১
ইসলামের উপর ৪০টি অভিযোগ এবং তার প্রমাণ ভিত্তিক জবাব
লেখকঃ ডা. জাকির নায়েক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৩
প্রশ্ন-৩২. ইসলামে কি কাঠিন্য, খুন, খারাবি এবং পশুত্বের সুযোগ দেয়? আল কুরআন মুসলমানদের বলে যে, যেখানে কাফিরদের পাও হত্যা কর।
উত্তর : কুরআনের কিছু বিশেষ আয়াত যা ভুল আন্দাজে এজন্য বরাত দেয়ার উদ্দেশ্যে পেশ করা হয় যে, এর দ্বারা এমন ভুল ধারণার সৃষ্টি হয় যে, ইসলাম শক্তি প্রয়োগকে সাহায্য করে এবং নিজ অনুসারীদের বলে যে, ইসলামের বাইরের লোকদের হত্যা কর। এ ধারাবাহিকতায় সমালোচকরা ৯ নং সূরা তাওবার ৫ নং আয়াতের বরাত দেয়, যাতে এর দ্বারা এটা প্রমাণ করা যায় যে, ইসলাম শক্তি প্রয়োগ, খুন-খারাবি এবং পশুত্বের সুযোগ দেয়।
অর্থ : তোমরা মুশরিকদের যেখানে পাও সেখানেই হত্যা কর। মূলত ইসলামের ওপর দোষারোপ করার এ আয়াতের বরাত আসল এবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আয়াতের মূল বিষয় বুঝার জন্য আবশ্যক হলো সুরার অধ্যয়ন প্রথম আয়াত থেকে করা। এতে বলা হয়েছে যে, মুসলমান এবং মুশরিকদের মাঝে যে নিরাপত্তা চুক্তি ছিল তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এ চুক্তি শেষ করার জন্য আরবে শিরক এবং মুশরিকদের অস্তিত্ব কার্যত আইন বিরুদ্ধ এ স্বীকৃতি লাভ করে। কেননা রাজ্যের অধিকাংশের ওপর ইসলামের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এজন্য এছাড়া আর কোনো পথ ছিল না যে, হয়তো লড়বে নয়তো রাজ্য ছেড়ে চলে যাবে। এ দ্বারা ইসলামের রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা শক্ত ও মজবুত করার প্রয়োজন ছিল। মুশরিকদের নিজের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য চার মাসের জন্য সময় দেয়া হয়েছিল। ৯ নং সূরা তাওবার ৫ নং আয়াতে রয়েছে
অর্থ : অতঃপর যখন নিষিদ্ধ চার মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের যেখানে পাবে সেখানেই তোমরা হত্যা করবে। তাদের বন্দি করবে, তাদের অবরোধ করবে এবং তাদের ধরার জন্যে তোমরা প্রতিটি ঘাঁটিতে ওঁৎ পেতে বসে থাকবে, তবে এরা যদি তওবা করে (দ্বীনের পথে ফিরে আসে) এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, তাহলে তোমরা তাদের পথ ছেড়ে দাও, অবশ্যই আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও বড় দয়াময়।
আমার জানা আছে যে, এক সময় আমেরিকা ভিয়েতনামের সঙ্গে যুদ্ধরত ছিল। ধরুন! আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অথবা আমেরিকার জেনারেল যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকার সৈন্যদের বললেন, যেখানেই ভিয়েতনামীদের পাও তাদের হত্যা কর। আমি এ কথাকে বরাত হিসেবে উপস্থাপন করার সময় যদি আজ এই বুঝ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বলি যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অথবা জেনারেল একথা বলেছেন যে, যেখানে ভিয়েতনামীদের পাও সেখানে তাদের হত্যা কর, তাহলে এমন লাগে যে, আমি কোনো কসাই এর কথা উল্লেখ করছি। কিন্তু আমি যদি এ কথাকে। উপযুক্ত বুঝ মোতাবেক বর্ণনা করি তাহলে এটা যৌক্তিক মনে হবে। কেননা আসলে যুদ্ধের দিনে তিনি নিজ সৈন্যের সাহস বাড়ানোর জন্য এক হুংকারের মতো নির্দেশ দিচ্ছিলেন যে, যেখানে শত্রু পাও তাদের হত্যা কর।
