১
ধৈর্য-সবর কখন ও কিভাবে
লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮
হাদীসটি থেকে শিক্ষা ও মাসায়েলঃ
১- দীনে ইসলামের উপর চলতে গেলে এ পথে মানুষকে আহবান করতে গেলে কাফেরদের পক্ষ থেকে জুলুম অত্যাচার আসবে। এটা সকল যুগেই এসেছে। আজ পর্যন্ত তা অব্যাহত আছে। এ সকল জুলুম নির্যাতনের মুখে ধৈর্য ধারণ করা হল ঈমানের দাবী। কোন রকম অধৈর্য প্রকাশ করা ঠিক হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُواْ الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْاْ مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاء وَالضَّرَّاء وَزُلْزِلُواْ حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللّهِ أَلا إِنَّ نَصْرَ اللّهِ قَرِيبٌ [ البقرة (214) ] .
‘‘তোমরা কি ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের নিকট তাদের মত কিছু আসেনি, যারা তোমাদের পূর্বে বিগত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিল। এমনিক রাসূল ও তার সাথি মুমিনগণ বলছিল, ‘কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।’’
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২১৪
২- কাফেরদের জুলুম অত্যাচারের মুখে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য চেয়ে আল্লাহর কাছে দুআ-প্রার্থনা করা ধৈর্যের বিরোধী নয়। এ হাদীসে দুআ প্রার্থনা করতে অনুৎসাহিত করা হয়নি। বরং ধৈর্যের পরিপন্থী কোন কাজ করতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ খাববাব ইবনুল আরত কিছুটা অধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। একজন নবী বা রাসূল সর্বদা উম্মাতের কল্যাণ ও মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দুআ-প্রার্থনা করে থাকেন। তাকে আবার দুআ করার জন্য বলা মানে আমরা আর সবর করতে পারছি না। আপনি কিছু একটা করেন।
৩- অত্যাচারী শাসকরা সর্বদা ইসলাম অনুসারীদের বিরুদ্ধে পাশবিক ও বর্বর অত্যাচার চালিয়েছে। ইসলামকে তারা সর্বদা নিজেদের জন্য হুমকি মনে করেছে। বর্তমান সময়টাও এর থেকে কিছুমাত্র ব্যতিক্রম নয়। দুনিয়ার সকল অত্যাচারী শাসক গোষ্ঠী ইসলামকে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে। ইসলাম অনুসারীদের বিরুদ্ধে তাদের বর্বরতার দুটো চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ হাদীসে।
৪-এ হাদীসে গর্ত জ্বালিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ও করাত দিয়ে হত্যা করে নির্যাতনের যে কথা এসেছে সেটি এ পরিচ্ছেদের ত্রিশ নং হাদীসটিতে বর্ণিত ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যা সূরা আল-বুরুজে আসহাবুল উখদুদ নামে আলোচিত।
৫- মানুষকে শিক্ষা দেয়ার জন্য ইতিহাস আলোচনার গুরুত্ব প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ হাদীসে ইতিহাস আলোচনা করেছেন। আল্লাহ রাববুল আলামীনও আল-কুরআনে ইতিহাস আলোচনা করেছেন ও ইতিহাস আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
৬- যদি সমাজে দীনে ইসলাম পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এমন নিারপদ পরিবেশ তৈরী হবে যেমনটি এ হাদীসে বলা হয়েছে। একজন আরোহী একাকী ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে সুদূর হাজরামাউত পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবে কিন্তু তার কোন চোর-ডাকাতের ভয় থাকবে না। সে কখনো নিরাপত্তাহীনতায় পতিত হবে না।
৭- ইসলাম মানুষের জান মালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। মানুষের জান মালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের দাবী।
৮- ইসলাম অনুসারীদের ত্যাগ ও ধৈর্যের কারণে আল্লাহ ইসলামকে সাহায্য করেন। ইসলাম অনুসারীদের প্রতিষ্ঠিত করেন। মুসলমানরা যখন ত্যাগ ও ধৈর্য পরিহার করবে, অমুসলিমদের পক্ষ থেকে জুলুম অত্যাচার শুরুর আগেই তাদের ভয়ে তাদের কাছে মাথা নত করে দেবে, তখন ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় সুদুর পরাহত হয়েই থাকবে।
৯- কোন বিষয়ে তাড়াহুড়া করা ধৈর্য ও সবরের পরিপন্থী। এ হাদীসে তাড়াহুড়া না করার জন্য বলা হয়েছে। যে সকল মুসলিম নেতারা কাফেরদের ভয়ে নিজ দেশের সবকিছু তাদের সামনে কুরবানী করে দেয় তারা অবশ্য তাড়াহুড়াকারী দলের প্রথম সারির মানুষ। আল্লাহ তাআলা তাদের সুপথে পরিচালিত করুন!
