১
সুন্নাত ও বিদয়াত
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
প্রাথমিক কথা
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে আদর্শ দুনিয়ার মানুষের সামনে উপস্থাপিত করেছেন, এক কথায় তা-ই সুন্নাত এবং তার বিপরীত যা কিছু তা বিদয়াত এর পর্যায়ে গণ্য। নবী করীম (সাঃ) এর তেইশ বছরের অবিশ্রান্ত সাধনা ও সংগ্রামের মাধ্যমে যে সমাজ গড়ে তুলেছিলেন, তাকে তিনি মুক্ত করেছিলেন সকলপ্রকার বিদয়াত ও জাহিলিয়াতের অক্টোপাশ থেকে এবং প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সুন্নাতের আলোকোদ্ভাসিত মহান আদর্শের উপর। বিশ্ব মানবতার পক্ষে এ ছিল মহা সৌভাগ্যের ব্যাপার।
উত্তরকালে নানা কারণে মুসলিম সমাজ সুন্নাতের আদর্শ হতে বিচ্যূত হয়ে পড়ে, তাদের আকীদা ও আমলে প্রবেশ করে অসংখ্য বিদয়াত। এমন দিনও দেখা যায়, যখন মুসলমানরা সুন্নাত ও বিদয়াতের সংমিশ্রণে এক জগাখিচুড়ী বিধানকেই ইসলামী আদর্শ বলে মনে করতে ও অনুসরণ করতে শুরু করে। ফলে তাদের জীবনে আসে সার্বিক ভাঙন ও বিপর্যয়। বর্তমান সময় সে বিপর্যস্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতিই গ্রাস করেছে সমগ্র বিশ্বমুসলিমকে।
কিন্তু এ অবস্থা বাঞ্চনীয় নয় মুসলমানদের জন্য। কারো পক্ষেই কাম্য হতে পারেনা এ আদর্শের বিচ্যূতি। এজন্য আজ নতুন করে লোকদের সামনে ইসলামী আদর্শবাদের ব্যাপক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ অপরিহার্য্য, যেন মুসলমানদের মনে চেতনা জেগে উঠে, উদ্দীপ্ত হয়ে উঠে তাদের অবস্থার পরিবর্তনের পুনর্জাগরণের এবং নতুন করে আদর্শবাদী হয়ে উঠার এক উদগ্র বাসনা। এ পর্যায়ে আমার ক্ষুদ্র লেখনী-শক্তি যতোটুকু কাজ করেছে, তার মধ্যে বর্তমান গ্রন্থ একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সুন্নাত ও বিদয়াতের মৌলিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এবং আকীদা বিশ্বাসে, জীবনে ও সমাজে কোথায় কোথায় সুন্নাত থেকে বিচ্যূতি আর বিদয়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তা স্পষ্ট করে তুলে ধরাই আমার এ গ্রন্থ রচনার মূলে একমাত্র উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য কতখানি সফল হয়েছে কিংবা আদৌ তা সাফল্যের দাবি করতে পারি কিনা পাঠকবর্গ-ই তা বিবেচনা করবেন। আমার বক্তব্য শুধু এতটুকু যে, যা কিছু লিখেছি গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করে বুঝে শুনে লিখেছি, সঠিক কথা সুস্পষ্টভাবে পেশ করার জন্যই লিখেছি, লিখেছি কুরআন-হাদীস, ফিকাহ ও সর্বজনমান্য মনীষীদের মতামতের ভিত্তিতে। এ বইয়ে আলোচিত মতামতের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি-ই দায়ী এবং যদি কাউকে দায়ী করতে হয় সেজন্য কেবল আমাকেই দায়ী করা যেতে পারে, অন্য কাউকে নয়। এ আলোচনায় আমি কোন ভুল করে থাকলে, কারো দোহাই দিয়ে নয়, কুরআন-হাদীসের ভিত্তিতেই আমার ভুল ধরিয়ে দেয়া যেতে পারে। এ ধরণের যে কোনো ভুলের সংশোধন করে নিতে আমি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
