hadith book logo

ঈমানের মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত মণিমুক্তা

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ ইয়োসরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

বিংশ পরিচ্ছেদ: রাসূলগণের অধিকার প্রশ্নে যা আবশ্যক, বৈধ ও নিষিদ্ধ

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীগণকে তাঁর নিজ হিফাযতে হিফাযত করেছেন এবং তাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে তাদেরকে নিষ্পাপ রখেছেন। সুতরাং তাদের পক্ষে কবীরা গুনাহ ও হীন কাজ করাটা একেবারেই নিষিদ্ধ ও অসম্ভব, আর সগীরা গুনাহ- যদি তা হয়েও থাকে, তবে তা বিরল ও ক্ষমাপ্রাপ্ত।

আর সাধারণভাবে তাদের সকলের পক্ষে অসম্ভব হলো মিথ্যা বলা, খিয়ানত করা এবং নবুওয়াত ও রিসালাতের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে ভুল করা এবং ভুলে যাওয়া।

আর তাদের পক্ষে জীবন ও মরণ, সুস্থ ও অসুস্থ হওয়া, ধনী ও দরিদ্র হওয়া, খাওয়া ও পান করা, যৌন সঙ্গম ও নিদ্রাযাপন এবং বংশ বিস্তার করা বৈধ, আরও বৈধ সকল জাগতিক ভাগ্য এবং মানবিক সামগ্রীর সমাবেশ, আর এমন কিছুও তাদের পক্ষে হওয়া বৈধ, যা তাদের মহান মর্যাদাকে খাটো করে না।

আর তাদের মধ্যে প্রথম নবী হলেন আদম আলাইহিস সালাম এবং প্রথম রাসূল হলেন নূহ আলাইহিস সালাম। আর তাদের মধ্যে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আর তাদের মাঝে একটি বিশেষ দল আছেন, যারা বিশেষ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গুণ দ্বারা বিশেষিত, তাদের নামসমূহ একত্রিতভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে আল-কুরআনের ‘আহযাব’ ও ‘শূরা’ নামক দু’টি সূরার মধ্যে।

আর সাধারণভাবে সর্বসম্মতিক্রমে তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন শেষ রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আর (রাসূলগণের মধ্যে থেকে) এমন প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্ব দানের চেষ্টা করাই নিষিদ্ধ, যা স্বজনপ্রীতি, জাতীয়তাবাদ ও গোঁড়ামীকে উস্কে দেয় অথবা আল্লাহর রাসূলগণের দুর্নাম করা হয়।

আর তারা পরস্পর বৈমাত্রেয় ভাই, তাদের দীন এক কিন্তু শরী‘আত বিভিন্ন রকম।

আর নবীগণ মানবগোষ্ঠী থেকে বিশেষভাবে ব্যতিক্রম হলেন ওহী ও পাপমুক্ত হওয়ার কারণে এবং তাদের অন্তর ঘুমায় না, আর মৃত্যুর সময় তাদেরকে বিশেষ স্বাধীনতা দেওয়া হয় এবং তাদেরকে দাফন করা হয় যেখানে তারা মারা যান, আর তারা ‘বরযাখ’-এর জীবনে তাদের কবরের মধ্যে সালাত আদায়ে ব্যস্ত থাকেন, আর মাটি তাদের শরীর মুবারক খায় না এবং তারা সম্মানিত।

আর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে প্রেরণ করার মাধ্যমে দলীল প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তাদের জীবন-চরিত ও চরিত্র দ্বারা পথের গন্তব্যস্থলকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আর তাদের দ্বারা তাওহীদ বা একত্ববাদের মিনারকে সুউচ্চ করেছেন এবং তাদের রিসালাতের মাধ্যমে বান্দাদের সার্বিক অবস্থাকে সংস্কার ও পরিশুদ্ধ করেছেন।

আর প্রত্যেক নবীই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুসংবাদ প্রচার করেছেন এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন।

আর তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য হলো- তিনি তাদের বাড়াবাড়ি ক্ষমা করে দিবেন এবং তাদের জন্য প্রতিটি চুক্তি ও অঙ্গীকারনামা শিথিল করে দিবেন।