১
সংক্ষেপিত ইযহারুল হক্ক
লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ আহমদ আব্দুল কাদির মালকাবী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৮
৩. ১. ২. ২. ক্রমান্বয়ে অবতরণ
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, কুরআন একবারে একত্রে অবর্তীণ না হয়ে অল্প অল্প করে বিভিন্ন সময়ে অবতীর্ণ হলো কেন?
এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলে বুঝা যায়:
(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ও তার যুগের অধিকাংশ মানুষ ছিলেন উম্মী বা নিরক্ষর। একবারে পুরো কুরআন অবতীর্ণ হলে সে যুগের মানুষদের জন্য একবারে তা নির্ভুলভাবে মুখস্থ করা কষ্টকর হয়ে যেত। হয়তবা তারা মুখস্থ ও কণ্ঠস্থ করার ব্যাপারে ঢিলেমি করে লিখিত পাণ্ডুলিপির উপরেই বেশি নির্ভর করতেন। এতে কুরআনের নির্ভুল সংরক্ষণ ব্যাহত হতো। অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে সাহাবীগণ অতি সহজে পুরো কুরআন ক্রমান্বয়ে মুখস্থ করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা তা লিখে রাখলেও সেই প্রথম যুগ থেকেই কুরআন হৃদয়ে ধারণ ও মুখস্থ করার রীতি মুসলিম জাতির মধ্যে স্থায়িত্ব লাভ করেছে।
(২)কুরআনের অনেক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে বিশেষ প্রেক্ষাপটে, বিশেষ সমস্যার সমাধানে, বিশেষ প্রশ্নের উত্তরে বা বিশেষ বিধান বর্ণনায়। যদি তা একবারে অবতীর্ণ হতো তাহলে এ সকল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতের সম্পৃক্তি বা সংশ্লিষ্টতা অত সহজে বোধগম্য হতো না। ক্রমান্বয়ে অবর্তীণ হওয়াতে এর প্রভাব বেশি হয়েছে এবং অনুধাবন সহজতর হয়েছে।
(৩) কুরআন একবারে অবতীর্ণ হলে ইসলামের সকল বিধানই একত্রে অবতীর্ণ হতো, এতে ইসলামের বিধিবিধান পালন করা তৎকালীন সমাজের নওমুসলিমদের জন্য কষ্টকর হয়ে যেত। অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হওয়ার ফলে, বিশেষত আদেশ নিষেধ ও কর্ম জাতীয় বিধানাবলি অল্প অল্প করে ক্রমান্বয়ে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে তা পালন করা সহজ হয়।
(৪) এভাবে বিভিন্ন সময়ে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝেই জিবরীল আলাইহিস সালাম-কে দেখতে পেতেন। এতে তাঁর অন্তকরণ তৃপ্তি ও দৃঢ়তা লাভ করত। নবুয়তের দায়িত্ব পালনে ধৈর্যধারণের ও মানুষদের দেওয়া কষ্ট মেনে নেওয়ার প্রেরণা নবায়িত হতো।
(৫) কুরআন এভাবে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হওয়ায় কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণ আরো বেশি জোরদার হয়েছে। কুরআন অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রথম থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। প্রতিবারে অবতীর্ণ কুরআনই তাদের প্রতি নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। প্রতিবারেই তারা অপারগ হয়েছে। এভাবে তাদের অসহায়ত্ব ও পরাজয় বারংবার প্রমাণিত হয়েছে। আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রতিবারের ছোট্ট অংশের অনুকরণে যখন তারা অক্ষম হয়েছে, তখন পূর্ণ কুরআনের অনুকরণ তাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। [একবারে লেখা একটি বইয়ের সাহিত্যিক মান ও তথ্যের সমন্বয় রক্ষা করা যেভাবে সম্ভব, দীর্ঘ সময়ে বিক্ষিপ্তভাবে লেখা একটি বইয়ে তা সম্ভন নয়। কিন্তু কুরআন এভাবে অবতীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তার অলৌকিক ভাষাশৈলী ও তথ্যের সমন্বয় রক্ষিত হয়েছে। বিষয়টি তার অলৌকিকত্ব আরো জোরালোভাবে প্রমাণ করে।]
এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলে বুঝা যায়:
(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ও তার যুগের অধিকাংশ মানুষ ছিলেন উম্মী বা নিরক্ষর। একবারে পুরো কুরআন অবতীর্ণ হলে সে যুগের মানুষদের জন্য একবারে তা নির্ভুলভাবে মুখস্থ করা কষ্টকর হয়ে যেত। হয়তবা তারা মুখস্থ ও কণ্ঠস্থ করার ব্যাপারে ঢিলেমি করে লিখিত পাণ্ডুলিপির উপরেই বেশি নির্ভর করতেন। এতে কুরআনের নির্ভুল সংরক্ষণ ব্যাহত হতো। অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে সাহাবীগণ অতি সহজে পুরো কুরআন ক্রমান্বয়ে মুখস্থ করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা তা লিখে রাখলেও সেই প্রথম যুগ থেকেই কুরআন হৃদয়ে ধারণ ও মুখস্থ করার রীতি মুসলিম জাতির মধ্যে স্থায়িত্ব লাভ করেছে।
(২)কুরআনের অনেক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে বিশেষ প্রেক্ষাপটে, বিশেষ সমস্যার সমাধানে, বিশেষ প্রশ্নের উত্তরে বা বিশেষ বিধান বর্ণনায়। যদি তা একবারে অবতীর্ণ হতো তাহলে এ সকল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতের সম্পৃক্তি বা সংশ্লিষ্টতা অত সহজে বোধগম্য হতো না। ক্রমান্বয়ে অবর্তীণ হওয়াতে এর প্রভাব বেশি হয়েছে এবং অনুধাবন সহজতর হয়েছে।
(৩) কুরআন একবারে অবতীর্ণ হলে ইসলামের সকল বিধানই একত্রে অবতীর্ণ হতো, এতে ইসলামের বিধিবিধান পালন করা তৎকালীন সমাজের নওমুসলিমদের জন্য কষ্টকর হয়ে যেত। অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হওয়ার ফলে, বিশেষত আদেশ নিষেধ ও কর্ম জাতীয় বিধানাবলি অল্প অল্প করে ক্রমান্বয়ে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে তা পালন করা সহজ হয়।
(৪) এভাবে বিভিন্ন সময়ে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝেই জিবরীল আলাইহিস সালাম-কে দেখতে পেতেন। এতে তাঁর অন্তকরণ তৃপ্তি ও দৃঢ়তা লাভ করত। নবুয়তের দায়িত্ব পালনে ধৈর্যধারণের ও মানুষদের দেওয়া কষ্ট মেনে নেওয়ার প্রেরণা নবায়িত হতো।
(৫) কুরআন এভাবে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হওয়ায় কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণ আরো বেশি জোরদার হয়েছে। কুরআন অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রথম থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। প্রতিবারে অবতীর্ণ কুরআনই তাদের প্রতি নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। প্রতিবারেই তারা অপারগ হয়েছে। এভাবে তাদের অসহায়ত্ব ও পরাজয় বারংবার প্রমাণিত হয়েছে। আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রতিবারের ছোট্ট অংশের অনুকরণে যখন তারা অক্ষম হয়েছে, তখন পূর্ণ কুরআনের অনুকরণ তাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। [একবারে লেখা একটি বইয়ের সাহিত্যিক মান ও তথ্যের সমন্বয় রক্ষা করা যেভাবে সম্ভব, দীর্ঘ সময়ে বিক্ষিপ্তভাবে লেখা একটি বইয়ে তা সম্ভন নয়। কিন্তু কুরআন এভাবে অবতীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তার অলৌকিক ভাষাশৈলী ও তথ্যের সমন্বয় রক্ষিত হয়েছে। বিষয়টি তার অলৌকিকত্ব আরো জোরালোভাবে প্রমাণ করে।]