১০- সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম কায়েম হলে তার প্রভাব পশু পাখির উপরও পড়ে। তারাও তখন সভ্য ও ভদ্র হয়ে যায়। মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ক্ষতির কারণ হয় না।
১১- কাবা চত্বরে শয়ন করা জায়েয।
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُواْ الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْاْ مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاء وَالضَّرَّاء وَزُلْزِلُواْ حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللّهِ أَلا إِنَّ نَصْرَ اللّهِ قَرِيبٌ [ البقرة (214) ] .
‘‘তোমরা কি ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের নিকট তাদের মত কিছু আসেনি, যারা তোমাদের পূর্বে বিগত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিল। এমনিক রাসূল ও তার সাথি মুমিনগণ বলছিল, ‘কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।’’
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২১৪
২- কাফেরদের জুলুম অত্যাচারের মুখে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য চেয়ে আল্লাহর কাছে দুআ-প্রার্থনা করা ধৈর্যের বিরোধী নয়। এ হাদীসে দুআ প্রার্থনা করতে অনুৎসাহিত করা হয়নি। বরং ধৈর্যের পরিপন্থী কোন কাজ করতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ খাববাব ইবনুল আরত কিছুটা অধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। একজন নবী বা রাসূল সর্বদা উম্মাতের কল্যাণ ও মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দুআ-প্রার্থনা করে থাকেন। তাকে আবার দুআ করার জন্য বলা মানে আমরা আর সবর করতে পারছি না। আপনি কিছু একটা করেন।
৩- অত্যাচারী শাসকরা সর্বদা ইসলাম অনুসারীদের বিরুদ্ধে পাশবিক ও বর্বর অত্যাচার চালিয়েছে। ইসলামকে তারা সর্বদা নিজেদের জন্য হুমকি মনে করেছে। বর্তমান সময়টাও এর থেকে কিছুমাত্র ব্যতিক্রম নয়। দুনিয়ার সকল অত্যাচারী শাসক গোষ্ঠী ইসলামকে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে। ইসলাম অনুসারীদের বিরুদ্ধে তাদের বর্বরতার দুটো চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ হাদীসে।
৪-এ হাদীসে গর্ত জ্বালিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ও করাত দিয়ে হত্যা করে নির্যাতনের যে কথা এসেছে সেটি এ পরিচ্ছেদের ত্রিশ নং হাদীসটিতে বর্ণিত ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যা সূরা আল-বুরুজে আসহাবুল উখদুদ নামে আলোচিত।
৫- মানুষকে শিক্ষা দেয়ার জন্য ইতিহাস আলোচনার গুরুত্ব প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ হাদীসে ইতিহাস আলোচনা করেছেন। আল্লাহ রাববুল আলামীনও আল-কুরআনে ইতিহাস আলোচনা করেছেন ও ইতিহাস আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
৬- যদি সমাজে দীনে ইসলাম পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এমন নিারপদ পরিবেশ তৈরী হবে যেমনটি এ হাদীসে বলা হয়েছে। একজন আরোহী একাকী ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে সুদূর হাজরামাউত পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবে কিন্তু তার কোন চোর-ডাকাতের ভয় থাকবে না। সে কখনো নিরাপত্তাহীনতায় পতিত হবে না।
৭- ইসলাম মানুষের জান মালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। মানুষের জান মালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের দাবী।
৮- ইসলাম অনুসারীদের ত্যাগ ও ধৈর্যের কারণে আল্লাহ ইসলামকে সাহায্য করেন। ইসলাম অনুসারীদের প্রতিষ্ঠিত করেন। মুসলমানরা যখন ত্যাগ ও ধৈর্য পরিহার করবে, অমুসলিমদের পক্ষ থেকে জুলুম অত্যাচার শুরুর আগেই তাদের ভয়ে তাদের কাছে মাথা নত করে দেবে, তখন ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় সুদুর পরাহত হয়েই থাকবে।
৯- কোন বিষয়ে তাড়াহুড়া করা ধৈর্য ও সবরের পরিপন্থী। এ হাদীসে তাড়াহুড়া না করার জন্য বলা হয়েছে। যে সকল মুসলিম নেতারা কাফেরদের ভয়ে নিজ দেশের সবকিছু তাদের সামনে কুরবানী করে দেয় তারা অবশ্য তাড়াহুড়াকারী দলের প্রথম সারির মানুষ। আল্লাহ তাআলা তাদের সুপথে পরিচালিত করুন!
১০- সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম কায়েম হলে তার প্রভাব পশু পাখির উপরও পড়ে। তারাও তখন সভ্য ও ভদ্র হয়ে যায়। মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ক্ষতির কারণ হয় না।
১১- কাবা চত্বরে শয়ন করা জায়েয।