১
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্বাচিত ফাতাওয়া
লেখকঃ মিরফাত বিনতে কামিল আবদিল্লাহ উসরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
দেশের বাইরে প্রেরিত ছাত্রের কসর ও দুই সালাত একত্রে আদায় করা
প্রশ্ন: আমার জন্য বৃটেনে পড়ালেখাকালীন সময়ে কসর [কসর ( قصر ) শব্দের অর্থ হল কম করা বা সংক্ষেপ করা; আর সালাতের ক্ষেত্রে কসর হল চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয সালাতসমূহ থেকে দুই রাকাত আদায় করা।-অনুবাদক।] ও দুই সালাত একত্রে আদায় করা বৈধ হবে কিনা এবং এই অবস্থায় রমযান মাসে কসর ও দুই সালাত একত্রে আদায় করা বৈধ হবে কিনা?
উত্তর: মুসাফির তথা পর্যটকের জন্য দুই সালাত একত্রে আদায় করা বৈধ হবে, যখন সে রাস্তায় পথ চলতে থাকবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য প্রত্যেক সময়ে অবতরণ করাটা তার ওপর কষ্টকর হবে। সুতরাং সে দুই সালাতের যে কোনো একটি সময়ে অবতরণ করবে এবং একই সময়ে দুই সালাত আদায় করবে; হয় প্রথমটির ওয়াক্তে অথবা দ্বিতীয়টির সময়ে, আর যদি সে মুকীম (অবস্থানকারী) হিসেবে অবতরণ করে, তবে সে দুই সালাত একত্রে আদায় করবে না, বরং প্রত্যেক সালাত তার সময়মত আদায় করবে; হয় পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে, নতুবা কসর করবে, যদি তা তার জন্য বৈধ হয়, আর কসর তো শুধু ঐ মুসাফিরের জন্য বৈধ, যে সফরের প্রস্তুতির অবস্থায় বহাল থাকবে, যদিও সে প্রয়োজনের কারণে মরুভূমিতে অবতরণ করে এবং যদিও সে শহরের এক প্রান্তে কোনো তাঁবুতে অবতরণ করে তার কোনো দ্রুত প্রয়োজন পূরণের জন্য অপেক্ষা করে, অতঃপর আবার ভ্রমণ করে।
কিন্তু যদি সে শহরের মাঝে অবতরণ করে, সফরকে সংক্ষেপ করে এবং দীর্ঘ সময়কাল পর্যন্ত অবস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যদিও সে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নয়, কিন্তু সে একটি কক্ষে বা প্রশস্ত বাড়িতে বসবাস করে এবং তার নিকট প্রয়োজনীয় সকল বিষয় পরিপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণভাবে বিদ্যমান আছে, তবে তার জন্য কসর করার অধিকার নেই, আর এই অবস্থায় সে রমযান মাসের সাওম (রোযা) ভঙ্গ করবে না, যেহেতু তার ওপর সফর অবস্থার কথাটি প্রযোজ্য নয় এবং তার মাঝে ও শহরবাসীর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, আর সালাত পূর্ণ করলে এবং সাওম (রোযা) ভঙ্গ না করলে তার কোনো কষ্ট বা সমস্যা নেই।
শাইখ ইবন জিবরীন
ফাতাওয়া ইসলামীয়া ( فتاوى إسلامية ): ১/৪০৭
উত্তর: মুসাফির তথা পর্যটকের জন্য দুই সালাত একত্রে আদায় করা বৈধ হবে, যখন সে রাস্তায় পথ চলতে থাকবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য প্রত্যেক সময়ে অবতরণ করাটা তার ওপর কষ্টকর হবে। সুতরাং সে দুই সালাতের যে কোনো একটি সময়ে অবতরণ করবে এবং একই সময়ে দুই সালাত আদায় করবে; হয় প্রথমটির ওয়াক্তে অথবা দ্বিতীয়টির সময়ে, আর যদি সে মুকীম (অবস্থানকারী) হিসেবে অবতরণ করে, তবে সে দুই সালাত একত্রে আদায় করবে না, বরং প্রত্যেক সালাত তার সময়মত আদায় করবে; হয় পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে, নতুবা কসর করবে, যদি তা তার জন্য বৈধ হয়, আর কসর তো শুধু ঐ মুসাফিরের জন্য বৈধ, যে সফরের প্রস্তুতির অবস্থায় বহাল থাকবে, যদিও সে প্রয়োজনের কারণে মরুভূমিতে অবতরণ করে এবং যদিও সে শহরের এক প্রান্তে কোনো তাঁবুতে অবতরণ করে তার কোনো দ্রুত প্রয়োজন পূরণের জন্য অপেক্ষা করে, অতঃপর আবার ভ্রমণ করে।
কিন্তু যদি সে শহরের মাঝে অবতরণ করে, সফরকে সংক্ষেপ করে এবং দীর্ঘ সময়কাল পর্যন্ত অবস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যদিও সে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নয়, কিন্তু সে একটি কক্ষে বা প্রশস্ত বাড়িতে বসবাস করে এবং তার নিকট প্রয়োজনীয় সকল বিষয় পরিপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণভাবে বিদ্যমান আছে, তবে তার জন্য কসর করার অধিকার নেই, আর এই অবস্থায় সে রমযান মাসের সাওম (রোযা) ভঙ্গ করবে না, যেহেতু তার ওপর সফর অবস্থার কথাটি প্রযোজ্য নয় এবং তার মাঝে ও শহরবাসীর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, আর সালাত পূর্ণ করলে এবং সাওম (রোযা) ভঙ্গ না করলে তার কোনো কষ্ট বা সমস্যা নেই।
শাইখ ইবন জিবরীন
ফাতাওয়া ইসলামীয়া ( فتاوى إسلامية ): ১/৪০৭