১
সংক্ষেপিত ইযহারুল হক্ক
লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ আহমদ আব্দুল কাদির মালকাবী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৯
৩. ১. ২. ৩. বিষবস্তুর পুনরাবৃত্তি
তৃতীয় প্রশ্ন, তাওহীদ বা একত্ববাদ, আখিরাত বা পরজগতের কথা, নবীগণের কাহিনী ইত্যাদি বিষয় কুরআনে বারংবার উল্লেখ করা হলো কেন?
(১) পুনরাবৃত্তি বিষয়ের গুরুত্ব বুঝায়। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকলের জন্যই এ সকল বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবনে পুনরাবৃত্তির প্রভাব খুবই শক্তিশালী।
(২) কুরআনের অলৌকিকত্বের একটি দিক হলো সাহিত্যিক মান। এ সাহিত্যিক মানের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফিরদেরকে কুরআনের অনুরূপ কোনো বাণী বা বক্তব্য পেশ করার চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন। এদিক থেকে কাহিনীসমূহের পুনরাবৃত্তি কুরআনের অলৌকিকত্ব সুনিশ্চিত করে। কারণ একই কাহিনী কুরআনে কখনোই একই শব্দে ও বাক্যে পুনরাবৃত্তি করা হয় নি। সাধারণত মানুষ একই বিষয় বিভিন্ন ভাবে বললে সকল ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে পারে না, কিন্তু কুরআনে তা রক্ষা করা হয়েছে।
(৩) এরূপ পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কাফিরদের ওযরখাহির পথ রোধ করা হয়েছে। তারা বলতে পারত যে, যে বিষয়ে কুরআন আলোচনা করেছে সে বিষয়ের সবচেয়ে উন্নত শব্দ ও শৈলী কুরআন ব্যবহার করে ফেলেছে। এখন আমরা সে বিষয় অন্য শব্দে বললে একই মানের হবে না। অথবা তারা বলতে পারত যে, এক এক সাহিত্যিক একেক রচনাশৈলীতে অভ্যস্ত। কেউ দীর্ঘ বর্ণনায় অভ্যস্ত, কেউবা সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় অভ্যস্ত। কুরআন যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছে সে পদ্ধতিতে আমরা অভ্যস্ত নই, বরং আমরা অন্য পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। অথবা তারা বলতে পারত যে, গল্প-কাহিনী উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ভাষাশৈলী ও আলঙ্কারিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনের সুযোগ সীমিত। সৌভাগ্যক্রমে একবার কুরআন তা করতে পেরেছে। কিন্তু কুরআনে একই বিষয় বিভিন্ন শব্দে, বিভিন্ন রচনাশৈলীতে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করার কারণে তাদের এ সকল ওযরখাহির পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।
(৩) কাফির ও মুনাফিকগণ সদাসর্বদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট ও যাতনা প্রদান করত। এতে তিনি বেদনা অনুভব করতেন ও তাঁর অন্তর সংকুচিত হতো। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: ‘‘আমি তো জানি, তারা যা বলে তাতে তোমার অন্তর সংকুচিত হয়।’’ [সূরা : ১৫ হিজর, ৯৭ আয়াত।] এজন্য আল্লাহ তাঁর অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন সময়ে নবী-রাসূলদের কাহিনী বিভিন্ন আঙ্গিকে তাঁর নিকট ওহীর মাধ্যমে প্রেরণ করতেন। এতে তিনি প্রশান্তি ও প্রেরণা লাভ করতেন। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন: ‘‘রাসূলদের এ সকল বৃত্তান্ত তোমার নিকট বর্ণনা করছি, যদ্বারা আমি তোমার চিত্তকে দৃঢ় করি, এর মাধ্যমে তোমার নিকট এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য এসেছে উপদেশ ও সাবধান-বাণী।’’
(৫) মুসলিমগণও এভাবে কাফির ও মুনাফিকগণ কর্তৃক যাতনা ও কষ্ট পেতেন। এছাড়া অনেকে নতুন ইসলাম গ্রহণ করতেন। অনেক সময় কাফিরদেরকে সতর্ক করার দরকার হতো। এ সকল কারণে বিভিন্ন সময়ে একই বিষয় বিভিন্ন আঙ্গিকে নাযিল করা হয়েছে। একই গল্পের মধ্যে অনেক বিষয় থাকে। কুরআনে একই কাহিনী যখন বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এভাবে প্রত্যেক স্থানের আলোচনায় নতুন শিক্ষা রয়েছে। [কুরআন শুধু ধর্মগুরু বা তাত্ত্বিকদের জন্য ‘নিয়মপুস্তক’ নয়। উপরন্তু তা প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য সহজলভ্য আত্মিক প্রেরণার মূল উৎস। প্রত্যেক বিশ্বাসীই তা নিয়মিত পাঠ করবেন। সালাতের মধ্যে, সালাতের বাইরে, মুখস্থ অথবা দেখে দেখে তিনি পাঠ করবেন। যেখান থেকেই কিছুটা তিনি পাঠ করেন সেখানেই তিনি বিভিন্ন প্রকারের আত্মিক প্রেরণা ও শিক্ষা লাভ করেন। যদি প্রত্যেক ঘটনা বা বিষয় একবার মাত্র এক স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হতো, তবে সকল বিশ্বাসীর পক্ষে এভাবে বিভিন্ন প্রকার প্রেরণা লাভ করা সহজ হতো না। আর কুরআনে একই বিষয়ে একাধিকবার বলা হলে দুই স্থানে একই কথা বলা হয় নি, বরং শব্দ, বাক্য ও অর্থের ভিন্নতার মধ্য দিয়ে নতুন প্রেরণার সৃষ্টি করা হয়েছে। এজন্য যিনি পুরো কুরআন পাঠ করেন তিনিও হৃদয়ে নতুন নতুন প্রেরণা অনুভব করেন।]
