১
সুন্নাত ও বিদয়াত
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩০
পীর ধরা কি ফরয?
আরো অগ্রসর হয়ে এক ধরনের অর্ধ আলিম পীর ধরা ফরয বলে দাবি করতে শুরু করেন। এজন্যে তারা দলীল হিসেবে পেশ করেন কুরআন মজীদের সে অসীলার আয়াতকে। তাঁরা বলেন ‘অসীলা’ ধরার হুকুমতো আল্লাহই দিয়েছেন কুরআন মজীদে- আর সে অসীলাই হলো পীর। অতএব পীর ধরা ফরয প্রমাণিত হলো। অথচ ইতিপূর্বে আমরা এ অসীলার আয়াতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি। প্রায় দশ বারো খানা প্রাচীন ও প্রামাণিক তাফসীরের উদ্ধৃতি দিয়ে দেখিয়েছি যে, আল্লাহ তা‘আলা যে ‘অসীলা’ তালাশ করতে আদেশ করেছেন তার মানে কখনো ‘পীর’ নয়, পীর ধরলেই সেই অসীলার সন্ধানের আদেশ পাওয়া যায়না। তাছাড়া প্রখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য (আরবি) অভিধানের উদ্ধৃতি দিয়েও দেখিয়েছি যে, ‘অসীলা” শব্দের অর্থ ‘পীর’ কেউ করেননি। মাওলানা আশরাফ আলী থানভী(রহ) মরহুম এ যুগের সর্বজনমান্য বড় তাসাউফপন্থী আলিম।কিন্তু তিনিও অসীলা শব্দের অর্থ পীর করেননি করেছেন ‘নৈকট্য’। সেজন্য তাঁর লেখা কুরআনের তরজমা দেখা আবশ্যক। বরং তিনি বলেছেন যে, জাহিল লোকেরাই এ আয়াত থেকে পীর ধরা ফরয প্রমাণ করতে চাইছে, অন্য কেউ নয়।
তাঁদের আর একটি দলীল হলো কুরআনের এই আয়াতঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ [٩: ١١٩ ]
– হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদী লোকদের সঙ্গী হও।(আত তাওবাঃ119)।
এ আয়াত পেশ করে পীরবাদীরা বলতে চান যে, সাদেকীন বলতে তাদেরই বোঝানো হয়েছে এবং তাদের নিকট মুরীদ হয়ে তাদের সোহবত ইখতিয়ার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ দুনিয়ার কোনো লোকই এবং প্রথমকাল হতে শুরু করে বর্তমানকালের তাফসীরকারকদের মধ্যে কেউই এ থেকে পীরের নিকট মুরীদ হওয়ার আদেশ বুঝেননি, বুঝতে পারেনওনা। যদি কেউ তা বুঝতে চায়, তবে তা হচ্ছে নিজের মর্জি মত কুরআনকে ব্যবহার করা, নিজের পক্ষ সমর্থনে খামখেয়ালীভাবে কুরআনকে ব্যবহার করা। আর এ হচ্ছে অতি বড় অপরাধ- এত বড় অপরাধ যে, সুস্পষ্ট কুফরও এর সমতুল্য হতে পারেনা।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত ইবনে আব্বাস(রা) লিখেছেন-সাদেকীন বলতে বোঝায় সে সব লোককে, যারা ঈমান এবং আল্লাহ ও রাসূলের সাথে করা আনুগত্যের ওয়াদা পূরণে সত্যবাদী প্রমাণিত হয়েছে।
এছাড়া একে সাধারণ অর্থেও ব্যবহার করা যায়। তখন এর অর্থ হবেঃ এমন সব লোক, যারা দ্বীন পালনে নিয়্যত, মুখের কথা ও আমল-সব দিক দিয়েই সত্যবাদী প্রমাণিত হয়েছে।
আল্লামা ইবনে কাসীর এ আয়াতের তাফসীরে লিখেছেনঃ সত্যবাদী হও, সত্যকে অবলম্বন করো, তাহলে তোমরা সত্যের ধারক হতে পারবে এবং ধ্বংস হতে বাঁচতে পারবে। তা তোমাদের কাজকর্মে সহজতা এনে দেবে।
আল্লামা তালুসীর মতে এর অর্থ হতে পারে বিশেষভাবে তারাও- যারা মুসলিম বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদেরকে উচ্চ স্থানে আটকে রেখেছিল।
