১
সংক্ষেপিত ইযহারুল হক্ক
লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ আহমদ আব্দুল কাদির মালকাবী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
সংক্ষেপকের পূর্বকথন
প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্ত। আর সালাত ও সালাম উম্মী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর এবং তাঁর পরিবার-অনুসারী ও সহচরগণের উপর।
মহান আল্লাহর তাওফীকে আমি আল্লামা শাইখ রাহমাতুল্লাহ ইবনু খালীলুর রাহমান কিরানবী উসমানী হিন্দী রচিত ‘ইযহারুল হক্ক’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করি। সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি গ্রন্থকারের নিজের হস্তলিখিত ও তাঁর সামনে পঠিত দুটি সুবর্ণ পাণ্ডুলিপির উপর নির্ভর করি। আমার সম্পাদিত ইযহারুল হক্ক গ্রন্থটি চার খণ্ডে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৪১০ হিজরী অব্দে /১৯৮৯ খৃস্টাব্দে। সৌদী সরকারের রিয়াদস্থ ইলমী গবেষণা, ফাতওয়া, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় কার্যালয় তা প্রকাশ করে।
অনেক সহকর্মী আমাকে উদ্বুদ্ধ করেন যে, আমি যেন ‘‘ইযহারুল হক্ক’’ গ্রন্থটিকে সহজবোধ্য সরল ভাষায় সংক্ষেপ করে এক খণ্ডে প্রকাশ করি; যাতে গ্রন্থটি অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা সহজ হয়। বিশ্বব্যাপী খৃস্টান মিশনারি ও প্রচারকগণ ইসলামের বিরুদ্ধে যে সকল অপপ্রচার চালাচ্ছেন তার প্রতিরোধে সংক্ষেপিত গ্রন্থটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশা করেন। কিন্তু আমার কয়েকটি গ্রন্থ মুদ্রণের বিষয়ে আমার ব্যস্ততা তাদের এ অনুরোধ বাস্তবায়নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
এমতাবস্থায় সৌদি সরকারের ইসলামী কর্মকান্ড, ওয়াক্ফ, দাওয়া ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-সচিব ড. আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ আল-যাইদ-এর পরামর্শ ও নির্দেশনা আমার সহকর্মীদের অনুপ্রেরণার সাথে সংযুক্ত হয়ে একে গতিশীল করে। তিনি আমাকে এ কর্মটি দ্রুত সম্পাদনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করেন। বিশেষত নতুন পরিস্থিতিতে ক্রুসেডারগণ বিশ্বব্যপী ইসলামের বিরুদ্ধে বৈরিতার প্রকাশ্য ঘোষণা দিচ্ছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে মুসলিম বিশ্বকে ধর্মান্তরিত করে খৃস্টান বানানোর বিষয়ে তাদের আগ্রহ সগৌরবে প্রকাশ করছে।
এ প্রেক্ষাপটে আমি এ সংক্ষেপিত গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য সক্রিয় হই। যদি কেউ এ গ্রন্থটি অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করতে চান তবে তার জন্য আমার অনুরোধ যে, বাইবেলের নতুন ও পুরাতন নিয়মের যে সকল উদ্ধৃতি এ গ্রন্থে প্রদান করা হয়েছে সেগুলি যেন তিনি তার নিজের মত করে অনুবাদ না করেন; বরং তার ভাষায় প্রচারিত ‘‘বাইবেল’’ থেকে উদ্ধৃত করেন।
