hadith book logo

সংক্ষেপিত ইযহারুল হক্ক

লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ আহমদ আব্দুল কাদির মালকাবী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯০

উপসংহার:

আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাকে এ সংক্ষেপিত গ্রন্থটি সমাপ্ত করার তাওফীক প্রদান করেছেন। আমার অনেক ভাই ‘‘ইযহারুল হক্ক’’ গ্রন্থের সংক্ষেপ প্রকাশের মহান দায়িত্ব পালনের জন্য আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থন করছি, এ গ্রন্থের মাধ্যমে তারা যে আশা করেছিলেন তা যেন মহান আল্লাহ পূরণ করেন। আমি মহান আল্লাহর দরবারে আরো প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন গ্রন্থটির দ্বারা সত্য-সন্ধানী পাঠককে উপকৃত করেন।

সম্মানিত পাঠক, এ গ্রন্থ থেকে আপনি ‘‘পবিত্র বাইবেল’’ বা ‘‘কিতাবুল মুকাদ্দাস’’-এর পুরাতন ও নতুন নিয়মের গ্রন্থগুলির প্রকৃত অবস্থা জানতে পেরেছেন। এ গ্রন্থ প্রমাণ করেছে যে, ইয়াহূদী-খৃস্টানগণের নিকট পুরাতন ও নতুন নিয়মের কোনো একটি পুস্তকেরও কোনো অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা-সূত্র নেই। আসমানী কিতাব বা ওহীলব্ধ গ্রন্থ হওয়ার কোনো বৈশিষ্ট্য এ গ্রন্থগুলির মধ্যে নেই। উপরন্তু গ্রন্থগুলির বৈপরীত্য, পরস্পর বিরোধী সাংঘর্ষিক বক্তব্য, ভুলভ্রান্তি ও বিকৃতিতে পরিপূর্ণ।

এছাড়া এ গ্রন্থ প্রমাণ করেছে যে, ত্রিত্ববাদ এবং যীশুখৃস্টের ঈশ্বরত্বের মতবাদ বাতিল ও ভিত্তিহীন। এ গ্রন্থ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে, যীশুখৃস্ট আল্লাহর সৃষ্ট একজন মানুষ ছিলেন এবং তিনি আল্লাহর দাস (বান্দা) ও প্রেরিত (রাসূল) ছিলেন।

খৃস্টান মিশনারি, প্রচারক ও প্রাচ্যবিদগণ কুরআন কারীম ও হাদীস শরীফের বিরুদ্ধে যে সকল অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি উত্থাপন ও প্রচার করেন সেগুলি এ গ্রন্থে জ্ঞানবৃত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করা হয়েছে। অসংখ্য অকাট্য দলিল প্রমাণ করে যে, কুরআন কারীম মহান আল্লাহর বাণী, যা তিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ করেন।

আমরা দেখেছি যে, ইয়াহূদী-খৃস্টানগণের ধর্মগ্রন্থগুলি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। এ সকল গ্রন্থের বিকৃতি সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত অনেক ভবিষ্যদ্বাণী এগুলির মধ্যে বিদ্যমান, সেগুলির সত্যতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নুবুওয়াত ছাড়া অন্য কোনোভাবে বাস্তবায়িত হয় না। ‘‘বাইবেলের’’ অনেক বক্তব্যই অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য নবী ছিলেন এবং তিনি জগৎসমূহের জন্য প্রেরিত রাসূল ছিলেন।

সুপ্রিয় বিজ্ঞ পাঠক, আসুন আমরা হটকারিতা, জিদ ও গোঁড়ামি পরিত্যাগ করে নিজেদের মুক্তির জন্য সেই দ্বীনকে বাছাই করি, যা মহান আল্লাহ সকল মানুষের জন্য পছন্দ করেছেন। তিনি বলেছেন: ‘‘নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন।’’

হে আল্লাহ, আমাদেরকে বিভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে রক্ষা করুন। আর আমাদের শেষ বক্তব্য এই যে, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর নিমিত্ত।