এতে করে গোটা আয়াতের অর্থ হবেঃ তারা তিনজন যেমন ভাবে সত্য কথা বলেছিলেন, সত্যবাদিতা ও খালিস নিয়্যতে, তোমরাও তেমনি হও।(ইমামুল মোফাসসেরীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-আনসারী আল কুরতুবী তাঁর সুবিখ্যাত তাফসীরে এ আয়াতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন; কিন্তু তাতে পীর ধরা বোঝায় ও পীরের সঙ্গ গ্রহণের নির্দেশ হয়েছে বল উল্লেখ করেননি)।
কুরআন মজীদের অপর এক আয়াতে সাদেকীন শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। আয়াতটি এইঃ
(আরবি)
-সেসব ফকীর গরীব মুজাহিরদের জন্যে, যারা তাদের ঘর-বাড়ি থেকে বহিষ্কৃত এবং ধন-মাল থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তারা আল্লাহর নিকট থেকে অনুগ্রহ ও সন্তোষ পেতে চায়। আর তারা আল্লাহ ও রাসূলের সাহায্য করে। প্রকৃতপক্ষে এরাই সাদেকীন, সত্যবাদী।
এখানে ‘সাদেকীন’ বা সত্যবাদী লোকদের পরিচয় দিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা দ্বীন ইসলামের কারণে ঘর-বাড়ি থেকে বহিষ্কৃত, ধন-মাল থেকে বঞ্চিত, তাঁরা সব সময় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তোষ পেতে চায় এবং সেজন্য তারা সবসময় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য কামনা করে দ্বীন কায়েম করার ব্যাপারে। এতো কোনো পীরের পরিচয় নয়।
আমি মনে করি, এ পর্যায়ের লোকই বোঝা যেতে পারে সাদেকীন শব্দ থেকে। নাফে বলেছেন যে, যে তিনজন লোক তাবুক যুদ্ধে মুজাহিদীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন তাদের কথাই বলা হয়েছে এখানে। এছাড়া নবী করীম(স) এবং তাঁর সাহাবীগণও এর অর্থ হতে পারেন, বলেছেন ইবনে উমর(রা)। সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন যে, এ আয়াতে ‘সাদেকীন’ বলতে বোঝানো হয়েছে হযরত আবু বকর সিদ্দীক ও হযরত উমর ফারূক(রা)কে। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, সাদেকীন অর্থ পীর, আর এ আয়াতে পীর ধরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে-এ কথা বলা হচ্ছে কোন দলীলের ভিত্তিতে।
তাঁদের আর একটি দলীল হলো কুরআনের এই আয়াতঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ [٩: ١١٩ ]
– হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদী লোকদের সঙ্গী হও।(আত তাওবাঃ119)।
এ আয়াত পেশ করে পীরবাদীরা বলতে চান যে, সাদেকীন বলতে তাদেরই বোঝানো হয়েছে এবং তাদের নিকট মুরীদ হয়ে তাদের সোহবত ইখতিয়ার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ দুনিয়ার কোনো লোকই এবং প্রথমকাল হতে শুরু করে বর্তমানকালের তাফসীরকারকদের মধ্যে কেউই এ থেকে পীরের নিকট মুরীদ হওয়ার আদেশ বুঝেননি, বুঝতে পারেনওনা। যদি কেউ তা বুঝতে চায়, তবে তা হচ্ছে নিজের মর্জি মত কুরআনকে ব্যবহার করা, নিজের পক্ষ সমর্থনে খামখেয়ালীভাবে কুরআনকে ব্যবহার করা। আর এ হচ্ছে অতি বড় অপরাধ- এত বড় অপরাধ যে, সুস্পষ্ট কুফরও এর সমতুল্য হতে পারেনা।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত ইবনে আব্বাস(রা) লিখেছেন-সাদেকীন বলতে বোঝায় সে সব লোককে, যারা ঈমান এবং আল্লাহ ও রাসূলের সাথে করা আনুগত্যের ওয়াদা পূরণে সত্যবাদী প্রমাণিত হয়েছে।
