাহর ‘উলুহিয়্যাত’ তথা একমাত্র তাঁরই ইবাদতের প্রতি ঈমান গ্রহণের দিকে যেতে বাধ্য করবে। ফলে সে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই আনুগত্য ও ইবাদত করবে।
কারণ, শুধু রুবুবিয়্যাতের তথা প্রভুত্বের স্বীকৃতি প্রদান করাটাই শির্ক থেকে মুক্ত থাকা এবং ঈমানের ভিতর প্রবেশ করার জন্য যথেষ্ট নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗ لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرّٗا وَلَا نَفۡعٗا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتٗا وَلَا حَيَوٰةٗ وَلَا نُشُورٗا ٣﴾ [ الفرقان : ٣ ]
“আর তারা তাঁর পরিবর্তে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে অন্যদেরকে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না; বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের অপকার কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। আর মৃত্যু, জীবন ও উত্থানের ওপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৩]
আর যে ব্যক্তি এ ঈমানকে নিশ্চিত করবে এবং আল্লাহকে এককভাবে তাঁর রুবুবিয়্যত তথা প্রভুত্বের ব্যাপারে মেনে নিবে, তা তার জন্য ইবাদতের পথটি মসৃণ করবে, তার বিবেক আলোকিত হবে, হৃদয়-মন প্রশান্ত হবে এবং তাকদীর ও ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। ফলে তার বক্ষ সম্প্রসারিত হবে এবং সে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে যথাযথভাবে।