hadith book logo

ধৈর্য-সবর কখন ও কিভাবে

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

হাদীসটি থেকে শিক্ষা ও মাসায়েলঃ

১- কবরের কাছে কান্নাকাটি করা মোটেও উচিত নয়। এটা ধৈর্যের পরিপন্থী। তবে নীরবে চোখে পানি আসলে তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু আহাজারী, চিৎকার, শব্দ করে কান্নাকাটি করা উচিত নয়। যেমন হাদীসে এসেছেঃ -

عن أنس رضى الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : كنت نهيتكم عن زيارة القبور، ألا فزورها فإنها ترق القلب وتدمع العين وتذكر الآخرة، ولا تقولوا هجراً . صحيح الجامع رقم ৪৫৮৪

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, হ্যাঁ এখন তোমরা কবর যিয়ারত করবে। কারণ কবর যিয়ারত হৃদয়কে কোমল করে, নয়নকে অশ্রুসিক্ত করে ও পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে তোমরা শোক ও বেদনা প্রকাশ করতে সেখানে কিছু বলবে না।’’

সহীহ আল-জামে হাদীস নং ৪৫৮৪

২- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো ব্যাপারে নসীহত করতে কৃপণতা করেননি। যেমন তিনি মসজিদে, সমাবেশে মানুষকে নসীহত করেছেন। এমনিভাবে পথে-ঘাটে মানুষকে কোন অসঙ্গত কাজ করতে দেখলে বারণ করেছেন। উপদেশ দিয়েছেন। সঠিক পথটি বাতলে দিয়েছেন। সৎ কাজের আদেশ করেছেন। অন্যায় কাজে নিষেধ করেছেন।

৩- মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ হল, ‘আল্লাহকে ভয় কর।’

৪- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ধৈর্যের একটি দৃষ্টান্ত। মহিলাটিকে ভাল উপদেশ দেয়ার পরও সে রাসূলের সাথে অসঙ্গত কথা বলেছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কোন উত্তর দেননি। এমনকি মহিলাটি লজ্জা পাবে মনে করে নিজের পরিচয়টিও দেননি।

৫- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। কিন্তু তার বাড়ীতে কোন দারোয়ান ছিল না। যে কোন মানুষ তার সুখ-দুঃখের কথা যখন ইচ্ছা তখন, সরাসরি বলার জন্য তাঁর কাছে উপস্থিত হতে পারত।

৬- বিপদ আসার সাথে সাথেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অসংযত আচরণ থেকে বিরত থাকাটাই হল আসল ধৈর্য। বিপদ আসার পর হা-হুতোশ, আহাজারী করে বিপদ হাল্কা হয়ে যাওয়ার পরে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার নাম ধৈর্য নয়। এটাই এ হাদীসের মূল শিক্ষা। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছে, ‘প্রথম আঘাতের সময়-ই হল ধৈর্য।’

৭- মহিলাদের কবর যিয়ারতের বৈধতা প্রমাণিত হল এ হাদীস দিয়ে। এখানে আমরা দেখতে পাই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মহিলাকে বলেননি, তুমি কেন কবর যিয়ারত করতে আসলে? যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন, তখন এ নিষেধাজ্ঞা নারী পুরুষ সকলের জন্যই ছিল। আবার যখন কবর যিয়ারত করতে অনুমতি দিয়েছেন, তখন সে অনুমতি নারী পুরুষ সকলের জন্যই প্রযোজ্য। উপরের হাদীসে বর্ণিত কবর যিয়ারতের অনুমতির যে সকল কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তা যেমন পুরুষের জন্য প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নারীরও। তাই নারীদের জন্য কবর যিয়ারত করার অনুমতি আছে, যেমন আছে জানাযার নামাজে তাদের অংশ গ্রহণের অনুমতি।