hadith book logo

ধৈর্য-সবর কখন ও কিভাবে

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬

হাদীসটি থেকে শিক্ষা ও মাসায়েলঃ

১- শাসক শ্রেণীর সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম সাহসী ছিলেন। ইসলামী রাষ্ট্রে অবাধ বাক-স্বাধীনতা ছিল। তারা শাসকদের থেকে কোন অন্যায় করা হয়েছে মনে করলে তার প্রতিবাদ করতে ভয় করতেন না। এ ধরণের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অসংখ্য। স্বাধীনতার ব্যবহার ও তা ভোগ করার সভ্যতা যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে তখন রোম ও পারস্য সম্রাটরা কথায় কথায় মানুষের গর্দান উড়িয়ে দিত। তাদের সম্পর্কে পিছনে বসেও কেহ এ ধরনের কথা বলার বিষয় কল্পনা করতে পারত না।

২- এমনিভাবে সাহাবায়ে কেরাম শাসকদের যথাযথ উপদেশ ও ইসলামী দিকনির্দেশনা দিতে কোন রকম ভয় করতেন না বা তোষামোদের আশ্রয় নিতেন না।

৩- কুরআনের আদেশের সামনে উমার রা. কিভাবে নিজেকে সমর্পন করলেন। এ আয়াত শোনার পর তিনি এর উপর আমল করলেন। নিজের পক্ষ থেকে ভিন্ন কোন ব্যাখ্যা দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেন না। তাকে শাস্তি দিলেন না বা কোন তিরস্কার করলেন না। এটা কুরআনের প্রতি তার যেমন গভীর আগ্রহের প্রকাশ তেমনি তার ধৈর্যের পরিচয়। তিনি তখন অর্ধ জাহানের শাসক। ইচ্ছে করলে উআইনাকে শাস্তি দিতে পারতেন। কেহ তার উপর কতৃত্বশীল ছিল না। তা সত্বেও তিনি তাকে শাস্তি না দিয়ে নিজের ধৈর্য ও সবরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

৪- যে ব্যক্তি আল-কুরআনের উদ্ধৃতি দিলেন, তার প্রতি তিনি শ্রদ্ধা দেখালেন। তাকে বললেন না যে, তুমি কী আমার চেয়ে কুরআন বেশী বুঝ?

৫- বয়স ও পদে বা শিক্ষা-দীক্ষায় যে বড়, তাকে ছোটরা নসীহত করতে পারে। উপদেশ দিতে পারে। তেমনি পারে ভুল ধরিয়ে দিতে। এটা ইসলামে কোন দোষের বিষয় নয় বরং প্রশংসিত বিষয়।