hadith book logo

ইসলামের উপর ৪০টি অভিযোগ এবং তার প্রমাণ ভিত্তিক জবাব

লেখকঃ ডা. জাকির নায়েক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

প্রশ্ন-১৭. অ-মুসলিমদের মক্কা ও মদিনায় প্রবেশাধিকার নেই কেন?

উত্তর : একথা সত্য যে, আইন মুতাবেক অমুসলিমদের মক্কা-মদিনায় প্রবেশাধিকার নেই। এর অনেক কারণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আমি ভারতের একজন নাগরিক। এ সত্ত্বেও ভারতের বহু স্থানে যাওয়ার অনুমতি নেই। যেমন : ক্যান্টনমেন্ট ইত্যাদি। প্রত্যেক রাষ্ট্রে এমন কিছু এলাকা থাকে যেখানে কোনো সাধারণ নাগরিক এর প্রবেশের অনুমতি থাকে না। এবং যে ব্যক্তি সৈন্য বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত থাকে অথবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পর্ক থাকে কেবল তাদের জন্য অনুমতি থাকে। এরূপভাবে ইসলাম সমগ্র পৃথিবীল লোকদের নিয়ে এক বিশ্বব্যাপী ধর্ম। ইসলামের ক্যান্টনমেন্ট বা নিষিদ্ধ এলাকা হলো মাত্র দুটো। এক, মক্কা শরীফ এবং দুই. মদিনা শরীফ।

এর মধ্যে কেবল ঐ লোক প্রবেশ করতে পারবে যে ইসলাম কবুল করেছে বা ইসলামের রক্ষক। একজন বিধর্মী বা সাধারণ লোকের জন্য ঐ এলাকায় প্রবেশ করা অযৌক্তিক এবং তার ছাউনীর মধ্যে প্রবেশ করা আনুগত্যের বিরোধী। এরূপভাবে অমুসলিমদের এ অভিযোগ তোলা সম্পূর্ণ ভুল যে কেন তাদের মক্কা মদিনায় প্রবেশে বাধা প্রদান করা হচ্ছে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো দ্বিতীয় দেশে যেতে চায় তখন তাকে সর্বপ্রথম ঐ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে দরখাস্ত করতে হয়। যা ঐ দেশে প্রবেশের অনুমতিপত্র। প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিজ বিধান, শর্তাবলি ও ভিসা চালু করার সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি রয়েছে, যে তা পূর্ণ করতে পারবে না তার পক্ষে অনুমতি হবে না।

ভিসার ব্যাপারে সবচেয়ে কঠোর বিধান হলো আমেরিকার। বিশেষ বিশ্বের লোকদের জন্য। ভিসার ব্যাপারে তাদের অনেক শর্ত পূরণ করতে হয়। যখন আমি সিঙ্গাপুর যাবার ব্যাপারে একমত হলাম, তখন তাদের ইমিগ্রেশন ফর্মে নিয়ম ছিল যে, সেখানে নেশাদ্রব্য নিয়ে প্রবেশকারীর জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এরূপ প্রত্যেক দেশ কিছু নিয়ম করে থাকে। আমি একথা বলব না যে, মৃত্যুদণ্ড পশুতু।

যদি আমি এ সকল শর্তের সাথে একমত হই এবং এদের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হই, তাহলে ওখানে যাবার অনুমতি প্রদান করা হবে। কোনো ব্যক্তিকে মক্কা-মদিনায় প্রবেশের মৌলিক শর্ত বা ভিসা হলো সে নিজ মুখের কথা স্বীকার করে নিবে যে, যার উদ্দেশ্য হলো এই যে, আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল।