hadith book logo

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্বাচিত ফাতাওয়া

লেখকঃ মিরফাত বিনতে কামিল আবদিল্লাহ উসরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

দেশের বাইরে প্রেরিত ছাত্র কর্তৃক সালাতসমূহ একত্র করে আদায় করা

প্রশ্ন: কোনো কোনো সময় আমি আসরের সালাতকে মাগরিবের সালাতের সাথে আদায় করি এবং অধিকাংশ সময়ে এই রকম হয়, আর এর কারণ হলো আমি পররাষ্ট্র মিশনে বৃটেনে অধ্যয়ন করি এবং আমি এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করি, যাতে অযু করার মতো জায়গা নেই, আর সালাত আদায় করার জায়গাও নেই। সুতরাং আমার জন্য আসরের সালাতকে মাগরিবের সালাতের সাথে আদায় করা জায়েয (বৈধ) হবে কি? অথবা আমার জন্য আসরের সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে প্রায় দেড়ঘণ্টা বিলম্ব করে আদায় করা জায়েয (বৈধ) হবে কি?

উত্তর: অবিরাম বৃষ্টি, লাগাতার ভ্রমণ, প্রচণ্ড অসুস্থতা ইত্যাদির মত ওযরের কারণে দুই সালাত একত্রিত করে আদায় করা বৈধ, আর বিনা ওযরে দুই সালাত একত্রিত করে আদায় করা বৈধ নয়; তাছাড়া (ওযরের কারণে) শুধু যোহর ও আসরের সালাতকে তাদের উভয় ওয়াক্তের যে কোনো একটি ওয়াক্তের মধ্যে এগিয়ে বা পিছিয়ে এক সাথে আদায় করবে, আর অনুরূপভাবে মাগরিব ও এশার সালাতকে তাদের উভয় ওয়াক্তের যে কোনো একটি ওয়াক্তের মধ্যে এক সাথে আদায় করবে। আর কোনো প্রকার ওযর ছাড়া সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করে আদায় করা বৈধ নয়। সুতরাং আসরের সালাতকে দ্রুততার সাথে আদায় করাটাই বাঞ্চনীয়। কারণ, হাদীসের মধ্যে বর্ণিত আছে: নিশ্চয়ই যে ব্যক্তির আসরের সালাত ছুটে গেল, সে যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ হারাল। আর প্রশ্নকারী যখন উল্লেখ করেছে তার কর্মক্ষেত্রে অযু ও সালাত আদায় করার মত কোনো জায়গা পাওয়া যায় না, তখন তার ওপর আবশ্যক হলো যখনই সে অবসর হবে এবং ওযর বা সীমাবদ্ধতা দূর হয়ে যাবে, তখনই সালাত আদায় করে নেয়া এবং তার কর্তব্য হলো দ্রুততার সাথে আসরের সালাতকে সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বেই আদায় করে নেয়া, আর এর পূর্বে যখনই সম্ভব হবে, তখনই তা দ্রুত আদায় করে নেয়া। আর আল্লাহই হলেন তাওফীক দাতা।

শাইখ ইবন জিবরীন

ফতাওয়ায়ে ইসলামীয়া ( فتاوى إسلامية ): ১/৪০৬