এতদসত্ত্বেও আমার এ প্রচেষ্টা যদি আদর্শকে সমুজ্জল করে তোলবার এবং বিদয়াতের অন্ধকার বিদূরণে সামান্য কাজও করতে সক্ষম হয় তাহলে আমার শ্রম সার্থক মনে করবো এবং তাকে পরকালে আল্লাহর নিকট মুক্তিলাভের অসীলারূপে মনে করে তাঁর শোকরিয়া আদায় করবো।
মুহাম্মাদ আবদুর রহীম
উত্তরকালে নানা কারণে মুসলিম সমাজ সুন্নাতের আদর্শ হতে বিচ্যূত হয়ে পড়ে, তাদের আকীদা ও আমলে প্রবেশ করে অসংখ্য বিদয়াত। এমন দিনও দেখা যায়, যখন মুসলমানরা সুন্নাত ও বিদয়াতের সংমিশ্রণে এক জগাখিচুড়ী বিধানকেই ইসলামী আদর্শ বলে মনে করতে ও অনুসরণ করতে শুরু করে। ফলে তাদের জীবনে আসে সার্বিক ভাঙন ও বিপর্যয়। বর্তমান সময় সে বিপর্যস্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতিই গ্রাস করেছে সমগ্র বিশ্বমুসলিমকে।
কিন্তু এ অবস্থা বাঞ্চনীয় নয় মুসলমানদের জন্য। কারো পক্ষেই কাম্য হতে পারেনা এ আদর্শের বিচ্যূতি। এজন্য আজ নতুন করে লোকদের সামনে ইসলামী আদর্শবাদের ব্যাপক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ অপরিহার্য্য, যেন মুসলমানদের মনে চেতনা জেগে উঠে, উদ্দীপ্ত হয়ে উঠে তাদের অবস্থার পরিবর্তনের পুনর্জাগরণের এবং নতুন করে আদর্শবাদী হয়ে উঠার এক উদগ্র বাসনা। এ পর্যায়ে আমার ক্ষুদ্র লেখনী-শক্তি যতোটুকু কাজ করেছে, তার মধ্যে বর্তমান গ্রন্থ একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সুন্নাত ও বিদয়াতের মৌলিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এবং আকীদা বিশ্বাসে, জীবনে ও সমাজে কোথায় কোথায় সুন্নাত থেকে বিচ্যূতি আর বিদয়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তা স্পষ্ট করে তুলে ধরাই আমার এ গ্রন্থ রচনার মূলে একমাত্র উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য কতখানি সফল হয়েছে কিংবা আদৌ তা সাফল্যের দাবি করতে পারি কিনা পাঠকবর্গ-ই তা বিবেচনা করবেন। আমার বক্তব্য শুধু এতটুকু যে, যা কিছু লিখেছি গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করে বুঝে শুনে লিখেছি, সঠিক কথা সুস্পষ্টভাবে পেশ করার জন্যই লিখেছি, লিখেছি কুরআন-হাদীস, ফিকাহ ও সর্বজনমান্য মনীষীদের মতামতের ভিত্তিতে। এ বইয়ে আলোচিত মতামতের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি-ই দায়ী এবং যদি কাউকে দায়ী করতে হয় সেজন্য কেবল আমাকেই দায়ী করা যেতে পারে, অন্য কাউকে নয়। এ আলোচনায় আমি কোন ভুল করে থাকলে, কারো দোহাই দিয়ে নয়, কুরআন-হাদীসের ভিত্তিতেই আমার ভুল ধরিয়ে দেয়া যেতে পারে। এ ধরণের যে কোনো ভুলের সংশোধন করে নিতে আমি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
এতদসত্ত্বেও আমার এ প্রচেষ্টা যদি আদর্শকে সমুজ্জল করে তোলবার এবং বিদয়াতের অন্ধকার বিদূরণে সামান্য কাজও করতে সক্ষম হয় তাহলে আমার শ্রম সার্থক মনে করবো এবং তাকে পরকালে আল্লাহর নিকট মুক্তিলাভের অসীলারূপে মনে করে তাঁর শোকরিয়া আদায় করবো।
মুহাম্মাদ আবদুর রহীম