hadith book logo

হিযবুল্লাহ সম্পর্কে কী জানেন

লেখকঃ আলী আস-সাদিক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

‘বিলায়াতুল ফকিহ’ কি?

‘বিলায়াতুল ফকিহ’ শিয়াদের একটি ধর্মীয় আকিদা ও রাজনৈতিক বিদ‘আত, যার প্রবক্তা খোমেনি। এ আকিদার অর্থ হচ্ছে নেতৃত্ব ও সরকার প্রধান হওয়ার বেশী হকদার ধর্মীয় ফকিহ বা বিদ্যান, যার মধ্যে নির্দিষ্ট কতক শর্ত রয়েছে। তিনি অদৃশ্য নিষ্পাপ ইমামের প্রতিনিধি হিসেবে উম্মতের নেতৃত্ব দিবেন। তাই উম্মত যাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছে, সেই ধর্মীয় নেতার পরামর্শ ব্যতীত কোনো নির্দেশ ও কোনো অনুমোদন দেওয়া যাবে না, এভাবে কাঙ্ক্ষিত ইমাম মাহদির প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে।

‘বিলায়াতুল ফকিহ’ প্রবক্তা খোমেনির ছায়ায় হিযবুল্লাহর জন্ম হয়। আমরা পূর্বে বলেছি, সামনেও আসছে যে, হিযবুল্লাহ নিজে বলেছে: ‘হিযবুল্লাহর রক্ত-মাংস ইরানি। হিযবুল্লাহ ধর্মীয় ক্ষেত্রে ইরানি বিপ্লবের পুরোধা ইমাম খোমেনির অনুসারী। তারপর তার উত্তরসূরি আলি খামেনির অনুসারী।

এখানে আমরা খোমেনি রচিত ‘আল-হুকুমাতুল ইসলামিয়া’ কিতাব থেকে ‘বিলায়াতুল ফকিহ’র ব্যাখ্যা দিচ্ছি:

১. খোমেনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ উম্মতের জন্য দলিল ছিলেন, বর্তমান যুগের ফকিহগণও উম্মতের জন্য দলিল। তাদের আনুগত্য ত্যাগকারীকে আল্লাহ শাস্তি দিবেন। [‘আল-হুকুমাতুল ইসলামিয়াহ’: (১০৯)]

২. আল্লাহ তা‘আলা রাসূলকে মুমিনদের অলি বা অভিভাবক বানিয়েছেন, তার পশ্চাতে ইমাম হচ্ছেন অলি। রাসূল ও ইমামের অলি হওয়ার অর্থ শরয়ী ক্ষেত্রে তাদের নির্দেশ সবার জন্য অপরিহার্য। সেই একই বেলায়াত বা অভিভাবকত্ব ও কর্তৃত্ব ফকিহের জন্যও স্বীকৃত; তবে ফকিহ ও অলির মাঝে শুধু একটি পার্থক্য রয়েছে। [এ পার্থক্যের কোনো মানে নেই, প্রকৃতপক্ষে ফকিহর বিলায়াত দ্বারা নিষ্পাপ ইমামদের রাজত্বকে টিকিয়ে রাখা ও দীনের নামে মানুষের উপর কর্তৃত্ব করাই উদ্দেশ্য।] অর্থাৎ ‘ফকিহ’র বিলায়াত অপর ফকিহর উপর প্রযোজ্য নয়, এক ফকিহ অপর ফকিহকে পদে বসাতে কিংবা পদ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। [খোমেনি যদি এ দাবিতে সত্যবাদী হয়, তাহলে কেন সে ফকিহ আয়াতুল্লাহ উজমা শরীয়তমাদারিকে বরখাস্ত করেছে এবং তার ধর্মীয় উপাধি ও পদ ছিনিয়ে নিয়েছে? খোমেনি কেন স্বীয় প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ উজমা আলি মুনতাজিরিকে পদচ্যুত করেছে? তারা কেন খোমেনির ক্ষমতার বলি হল? এর মূল কারণ, তারা ফকিহর বিলায়াতে প্রশ্ন করেছিল এবং তার ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছিল?!] কারণ যোগ্যতার বিচারে উভয়ে সবাই সমান। [‘আল-হুকুমাতুল ইসলামিয়াহ’: (পৃ.৭৩-৭৪)]

৩. যদি জ্ঞানী ও ন্যায়পরায়ণ কোনো ফকিহ হুকুমত কায়েম করার রূপরেখা নিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেও সমাজের সে পরিমাণ কর্তৃত্বের অধিকারী, যে পরিমাণ অধিকারী তাদের নবী, এবং প্রত্যেক মানুষের উপর ওয়াজিব তার কথা শ্রবণ করা ও তার অনুসরণ করা। [‘আল-হুকুমাতুল ইসলামিয়াহ’: (পৃ.৭২)]

শিয়াদের কেন্দ্রীয় নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা সায়্যেদ মুহাম্মদ হুসাইন ফাদলুল্লাহ বলেন: “ফকিহর সিদ্ধান্ত কোনো বিষয়কে বৈধতার হুকুম প্রদান করে, কারণ সে ইমামের স্থলাভিষিক্ত, ইমাম হলেন নবীর স্থলাভিষিক্ত, অতএব নবী যেরূপ মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের থেকেও অতি ঘনিষ্ঠ, ইমামগণও সেরূপ ঘনিষ্ঠ, অনুরূপ ঘনিষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ ফকিহ”। [‘বিলায়াতুল ফকিহ, লি মুহাম্মদ হুসাইন ফাদলুল্লাহ: পৃ.৪৬), «حزب الله رؤية مغايرة» কিতাব থেকে সংগৃহীত, (পৃ.৬১)] অতএব “প্রত্যেক বস্তুর বৈধতা যেরূপ নবীদের থেকে আসে, তেমনি আসে ফকিহদের থেকেও। [‘বিলায়াতুল ফকিহ, লি মুহাম্মদ হুসাইন ফাদলুল্লাহ: পৃ.২৪), «حزب الله رؤية مغايرة» কিতাব থেকে সংগৃহীত, (পৃ.৬১)]”