এ সংক্ষেপিত গ্রন্থের মধ্যে আমি মূল গ্রন্থের বক্তব্য সুস্পষ্ট করার জন্য অতিরিক্ত কিছু তথ্য সংযোজন করেছি। যেমন, কোনো কোনো ঘটনার সন-তারিখ, কোনো কোনো ব্যক্তির মৃত্যু-সন উল্লেখ করেছি। যদি কোনো নাম দুভাবে লেখার প্রচলন থাকে বা কোনো শহরের প্রাচীন ও আধুনিক দুটি নাম থাকে তাহলে আমি দুটি নামই লিখেছি। যেক্ষেত্রে একই নামে দুটি শহর বিদ্যমান সেক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট শহরকে চিহ্নিত করেছি। কিছু পরিভাষা ব্যাখ্যা করেছি। বিষয়বস্তুর সহজবোধ্যতার জন্য খৃস্টীয় ও ইসলামী ঐতিহাসিক কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে কিছু তথ্য সংযোজন করেছি। অস্পষ্টতা দূর করে বিশুদ্ধ উচ্চারণ নিশ্চিত করতে কিছু শব্দে হরকত বা জের-জবর-পেশ ব্যবহার করেছি। মূল গ্রন্থে লেখকের নাম উল্লেখ না করে কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমি এ সকল গ্রন্থের লেখকদের নাম ও তাদের মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করেছি। বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়মের কিছু উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমি বিভিন্ন সংস্করণের ভাষ্য উল্লেখ করেছি। এছাড়া মূল গ্রন্থের কিছু তথ্য আমি আগে পিছে করে নতুন করে সাজিয়েছি; যেন পাঠকের জন্য অধিক সহজ ও উপযোগী হয় এবং তার চিন্তাধারা বিক্ষিপ্ত না হয়।
মূল ‘‘ইযহারুল হক্ক’’ গ্রন্থের প্রথম তিনটি অধ্যায় আমি একটি অধ্যায়ের মধ্যে সন্নিবেশিত করেছি। ফলে অধ্যায়টি ইয়াহূদী-খৃস্টানদের ধর্মগ্রন্থগুলির পরিচয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে তাদের গ্রন্থগুলির নাম, বিকৃতি ও রহিত হওয়া বিষয়ক বর্ণনা রয়েছে। আমার উদ্দেশ্য, যেন এ সংক্ষেপিত গ্রন্থটি মূল গ্রন্থের বিষয়বস্তু অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি পাঠকের জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণ বয়ে আনে।
সবশেষে মহান আল্লাহর তাওফীকের উপর নির্ভর করে বলছি, আল্লামা শাইখ রাহমাতুল্লাহ ইবনু খালীলুর রাহমান কীরানবী তাঁর মহামূল্যবান গ্রন্থ ‘‘ইযহারুল হক্ক’’ একটি ভূমিকা ও ছয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন। নিম্নে এ গ্রন্থের সার-সংক্ষেপ প্রদত্ত হলো।
ড. মুহাম্মাদ আহমদ আব্দুল কাদির মালকাবী
সহকারী অধ্যাপক
কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ
০১/০১/১৪১৫ হি./ ১০/০৬/১৯৯৪ খৃ.
মহান আল্লাহর তাওফীকে আমি আল্লামা শাইখ রাহমাতুল্লাহ ইবনু খালীলুর রাহমান কিরানবী উসমানী হিন্দী রচিত ‘ইযহারুল হক্ক’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করি। সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি গ্রন্থকারের নিজের হস্তলিখিত ও তাঁর সামনে পঠিত দুটি সুবর্ণ পাণ্ডুলিপির উপর নির্ভর করি। আমার সম্পাদিত ইযহারুল হক্ক গ্রন্থটি চার খণ্ডে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৪১০ হিজরী অব্দে /১৯৮৯ খৃস্টাব্দে। সৌদী সরকারের রিয়াদস্থ ইলমী গবেষণা, ফাতওয়া, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় কার্যালয় তা প্রকাশ করে।
অনেক সহকর্মী আমাকে উদ্বুদ্ধ করেন যে, আমি যেন ‘‘ইযহারুল হক্ক’’ গ্রন্থটিকে সহজবোধ্য সরল ভাষায় সংক্ষেপ করে এক খণ্ডে প্রকাশ করি; যাতে গ্রন্থটি অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা সহজ হয়। বিশ্বব্যাপী খৃস্টান মিশনারি ও প্রচারকগণ ইসলামের বিরুদ্ধে যে সকল অপপ্রচার চালাচ্ছেন তার প্রতিরোধে সংক্ষেপিত গ্রন্থটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশা করেন। কিন্তু আমার কয়েকটি গ্রন্থ মুদ্রণের বিষয়ে আমার ব্যস্ততা তাদের এ অনুরোধ বাস্তবায়নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
