hadith book logo

ধৈর্য-সবর কখন ও কিভাবে

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৮

হাদীসটি থেকে শিক্ষা ও মাসায়েলঃ

১- এ হাদীসে আসারাতুন বা প্রাধান্য গ্রহণকারী মানুষ বলতে সে সকল শাসক, সরকার ও কর্মকর্তাদের বুঝানো হয়েছে, যারা জনগনের সম্পদ-কে যথেচ্ছা ভোগ করে, অপচয় করে, নিজের জন্য নিজের গোষ্ঠির জন্য বা নিজের দলের জন্য খরচ করে, বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে জনগনের সম্পদ ভোগ করে। জনগনের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য সঠিকভাবে আদায় করে না। রাজনৈতিক পরিভাষায় এদেরকে স্বৈরাচারী বলা হয়।

২- এ ধরনের মানুষ যখন দেশে ক্ষমতায় থাকবে যাদের মানুষ অপছন্দ করে, তখন সাধারণ মানুষের কর্তব্য হবে সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব যথাযথ আদায় করা। এ সকল শাসকদের হটাতে অস্ত্র ধারণ না করা। তাদের আনুগত্য বর্জন না করা।

৩- এ ধরনের শাসকদের আমলে জনগন তাদের অধিকার বা পাওনা আদায় করতে কোন হাঙ্গামা, যুদ্ধ, বিশৃংখলা করবে না বরং তাদের অধিকার ও পাওনার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কাছেই প্রার্থনা করবে।

৪- এ ধরনের স্বৈরাচারী, সেচ্ছাচারী, দুর্নীতিপরায়ণ শাসকদের আমলে জনগনকে ধৈর্য ধারণ করার জন্য এ হাদীস দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।

৫- এ সংকটকালে জনগনের করণীয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত সংক্ষেপে অল্প কথায় ব্যাপক দিকনির্দেশনা দিলেন। বললেন, ‘‘তাদের পাওনা আদায় করো আর নিজেদের পাওনা আল্লাহর কাছে চাও।’’

৬- এ হাদীস যেমন নিজেদের দেশের শাসকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি তা গ্রোত্র, দল, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাদের সেচ্ছাচারীতার ক্ষেত্রেও অধীনস্থদের এ হাদীস অনুযায়ী আচরণ করতে হবে। তাদের আনুগত্য বজায় রাখতে হবে। নয়তো সর্বত্র বিশৃংখলা লেগে থাকবে। দেশ, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও অগ্রগতি থমকে যাবে, আর সবকিছু স্থবির হয়ে পড়বে।