(১) পুনরাবৃত্তি বিষয়ের গুরুত্ব বুঝায়। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকলের জন্যই এ সকল বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবনে পুনরাবৃত্তির প্রভাব খুবই শক্তিশালী।
(২) কুরআনের অলৌকিকত্বের একটি দিক হলো সাহিত্যিক মান। এ সাহিত্যিক মানের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফিরদেরকে কুরআনের অনুরূপ কোনো বাণী বা বক্তব্য পেশ করার চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন। এদিক থেকে কাহিনীসমূহের পুনরাবৃত্তি কুরআনের অলৌকিকত্ব সুনিশ্চিত করে। কারণ একই কাহিনী কুরআনে কখনোই একই শব্দে ও বাক্যে পুনরাবৃত্তি করা হয় নি। সাধারণত মানুষ একই বিষয় বিভিন্ন ভাবে বললে সকল ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে পারে না, কিন্তু কুরআনে তা রক্ষা করা হয়েছে।
(৩) এরূপ পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কাফিরদের ওযরখাহির পথ রোধ করা হয়েছে। তারা বলতে পারত যে, যে বিষয়ে কুরআন আলোচনা করেছে সে বিষয়ের সবচেয়ে উন্নত শব্দ ও শৈলী কুরআন ব্যবহার করে ফেলেছে। এখন আমরা সে বিষয় অন্য শব্দে বললে একই মানের হবে না। অথবা তারা বলতে পারত যে, এক এক সাহিত্যিক একেক রচনাশৈলীতে অভ্যস্ত। কেউ দীর্ঘ বর্ণনায় অভ্যস্ত, কেউবা সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় অভ্যস্ত। কুরআন যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছে সে পদ্ধতিতে আমরা অভ্যস্ত নই, বরং আমরা অন্য পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। অথবা তারা বলতে পারত যে, গল্প-কাহিনী উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ভাষাশৈলী ও আলঙ্কারিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শনের সুযোগ সীমিত। সৌভাগ্যক্রমে একবার কুরআন তা করতে পেরেছে। কিন্তু কুরআনে একই বিষয় বিভিন্ন শব্দে, বিভিন্ন রচনাশৈলীতে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করার কারণে তাদের এ সকল ওযরখাহির পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।
(৩) কাফির ও মুনাফিকগণ সদাসর্বদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট ও যাতনা প্রদান করত। এতে তিনি বেদনা অনুভব করতেন ও তাঁর অন্তর সংকুচিত হতো। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: ‘‘আমি তো জানি, তারা যা বলে তাতে তোমার অন্তর সংকুচিত হয়।’’ [সূরা : ১৫ হিজর, ৯৭ আয়াত।] এজন্য আল্লাহ তাঁর অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন সময়ে নবী-রাসূলদের কাহিনী বিভিন্ন আঙ্গিকে তাঁর নিকট ওহীর মাধ্যমে প্রেরণ করতেন। এতে তিনি প্রশান্তি ও প্রেরণা লাভ করতেন। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন: ‘‘রাসূলদের এ সকল বৃত্তান্ত তোমার নিকট বর্ণনা করছি, যদ্বারা আমি তোমার চিত্তকে দৃঢ় করি, এর মাধ্যমে তোমার নিকট এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য এসেছে উপদেশ ও সাবধান-বাণী।’’
(৫) মুসলিমগণও এভাবে কাফির ও মুনাফিকগণ কর্তৃক যাতনা ও কষ্ট পেতেন। এছাড়া অনেকে নতুন ইসলাম গ্রহণ করতেন। অনেক সময় কাফিরদেরকে সতর্ক করার দরকার হতো। এ সকল কারণে বিভিন্ন সময়ে একই বিষয় বিভিন্ন আঙ্গিকে নাযিল করা হয়েছে। একই গল্পের মধ্যে অনেক বিষয় থাকে। কুরআনে একই কাহিনী যখন বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এভাবে প্রত্যেক স্থানের আলোচনায় নতুন শিক্ষা রয়েছে। [কুরআন শুধু ধর্মগুরু বা তাত্ত্বিকদের জন্য ‘নিয়মপুস্তক’ নয়। উপরন্তু তা প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য সহজলভ্য আত্মিক প্রেরণার মূল উৎস। প্রত্যেক বিশ্বাসীই তা নিয়মিত পাঠ করবেন। সালাতের মধ্যে, সালাতের বাইরে, মুখস্থ অথবা দেখে দেখে তিনি পাঠ করবেন। যেখান থেকেই কিছুটা তিনি পাঠ করেন সেখানেই তিনি বিভিন্ন প্রকারের আত্মিক প্রেরণা ও শিক্ষা লাভ করেন। যদি প্রত্যেক ঘটনা বা বিষয় একবার মাত্র এক স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হতো, তবে সকল বিশ্বাসীর পক্ষে এভাবে বিভিন্ন প্রকার প্রেরণা লাভ করা সহজ হতো না। আর কুরআনে একই বিষয়ে একাধিকবার বলা হলে দুই স্থানে একই কথা বলা হয় নি, বরং শব্দ, বাক্য ও অর্থের ভিন্নতার মধ্য দিয়ে নতুন প্রেরণার সৃষ্টি করা হয়েছে। এজন্য যিনি পুরো কুরআন পাঠ করেন তিনিও হৃদয়ে নতুন নতুন প্রেরণা অনুভব করেন।]