যুদ্ধ সমাপ্তির পর এ নির্দেশ রহিত হয়ে গেছে। এরূপ ৯ নং সূরা তাওবার ৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, তোমরা মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা কর।' এ নির্দেশ যুদ্ধের অবস্থায় অবতীর্ণ হয় এবং এর উদ্দেশ্য মুশরিক সৈন্যদের উদ্দীপনা বাড়ানো ছিল। কুরআন মূলত মুসলমান সৈন্যদের একথা বলছিল যে, সে যেন ভীত না হয় এবং যখনই তাদের সামনে শত্রু পড়বে তাদের হত্যা করবে। অ্যারুন শৌরী ভারতে ইসলামের কঠিন সমালোচক হিসেবে গণ্য। সেও নিজ পুস্তক ‘ফাতওয়া দুনিয়া’-এর ৫৭২ পৃ. সূরা তাওবার ৫ নং আয়াতের বরাত দিয়েছে। এ আয়াতের বরাত দেবার পর সে হঠাৎ ৭ নং আয়াতে পৌছে গেছে। সকল প্রজ্ঞাবান মানুষই এটা অনুভব করতে পারে যে, সে জেনে বুঝে ৬ নং আয়াত থেকে লাফ দিয়েছে। ৬ নং আয়াতে এ অভিযোগের সান্ত্বনাদায়ক উত্তর দিয়েছে যাতে বলা হয়েছে ইসলাম কঠিন, পশুত্ব এবং খুন-খারাবির সুযোগ দেয়। এ আয়াতে ইরশাদ হয়
অর্থ : যদি মুশরিকদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি আপনার নিকট আশ্রয় চায় তাকে আপনি আশ্রয় দিন, যাতে আল্লাহর বাণী সে শুনতে পায়। অতঃপর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌছে দিন। কারণ তারা অজ্ঞ সম্প্রদায়। আল কুরআন শুধু এটাই বলে না যে, যদি কোনো মুশরিক যুদ্ধকালীন আশ্রয় চায় তাকে আশ্রয় দাও বরং তাকে নিরাপদ স্থান পর্যন্ত পৌছে দেবার নির্দেশও দান করে। এটা সম্ভব যে, আজকে যুদ্ধরত কওমের মধ্যে একজন দয়াবান এর নিরাপদকামী একজন জেনারেল যুদ্ধ চলাকালীন শত্রু সৈন্যদের নিরাপত্তা চাওয়ার
কারণে জীবন বাঁচাবে কিন্তু এমন কোনো সৈন্যের জেনারেল কি আছেন যিনি নিজ সৈন্যদের একথা বলবে যে, যুদ্ধ চলাকালীন কোনো সৈন্য নিরাপত্তা চাইলে তাকে শুধু ছেড়েই দেবে না বরং নিরাপদ স্থান পর্যন্ত পৌঁছে দেবে?
অর্থ : তোমরা মুশরিকদের যেখানে পাও সেখানেই হত্যা কর। মূলত ইসলামের ওপর দোষারোপ করার এ আয়াতের বরাত আসল এবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আয়াতের মূল বিষয় বুঝার জন্য আবশ্যক হলো সুরার অধ্যয়ন প্রথম আয়াত থেকে করা। এতে বলা হয়েছে যে, মুসলমান এবং মুশরিকদের মাঝে যে নিরাপত্তা চুক্তি ছিল তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এ চুক্তি শেষ করার জন্য আরবে শিরক এবং মুশরিকদের অস্তিত্ব কার্যত আইন বিরুদ্ধ এ স্বীকৃতি লাভ করে। কেননা রাজ্যের অধিকাংশের ওপর ইসলামের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এজন্য এছাড়া আর কোনো পথ ছিল না যে, হয়তো লড়বে নয়তো রাজ্য ছেড়ে চলে যাবে। এ দ্বারা ইসলামের রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা শক্ত ও মজবুত করার প্রয়োজন ছিল। মুশরিকদের নিজের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য চার মাসের জন্য সময় দেয়া হয়েছিল। ৯ নং সূরা তাওবার ৫ নং আয়াতে রয়েছে
