hadith book logo

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্বাচিত ফাতাওয়া

লেখকঃ মিরফাত বিনতে কামিল আবদিল্লাহ উসরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

ছাত্রদের জন্য মাসিক বৃত্তি ভোগ করা অবস্থায় ঈদুল ফিতরের সাদকা

প্রশ্ন: আমরা একদল প্রবাসী ছাত্র, সুতরাং আমাদের ওপর কি যাকাত প্রদান করা ওয়াজিব (আবশ্যক), অথচ আমরা অন্যান্য ছাত্রদের মত মাসিক বৃত্তি ভোগ করি, বিষয়টি যখন এই রকম, তখন আমাদের ওপর কি পরিমাণ যাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে? আর এর মাধ্যমে আমাদের জন্য এখানকার মিসকীনদেরকে সাদকা করা জায়েয হবে কিনা অথবা তা মাসজিদ নির্মাণের কাজে দান করা যাবে কিনা এবং কখন আমরা তা ব্যয় করব, আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করুন?

উত্তর: যাকাত বলতে যদি সাদকাতুল ফিতর তথা ঈদুল ফিতরের সাদকাকে বুঝায়, তাহলে তা অন্যান্য মুসলিমদের মতো তোমাদের ওপরও ওয়াজিব (আবশ্যক) হবে, আর তা হলো সংশ্লিষ্ট দেশে প্রচলিত খাদ্যশস্য যেমন- গম, ভুট্টা, চাউল ইত্যাদি থেকে এক সা পরিমাণ; আধুনিক মাপে তার পরিমাণ হলো প্রায় তিন কিলোগ্রাম, যা ঈদের দিন সকাল বেলায় ঈদুল ফিতরের সালাতের পূর্বে অথবা ঈদের রাত্রির এক দিন বা দুই দিন পূর্বে গরীব-মিসকীনদেরকে প্রদান করবে; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ করতেন, আর ঈদের সালাতের পর পর্যন্ত বিলম্বিত করা বৈধ হবে না। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনগণ ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই তা দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইমাম বুখারী রহ. তার সহীহ গ্রন্থে এই বর্ণনাটির উল্লেখ করেছেন।

আর তোমাদের মাসিক বৃত্তির মধ্যে তোমাদের ওপর যাকাত আবশ্যক হবে না, তবে যখন তোমরা তার থেকে কিছু সঞ্চয় করবে এবং তার ওপর এক বছর অতিবাহিত হবে, তখন তোমাদের ওপর তার যাকাত ওয়াজিব হবে, যদি তা নিসাব পরিমাণে উন্নীত হয়। আর নিসাব হলো একশত চল্লিশ মিসকাল রৌপ্য অথবা বিশ মিসকাল স্বর্ণ অথবা তার সমমূল্য পরিমাণের অপর যে কোনো মুদ্রা।

আর তোমাদের আশপাশে বিদ্যমান নিঃস্ব মুসলিমদেরকে তা দান করাটাই সর্বোত্তম, আর অধিকাংশ আলেমের মতে মাসজিদ নির্মাণের জন্য তা দান করা বৈধ নয়।

আর স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ডলার, ইউরো, টাকা ইত্যাদির মত তার স্থলাভিষিক্ত মুদ্রাসমূহ থেকে যাকাতের উপযুক্ত সম্পদের চল্লিশ ভাগের একভাগ তথা শতকরা ২.৫% যাকাত হিসেবে প্রদান করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। আর আল্লাহই হলেন তাওফীক দানকারী।

শাইখ ইবন বায

ফাতওয়া সংকলন ( مجموع فتاوى ): ৩/১১১