hadith book logo

হিযবুল্লাহ সম্পর্কে কী জানেন

লেখকঃ আলী আস-সাদিক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯

তিনটি স্থানে জিহাদ ফরজ:

১. যখন মুসলিম ও কাফের দুই দল মুখোমুখি হয়, তখন উপস্থিত মুজাহিদদের উপর জিহাদ করা ওয়াজিব, পলায়ন করা বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا لَقِيتُمۡ فِئَةٗ فَٱثۡبُتُواْ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٤٥ ﴾ [ الانفال : ٤٥ ]

“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা কোনো দলের মুখোমুখি হও, তখন অবিচল থাক, আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হও”। [সূরা আনফাল: (৪৫)]

২. যদি কোনো এলাকায় কাফেররা অনুপ্রবেশ করে, তখন তাদেরকে প্রতিহত করা ও তাদের সাথে যুদ্ধ করা ওয়াজিব।

৩. যদি ইমাম (মুসলিম শাসক) কোনো সম্প্রদায়কে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বের হতে বলে, তখন তাদের উপর যুদ্ধ ওয়াজিব হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَا لَكُمۡ إِذَا قِيلَ لَكُمُ ٱنفِرُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱثَّاقَلۡتُمۡ إِلَى ٱلۡأَرۡضِۚ ٣٨ [ التوبة : 38 ].

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কী হল, যখন তোমাদের বলা হয়, আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধে) বের হও, তখন তোমরা জমিনের প্রতি প্রবল ঝুঁকে পড়?” [সূরা তাওবা: (৩৮)]

অতঃপর ইবনে কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার সাতটি শর্ত উল্লেখ করেন: ১. ইসলাম, ২. সাবালক, ৩. বিবেক, ৪. স্বাধীন, ৫. পুরুষ, ৬. শারীরিকভাবে সুস্থ, ৭. জিহাদের খরচের মালিক।

কেউ হয়তো বলতে পারে, ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তোমরা কেন শিয়া ইমামিয়াদের সাথে মিল না?

আমাদের উত্তর: রাফেযীরা আহলে-সুন্নাহর সাথে কখন এক হয়েছে?

আপনি মুসলিম সেনাপতি সালাহুদ্দিন আইউয়ূবী রাহিমাহুল্লাহুর জীবনী দেখুন। তিনি আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ ও কুফরের কালেমাকে পরাস্ত করার জন্য জিহাদ করেছেন। এ বীর পুরুষ প্রথম শিয়া ইসমাইলিয়াকে ক্ষমতা থেকে পদচ্যুত করেন এবং তাদেরকে সরকারী কাজ ও শাসন ক্ষমতা থেকে দূরে নিক্ষেপ করেন, অতঃপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার জন্য ইয়াহূদীদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

সন্দেহ নেই, ইয়াহূদীদের মৃত্যু ও তাদের দুর্যোগে আমরা খুশি হই, যে পরিমাণেই হোক। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমরা হিযবুল্লাহর নাটক, মিথ্যা প্রচার ও লোক দেখানো শ্লোগানে ধোঁকা খাব, যেভাবে তারা সাধারণ ও সরলমনা মুসলিমদের শিকার করে। আমরা ভালো করেই জানি, হিযবুল্লাহ লেবাননে শুধু ইরানের স্বার্থেই যুদ্ধ করে। তার উদ্দেশ্য কখনো পবিত্র ইসলামি ভূমি রক্ষা করা কিংবা বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করা নয়।