মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত মডার্ন ইসলামিক এপ্লিকেশন উপহার দিতে আমাদের সাহায্য করুন। আপনার এই দান সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমল নামায় যুক্ত হবে ইন শা আল্লাহ।
আসসালামু আলাইকুম,
এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত চালু রাখতে প্রতি মাসেই সার্ভার ও টেকনিক্যাল খরচ বহন করতে হয়। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে এই খরচ বহন করার মতো পর্যাপ্ত ফান্ড আমাদের নেই।
🌿 আপনার একটি দান হতে পারে অসংখ্য মানুষের হিদায়াতের মাধ্যম
Hadith.one–এ প্রতিটি হাদিস পড়া, শেখা ও শেয়ার করার মাধ্যমে আপনি হতে পারেন সদকাহ জারিয়াহর অংশীদার।
🤲 আল্লাহর রাস্তায় আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার মাধ্যমে এই দাওয়াহ প্ল্যাটফর্মটি চালু রাখতে সাহায্য করুন।
🔗 আজই দান করুন এবং এই খিদমতের সাথে যুক্ত থাকুন
জাযাকাল্লাহু খাইরান,
আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
কবর পূজা ও রূহানী ইস্তিমদাদে বিশ্বাসী লোকেরা তাদের মতের সমর্থনে একটি কথাকে দলীল হিসেবে পেশ করে। কথাটি এইঃ (আরবি)
-তোমরা যখন দুনিয়ার কাজ কর্মে খুব কাতর ও দিশেহারা হয়ে পড়বে, তখন তোমরা কবরবাসীদের নিকট সাহায্য চাইবে।
এ কথাটিকে তারা হাদীস হিসেবে চালিয়ে দেয়। আসলে এটা হাদীস নয়, এটাকে হাদীস বলা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। বিশেষজ্ঞগণ এ কথাটি সম্পর্কে লিখেছেনঃ বিশেষজ্ঞগণ সম্পূর্ণ একমত হয়ে বলেছেন যে, এ কথাটি সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা।
আর শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী এ কথাটি সম্পর্কে লিখেছেনঃ হাদীস বলে চালানো এ কথাটি মুজাবির(পেশকার খাদেমদের)নিজেদের মনগড়া কথা। তারা নযর-নিয়াজ লাভের উদ্দেশ্যে নিজেদের এ কথাটি মিথ্যামিথ্যি নবী করীমের নামে চালিয়ে দিয়েছে।
আসলে এ কথাটি কোনো হাদীসই নয়। মুহাদ্দিস এবং মূহাক্কিক সূফীগণও একে মনগড়া ও রচিত কথা বলে ঘোষণা করেছেন। বস্তুত আকীদার ব্যাপারে এ রকম বানানো কথাকে দলীল হিসেবে পেশ করার কারণ হলো চরম অজ্ঞতা ও মূর্খতা।
সূরা আল বাকারার আয়াতঃ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
এর তাফসীরে শাহ আবদুল আযীয(রহ) বিভিন্ন রকম ও প্রকারের ‘প্রতিদ্বন্ধীর’ উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে চতূর্থ রকম হলো কবর পূজারীদের বানানো প্রতিদ্বন্ধী। তাদের সম্পর্কে এখানে লিখেছেনঃ পীর পুজারী লোকেরা বলেঃ বুযুর্গ লোকেরা খুব বেশি বেশি রিয়াজত ও সাধনা মুজাহিদা করে বলে তাদের দো’আ ও সুপারিশ আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় বিধায় এ দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর তাদের রূহে অসীম শক্তি ও বিশালতার সৃষ্টি হয়। তাদের শেকেল-সুরতকে যদি বরজাখ বানান্ হয় কিংবা তার বৈঠকখানায় ও কবরস্থানে আজিজী ইনকেসারীর সাথে সেজদা করা হয়, তাহলে তাদের রূহ জ্ঞানের বিশালতার কারণে তা জানতে পারে এবং দুনিয়া আখিরাতে সিজদাকারীর কল্যাণের জন্য তারা সুপারিশ করে। (নাউজুবিল্লাহ)।
এ থেকে বোঝা গেল, এ ধরনের ইস্তিমদাদ ও কবরপূজাকে শাহ আবদুল আজীজ(রহ) সুস্পষ্টরূপে আল্লাহর প্রতিদ্বন্ধী গ্রহণ করা মনে করেন। আর এ গ্রহণ করাই হলো শিরক-যা কুরআনে সুস্পষ্ট নিষিদ্ধ।
