hadith book logo

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্বাচিত ফাতাওয়া

লেখকঃ মিরফাত বিনতে কামিল আবদিল্লাহ উসরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬

ছাত্রীগণ কর্তৃক শিক্ষিকাদের সাথে উপহাস করা

প্রশ্ন: ছাত্রীদের কেউ কেউ শিক্ষিকাদের সাথে উপহাস করে এবং তাদেরকে মন্দ বা হাস্যকর উপাধি দ্বারা ডাকাডাকি করে, আর তারা বলে যে, আক্ষরিক অর্থে তাদেরকে এই নামে ডাকা হয় না, বরং এমনটি করা হয় শুধু রসিকতার ছলে?

উত্তর: মুসলিম ব্যক্তির জন্য অবশ্যই করণীয় কাজ হলো তার জিহ্বাকে এমন কথা বলা থেকে হিফাযত করা, যা অপর মুসলিমদেরকে কষ্ট দেয় অথবা তাদের সম্মানহানি করে। কারণ, হাদীসের মধ্যে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

« لا تؤذوا المسلمين ولا تعيروهم ولا تتبعوا عوراتهم» .

“তোমরা মুসলিমদেরকে কষ্ট দিয়ো না, তাদেরকে দোষারোপ করো না এবং তাদের গোপন বিষয়ের অনুসরণ করো না।” [আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসায়ী ও ইবন মাজাহ] আর আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَيۡلٞ لِّكُلِّ هُمَزَةٖ لُّمَزَةٍ ١ ﴾ [ الهمزة : ١ ]

“দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পিছনে ও সামনে লোকের নিন্দা করে।” [সূরা আল-হুমাযাহ, আয়াত: ১]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿ هَمَّازٖ مَّشَّآءِۢ بِنَمِيمٖ ١١ ﴾ [ القلم : ١١ ]

“পিছনে নিন্দাকারী, যে একের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়।” [সূরা আল-কলম: ১১]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿ وَلَا تَنَابَزُواْ بِٱلۡأَلۡقَٰبِۖ ﴾ [ الحجرات : ١١ ]

“আর তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না ...।” [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১১] সুতরাং মুসলিম ব্যক্তির মানহানি করা এবং তাকে কষ্ট দেওয়া হারাম; যদি সে রসিকতার ছলে এই ধরনের কথা বলে, তবে সে এটাকে ওযর হিসেবে পেশ করতে পারবে না ঐ ব্যক্তিদের মত, যারা বলে:

﴿... إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلۡعَبُۚ ...﴾ [ التوبة : ٦٥ ]

“আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও খেল-তামাশা করছিলাম।” [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৬৫]

শাইখ ইবন জিবরীন

ফায়দা ও ফাতাওয়া ( فوائد و فتاوى ): পৃ. ১০৮