এমতাবস্থায় সৌদি সরকারের ইসলামী কর্মকান্ড, ওয়াক্ফ, দাওয়া ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-সচিব ড. আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ আল-যাইদ-এর পরামর্শ ও নির্দেশনা আমার সহকর্মীদের অনুপ্রেরণার সাথে সংযুক্ত হয়ে একে গতিশীল করে। তিনি আমাকে এ কর্মটি দ্রুত সম্পাদনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করেন। বিশেষত নতুন পরিস্থিতিতে ক্রুসেডারগণ বিশ্বব্যপী ইসলামের বিরুদ্ধে বৈরিতার প্রকাশ্য ঘোষণা দিচ্ছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে মুসলিম বিশ্বকে ধর্মান্তরিত করে খৃস্টান বানানোর বিষয়ে তাদের আগ্রহ সগৌরবে প্রকাশ করছে।
এ প্রেক্ষাপটে আমি এ সংক্ষেপিত গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য সক্রিয় হই। যদি কেউ এ গ্রন্থটি অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করতে চান তবে তার জন্য আমার অনুরোধ যে, বাইবেলের নতুন ও পুরাতন নিয়মের যে সকল উদ্ধৃতি এ গ্রন্থে প্রদান করা হয়েছে সেগুলি যেন তিনি তার নিজের মত করে অনুবাদ না করেন; বরং তার ভাষায় প্রচারিত ‘‘বাইবেল’’ থেকে উদ্ধৃত করেন।
এ সংক্ষেপিত গ্রন্থের মধ্যে আমি মূল গ্রন্থের বক্তব্য সুস্পষ্ট করার জন্য অতিরিক্ত কিছু তথ্য সংযোজন করেছি। যেমন, কোনো কোনো ঘটনার সন-তারিখ, কোনো কোনো ব্যক্তির মৃত্যু-সন উল্লেখ করেছি। যদি কোনো নাম দুভাবে লেখার প্রচলন থাকে বা কোনো শহরের প্রাচীন ও আধুনিক দুটি নাম থাকে তাহলে আমি দুটি নামই লিখেছি। যেক্ষেত্রে একই নামে দুটি শহর বিদ্যমান সেক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট শহরকে চিহ্নিত করেছি। কিছু পরিভাষা ব্যাখ্যা করেছি। বিষয়বস্তুর সহজবোধ্যতার জন্য খৃস্টীয় ও ইসলামী ঐতিহাসিক কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে কিছু তথ্য সংযোজন করেছি। অস্পষ্টতা দূর করে বিশুদ্ধ উচ্চারণ নিশ্চিত করতে কিছু শব্দে হরকত বা জের-জবর-পেশ ব্যবহার করেছি। মূল গ্রন্থে লেখকের নাম উল্লেখ না করে কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমি এ সকল গ্রন্থের লেখকদের নাম ও তাদের মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করেছি। বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়মের কিছু উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমি বিভিন্ন সংস্করণের ভাষ্য উল্লেখ করেছি। এছাড়া মূল গ্রন্থের কিছু তথ্য আমি আগে পিছে করে নতুন করে সাজিয়েছি; যেন পাঠকের জন্য অধিক সহজ ও উপযোগী হয় এবং তার চিন্তাধারা বিক্ষিপ্ত না হয়।
মূল ‘‘ইযহারুল হক্ক’’ গ্রন্থের প্রথম তিনটি অধ্যায় আমি একটি অধ্যায়ের মধ্যে সন্নিবেশিত করেছি। ফলে অধ্যায়টি ইয়াহূদী-খৃস্টানদের ধর্মগ্রন্থগুলির পরিচয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে তাদের গ্রন্থগুলির নাম, বিকৃতি ও রহিত হওয়া বিষয়ক বর্ণনা রয়েছে। আমার উদ্দেশ্য, যেন এ সংক্ষেপিত গ্রন্থটি মূল গ্রন্থের বিষয়বস্তু অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি পাঠকের জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণ বয়ে আনে।
সবশেষে মহান আল্লাহর তাওফীকের উপর নির্ভর করে বলছি, আল্লামা শাইখ রাহমাতুল্লাহ ইবনু খালীলুর রাহমান কীরানবী তাঁর মহামূল্যবান গ্রন্থ ‘‘ইযহারুল হক্ক’’ একটি ভূমিকা ও ছয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন। নিম্নে এ গ্রন্থের সার-সংক্ষেপ প্রদত্ত হলো।
ড. মুহাম্মাদ আহমদ আব্দুল কাদির মালকাবী
সহকারী অধ্যাপক
কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ
০১/০১/১৪১৫ হি./ ১০/০৬/১৯৯৪ খৃ.