আল্লাহ ও বান্দার মাঝে এ ধরনের অসীলা ধরা ও সুপারিশ হাসিল করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে যদি কেউ মনে করেন, তবে সে আল্লাহর সম্পর্কে বদনামী করেছে। আল্লামা ইবনে কাইয়্যেম লিখেছেনঃ যে মনে করবে যে, আল্লাহর সন্তান আছে কিংবা তাঁর কোনো শরীক আছে বা তাঁর অনুমতি ছাড়াই কেউ তাঁর নিকট শাফায়াত করতে পারে অথবা সৃষ্টি ও স্রষ্টার মধ্যে এমন কোনো মাধ্যম রয়েছে, যা সৃষ্টির প্রয়োজনের কথা আল্লাহর নিকট পেশ করে কিংবা আল্লাহ ছাড়া এমন কতক অলী-আল্লাহও রয়েছে, যারা আল্লাহ ও সেই লোকদের মাঝে অসীলা ও নৈকট্যের কাজ করবে এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্যে তাদের নিকট তারা দো’আ করে, তাদের ভয় করে চলে, আর তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুর আশা করে- এই যার আকীদা হবে, সে তো আল্লাহ সম্পর্কে অত্যন্ত জঘন্য ও খারাপ ধারণা পোষণ করলো।
কাজী সানাউল্লাহ পানিপত্তী(র) হানাফী মাযহাবের বড় আলিম এবং তাসাউফপন্থী মনীষী ছিলেন। কুরআন-হাদীসে গভীর পান্ডিত্য থাকার কারণে তিনি সর্বমহলেই সম্মানার্হ ও শ্রদ্ধেয় ছিলেন। তিনি কুরআনের আয়াতঃ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ ۖ
–তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আর যাদের ডাকো, তারা তো তোমাদের মতোই দাসানুদাস মাত্র।
এ সম্পর্কে লিখেছেন-এ আয়াত বিশেষভাবে কেবলমাত্র মূর্তি পূজারীদের জন্য নয়, বরং
مِن دُونِ اللَّهِ আল্লাহ ছাড়া সাধারণভাবে আর যে কেউ-ই হোকনা কেন, সে-ই এর মধ্যে শামিল এবং তাকে ডাকলেই সুস্পষ্ট শিরক হবে। কেননা ওদের যে ডাকা হচ্ছে, মানুষের কোনো একটি প্রয়োজন পূরণ করার ওদের কি ক্ষমতা আছে? কেউ যদি বলে যে, এ আয়াত কাফিরদের জন্য প্রযোজ্য, কেননা তারাই মূর্তিগুলোকে স্মরণ করে থাকে, তা হলে বলবো
دُونِ اللَّهِ শব্দটি সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত কোনো বিশেষ জিনিস যে বোঝায়না, তা-ই একথা স্বীকৃতব্য নয়।
বস্তুত কুরআন ও হাদীস থেকে মুশরিকী আকীদা ও আমলের অনুকূলে দলীল পেশ করা বড়ই আশ্চর্যের বিষয়। আরও আশ্চর্যের বিষয় যে সব মনীষী আজীবন শিরক বিদয়াতের বিরুদ্ধে কলম চালিয়েছেন, বাস্তবভাবে অভিযান চালিয়েছে, তাঁদেরই কোনো কোনো কথা পূর্বাপর সম্পর্ক ছিন্ন করে শিরক বিদয়াতের সমর্থনে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁদের এই ধোঁকাবাজি অভিজ্ঞ মহলে ধরা পড়ে যেতে পারে- এতটুকু ভয়ও এই বিদয়াতপন্থী ও বিদয়াত প্রচারকদের মনে জাগেনা। মনে হয়, বিদয়াত ছাড়া তাদের মন মগজে আর কিছু নেই। বিদয়াতেই তাদের রুচি, বিদয়াতই তাদের পেশা যেমন এক শ্রেণীর পোকার রুচি কেবল ময়লা ও আবর্জনায়! আল্লাহ এদের হেদায়াত করুন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় হাদিস শেয়ার করুন
Or Copy Link
https://hadith.one/bn/book/289/39
রিডিং সেটিংস
Bangla
English
Bangla
Indonesian
Urdu
System
System
Dark
Green
Teal
Purple
Brown
Sepia
আরবি ফন্ট নির্বাচন
Kfgq Hafs
Kfgq Hafs
Qalam
Scheherazade
Kaleel
Madani
Khayma
অনুবাদ ফন্ট নির্বাচন
Kalpurush
Kalpurush
Rajdip
Bensen
Ekushe
Alinur Nakkhatra
Dhakaiya
Saboj Charulota
Niladri Nur
22
17
সাধারণ সেটিংস
আরবি দেখান
অনুবাদ দেখান
রেফারেন্স দেখান
হাদিস পাশাপাশি দেখান
এই সদাকা জারিয়ায় অংশীদার হোন
মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত মডার্ন ইসলামিক এপ্লিকেশন উপহার দিতে আমাদের সাহায্য করুন। আপনার এই দান সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমল নামায় যুক্ত হবে ইন শা আল্লাহ।