১
সুন্নাত ও বিদয়াত
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
আহলে সুন্নাত ও আহলে বিদয়াত
সুন্নাত ও বিদয়াত সম্পর্কে এ আলোচনার পর বিবেচ্য বিষয় হলো, কে আহলে সুন্নাত আর কে আহলে বিদয়াত?
আহলে সুন্নাত কে- মানে, সুন্নাতের অনুসারী কারা? কারা সুন্নাতকে অবলম্বন করে চলছে এবং জীবনধারাকে সুন্নাতের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখছে। আর আহলে বিদয়াত কে-মানে কারা সুন্নাতের অনুসারী নয়, কারা বিদয়াতপন্থী? কারা বিদয়াতী?
এ প্রশ্নেরও আলোচনা আবশ্যক। কেননা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বেশ কিছু লোক চরম বিদয়াতী কাজ করেও জীবনের বিভিন্ন দিকে সুন্নাতের বরখেলাপ কাজ করেও একমাত্র নিজেদেরকেই ‘আহলে সুন্নাত’ বলে দাবি করছে। আর তাদের বিদয়াতসমূহকে যারা সমর্থন করেনা, যারা শক্তভাবে সুন্নাতের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে চাচ্ছে, সুন্নাতকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে জীবনে ও সমাজে তাদেরকে তারা বিদয়াতী (ফিতরাতপন্থী) বলে ফতোয়া দিচ্ছে। কাজেই দলীল ভিত্তিক বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ কথা স্পষ্ট হয়ে উঠা দরকার যে, সত্যিকারভাবে কুরআন হাদীসের দৃষ্টিতে কে আহলে সুন্নাত আর কে আহলে বিদয়াত এবং সেই সঙ্গে আহলে সুন্নাতেরই বা স্থান কোথায় এবং কোথায় স্থান আহলে বিদয়াতের।
আহলে সুন্নাত কারা, এ কথার জবাবে আল্লামা আবদুর রহমান ইবনুল জাওজীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেনঃ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবী করীম(স) ও তাঁর সাহাবায়ে কিরামের আদর্শে অনুসারীরাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে আহলে সুন্নাত। কেননা তাঁরাই সুন্নাতের আদর্শকে বাস্তবভাবে অনুসরণ করে চলেছে, যে সুন্নাতে কোনরূপ নতুন জিনিস উদ্ভাবিত হয়নি। এ জন্যে যে, নতুন জিনিস উদ্ভাবিত হয়েছে-বিদয়াত সৃষ্টি হয়েছেতো রাসূলে করীম(স) ও সাহাবায়ে কিরামের পরবর্তীযুগে।
তিনি আরো বলেছেনঃ পূর্বোক্ত আলোচনা হতে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, আহলে সুন্নাত হলো সুন্নাতের অনুসারী লোকেরা। আর আহলে বিদয়াত হলো তারা, যারা এমন কিছু জিনিস বের করেছে, যা পূর্বে ছিলনা এবং যার কোন সনদও নেই।
অর্থাৎ সুন্নাত যারা কার্যত পালন করে, তাতে কোনোরূপ হ্রাস করেনা, বৃদ্ধিও করেনা, যেমন রাসূল ও সাহাবায়ে কিরাম করেছেন, বলেছেন ও চলেছেন হুবহু তেমন-ই পালন করে, তারাইতো অভিহিত হতে পারে আহলে সুন্নাত বলে। আর যারা তাতে কোনোরূপ হ্রাস-বৃদ্ধি করে, মনগড়া অনেক কিছু ধর্মের মধ্যে শামিল করে নেয়, ধর্মীয় কাজ বলে চালিয়ে দেয়, তারা ‘আহলে সুন্নাত’ হতে পারেনা। তারাতো সম্পূর্ণরূপে ‘আহলে বিদয়াত’-বিদয়াতপন্থী।
বস্তুত সাহাবায়ে কিরামের যুগে কোনো বিদয়াত ছিলনা। তাঁরাতো খালেস সুন্নাতের উপর আমল করেছেন; আমল করেছেন ব্যক্তি জীবনে, অনুসরণ করে চলেছেন সমষ্টিগত জীবনের সকল ক্ষেত্রে। শুধু তা-ই নয়, কোথাও কোনো বিদয়াত দেখা দিলে তাঁরা পূর্ণ শক্তিতে সে বিদয়াতের প্রতিরোধ করেছেন। তাঁরা নবী করীম(স) এর ঘোষণার উপর খাঁটি বলে উত্তীর্ণ হয়েছেন। নবী করীম(স) বলেছেনঃ
(আরবি)
-আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের উপর আমানতদার। আর আমার সাহাবীরা যখন চলে যাবে, তখন আমার উম্মতের উপর সেই অবস্থা ফিরে আসবে, যার ওয়াদা তাদের জন্য করা হয়েছে।
আহলে সুন্নাত কে- মানে, সুন্নাতের অনুসারী কারা? কারা সুন্নাতকে অবলম্বন করে চলছে এবং জীবনধারাকে সুন্নাতের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখছে। আর আহলে বিদয়াত কে-মানে কারা সুন্নাতের অনুসারী নয়, কারা বিদয়াতপন্থী? কারা বিদয়াতী?