এছাড়া একে সাধারণ অর্থেও ব্যবহার করা যায়। তখন এর অর্থ হবেঃ এমন সব লোক, যারা দ্বীন পালনে নিয়্যত, মুখের কথা ও আমল-সব দিক দিয়েই সত্যবাদী প্রমাণিত হয়েছে।
আল্লামা ইবনে কাসীর এ আয়াতের তাফসীরে লিখেছেনঃ সত্যবাদী হও, সত্যকে অবলম্বন করো, তাহলে তোমরা সত্যের ধারক হতে পারবে এবং ধ্বংস হতে বাঁচতে পারবে। তা তোমাদের কাজকর্মে সহজতা এনে দেবে।
আল্লামা তালুসীর মতে এর অর্থ হতে পারে বিশেষভাবে তারাও- যারা মুসলিম বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদেরকে উচ্চ স্থানে আটকে রেখেছিল।
এতে করে গোটা আয়াতের অর্থ হবেঃ তারা তিনজন যেমন ভাবে সত্য কথা বলেছিলেন, সত্যবাদিতা ও খালিস নিয়্যতে, তোমরাও তেমনি হও।(ইমামুল মোফাসসেরীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-আনসারী আল কুরতুবী তাঁর সুবিখ্যাত তাফসীরে এ আয়াতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন; কিন্তু তাতে পীর ধরা বোঝায় ও পীরের সঙ্গ গ্রহণের নির্দেশ হয়েছে বল উল্লেখ করেননি)।
কুরআন মজীদের অপর এক আয়াতে সাদেকীন শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। আয়াতটি এইঃ
(আরবি)
-সেসব ফকীর গরীব মুজাহিরদের জন্যে, যারা তাদের ঘর-বাড়ি থেকে বহিষ্কৃত এবং ধন-মাল থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তারা আল্লাহর নিকট থেকে অনুগ্রহ ও সন্তোষ পেতে চায়। আর তারা আল্লাহ ও রাসূলের সাহায্য করে। প্রকৃতপক্ষে এরাই সাদেকীন, সত্যবাদী।
এখানে ‘সাদেকীন’ বা সত্যবাদী লোকদের পরিচয় দিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা দ্বীন ইসলামের কারণে ঘর-বাড়ি থেকে বহিষ্কৃত, ধন-মাল থেকে বঞ্চিত, তাঁরা সব সময় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তোষ পেতে চায় এবং সেজন্য তারা সবসময় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য কামনা করে দ্বীন কায়েম করার ব্যাপারে। এতো কোনো পীরের পরিচয় নয়।
আমি মনে করি, এ পর্যায়ের লোকই বোঝা যেতে পারে সাদেকীন শব্দ থেকে। নাফে বলেছেন যে, যে তিনজন লোক তাবুক যুদ্ধে মুজাহিদীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন তাদের কথাই বলা হয়েছে এখানে। এছাড়া নবী করীম(স) এবং তাঁর সাহাবীগণও এর অর্থ হতে পারেন, বলেছেন ইবনে উমর(রা)। সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন যে, এ আয়াতে ‘সাদেকীন’ বলতে বোঝানো হয়েছে হযরত আবু বকর সিদ্দীক ও হযরত উমর ফারূক(রা)কে। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, সাদেকীন অর্থ পীর, আর এ আয়াতে পীর ধরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে-এ কথা বলা হচ্ছে কোন দলীলের ভিত্তিতে।