অর্থ : অতঃপর যখন নিষিদ্ধ চার মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের যেখানে পাবে সেখানেই তোমরা হত্যা করবে। তাদের বন্দি করবে, তাদের অবরোধ করবে এবং তাদের ধরার জন্যে তোমরা প্রতিটি ঘাঁটিতে ওঁৎ পেতে বসে থাকবে, তবে এরা যদি তওবা করে (দ্বীনের পথে ফিরে আসে) এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, তাহলে তোমরা তাদের পথ ছেড়ে দাও, অবশ্যই আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও বড় দয়াময়।
আমার জানা আছে যে, এক সময় আমেরিকা ভিয়েতনামের সঙ্গে যুদ্ধরত ছিল। ধরুন! আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অথবা আমেরিকার জেনারেল যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকার সৈন্যদের বললেন, যেখানেই ভিয়েতনামীদের পাও তাদের হত্যা কর। আমি এ কথাকে বরাত হিসেবে উপস্থাপন করার সময় যদি আজ এই বুঝ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বলি যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অথবা জেনারেল একথা বলেছেন যে, যেখানে ভিয়েতনামীদের পাও সেখানে তাদের হত্যা কর, তাহলে এমন লাগে যে, আমি কোনো কসাই এর কথা উল্লেখ করছি। কিন্তু আমি যদি এ কথাকে। উপযুক্ত বুঝ মোতাবেক বর্ণনা করি তাহলে এটা যৌক্তিক মনে হবে। কেননা আসলে যুদ্ধের দিনে তিনি নিজ সৈন্যের সাহস বাড়ানোর জন্য এক হুংকারের মতো নির্দেশ দিচ্ছিলেন যে, যেখানে শত্রু পাও তাদের হত্যা কর।
যুদ্ধ সমাপ্তির পর এ নির্দেশ রহিত হয়ে গেছে। এরূপ ৯ নং সূরা তাওবার ৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, তোমরা মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা কর।' এ নির্দেশ যুদ্ধের অবস্থায় অবতীর্ণ হয় এবং এর উদ্দেশ্য মুশরিক সৈন্যদের উদ্দীপনা বাড়ানো ছিল। কুরআন মূলত মুসলমান সৈন্যদের একথা বলছিল যে, সে যেন ভীত না হয় এবং যখনই তাদের সামনে শত্রু পড়বে তাদের হত্যা করবে। অ্যারুন শৌরী ভারতে ইসলামের কঠিন সমালোচক হিসেবে গণ্য। সেও নিজ পুস্তক ‘ফাতওয়া দুনিয়া’-এর ৫৭২ পৃ. সূরা তাওবার ৫ নং আয়াতের বরাত দিয়েছে। এ আয়াতের বরাত দেবার পর সে হঠাৎ ৭ নং আয়াতে পৌছে গেছে। সকল প্রজ্ঞাবান মানুষই এটা অনুভব করতে পারে যে, সে জেনে বুঝে ৬ নং আয়াত থেকে লাফ দিয়েছে। ৬ নং আয়াতে এ অভিযোগের সান্ত্বনাদায়ক উত্তর দিয়েছে যাতে বলা হয়েছে ইসলাম কঠিন, পশুত্ব এবং খুন-খারাবির সুযোগ দেয়। এ আয়াতে ইরশাদ হয়
অর্থ : যদি মুশরিকদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি আপনার নিকট আশ্রয় চায় তাকে আপনি আশ্রয় দিন, যাতে আল্লাহর বাণী সে শুনতে পায়। অতঃপর তাকে নিরাপদ স্থানে পৌছে দিন। কারণ তারা অজ্ঞ সম্প্রদায়। আল কুরআন শুধু এটাই বলে না যে, যদি কোনো মুশরিক যুদ্ধকালীন আশ্রয় চায় তাকে আশ্রয় দাও বরং তাকে নিরাপদ স্থান পর্যন্ত পৌছে দেবার নির্দেশও দান করে। এটা সম্ভব যে, আজকে যুদ্ধরত কওমের মধ্যে একজন দয়াবান এর নিরাপদকামী একজন জেনারেল যুদ্ধ চলাকালীন শত্রু সৈন্যদের নিরাপত্তা চাওয়ার
কারণে জীবন বাঁচাবে কিন্তু এমন কোনো সৈন্যের জেনারেল কি আছেন যিনি নিজ সৈন্যদের একথা বলবে যে, যুদ্ধ চলাকালীন কোনো সৈন্য নিরাপত্তা চাইলে তাকে শুধু ছেড়েই দেবে না বরং নিরাপদ স্থান পর্যন্ত পৌঁছে দেবে?