এ প্রশ্নেরও আলোচনা আবশ্যক। কেননা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বেশ কিছু লোক চরম বিদয়াতী কাজ করেও জীবনের বিভিন্ন দিকে সুন্নাতের বরখেলাপ কাজ করেও একমাত্র নিজেদেরকেই ‘আহলে সুন্নাত’ বলে দাবি করছে। আর তাদের বিদয়াতসমূহকে যারা সমর্থন করেনা, যারা শক্তভাবে সুন্নাতের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে চাচ্ছে, সুন্নাতকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে জীবনে ও সমাজে তাদেরকে তারা বিদয়াতী (ফিতরাতপন্থী) বলে ফতোয়া দিচ্ছে। কাজেই দলীল ভিত্তিক বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ কথা স্পষ্ট হয়ে উঠা দরকার যে, সত্যিকারভাবে কুরআন হাদীসের দৃষ্টিতে কে আহলে সুন্নাত আর কে আহলে বিদয়াত এবং সেই সঙ্গে আহলে সুন্নাতেরই বা স্থান কোথায় এবং কোথায় স্থান আহলে বিদয়াতের।
আহলে সুন্নাত কারা, এ কথার জবাবে আল্লামা আবদুর রহমান ইবনুল জাওজীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেনঃ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবী করীম(স) ও তাঁর সাহাবায়ে কিরামের আদর্শে অনুসারীরাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে আহলে সুন্নাত। কেননা তাঁরাই সুন্নাতের আদর্শকে বাস্তবভাবে অনুসরণ করে চলেছে, যে সুন্নাতে কোনরূপ নতুন জিনিস উদ্ভাবিত হয়নি। এ জন্যে যে, নতুন জিনিস উদ্ভাবিত হয়েছে-বিদয়াত সৃষ্টি হয়েছেতো রাসূলে করীম(স) ও সাহাবায়ে কিরামের পরবর্তীযুগে।
তিনি আরো বলেছেনঃ পূর্বোক্ত আলোচনা হতে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, আহলে সুন্নাত হলো সুন্নাতের অনুসারী লোকেরা। আর আহলে বিদয়াত হলো তারা, যারা এমন কিছু জিনিস বের করেছে, যা পূর্বে ছিলনা এবং যার কোন সনদও নেই।
অর্থাৎ সুন্নাত যারা কার্যত পালন করে, তাতে কোনোরূপ হ্রাস করেনা, বৃদ্ধিও করেনা, যেমন রাসূল ও সাহাবায়ে কিরাম করেছেন, বলেছেন ও চলেছেন হুবহু তেমন-ই পালন করে, তারাইতো অভিহিত হতে পারে আহলে সুন্নাত বলে। আর যারা তাতে কোনোরূপ হ্রাস-বৃদ্ধি করে, মনগড়া অনেক কিছু ধর্মের মধ্যে শামিল করে নেয়, ধর্মীয় কাজ বলে চালিয়ে দেয়, তারা ‘আহলে সুন্নাত’ হতে পারেনা। তারাতো সম্পূর্ণরূপে ‘আহলে বিদয়াত’-বিদয়াতপন্থী।
বস্তুত সাহাবায়ে কিরামের যুগে কোনো বিদয়াত ছিলনা। তাঁরাতো খালেস সুন্নাতের উপর আমল করেছেন; আমল করেছেন ব্যক্তি জীবনে, অনুসরণ করে চলেছেন সমষ্টিগত জীবনের সকল ক্ষেত্রে। শুধু তা-ই নয়, কোথাও কোনো বিদয়াত দেখা দিলে তাঁরা পূর্ণ শক্তিতে সে বিদয়াতের প্রতিরোধ করেছেন। তাঁরা নবী করীম(স) এর ঘোষণার উপর খাঁটি বলে উত্তীর্ণ হয়েছেন। নবী করীম(স) বলেছেনঃ
(আরবি)
-আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের উপর আমানতদার। আর আমার সাহাবীরা যখন চলে যাবে, তখন আমার উম্মতের উপর সেই অবস্থা ফিরে আসবে, যার ওয়াদা তাদের জন্য করা হয়েছে।