hadith book logo

হিযবুল্লাহ সম্পর্কে কী জানেন

লেখকঃ আলী আস-সাদিক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

ইরাক ও আফগানিস্তান পতনে ইসলামি (!!) প্রজাতন্ত্র ইরানের ভূমিকা ও আমেরিকার সাথে তার গোপন চুক্তি কি ছিল?

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান পর্দার আড়াল থেকে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছে। ঘটনার শুরুতে, মাঝে ও শেষে কোথাও তার অংশ গ্রহণ কম ছিল না। প্রকৃতপক্ষে আমেরিকার সাথে সেই প্রথম ইরাক ও আফগানিস্তান দখলের পরিকল্পনা করে, আমেরিকার স্বার্থে ইরান নিজের সামর্থ্য ব্যয়ে এতটুকুন কার্পণ্যও করেনি, কারণ উভয় দেশের পতন ঘটানোর পিছনে লক্ষ্য এক। পার্থিব স্বার্থ হাসিল করা ও শিয়াদের প্রতিষ্ঠিত করা। এ বিষয়গুলো আমেরিকা নিজেও স্বীকার করে যে, যদি ইরান না হত তাহলে এত দ্রুত তালেবানদের হটানো সম্ভব হত না। একটি প্রবাদের মাধ্যমে ইরানের ভূমিকাকে স্বীকার করা হয়েছে এভাবে: “হে পারস্যের ব্রাদার, যদি তোমরা না হত, তাহলে কাবুল ও বাগদাদের পতন হত না”।

সন্দেহ নেই, ইরাকের যুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্য করে ইরান তার স্বার্থ উদ্ধার করেছে। শিয়াদের বিরাট সংখ্যা সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করেছে খোদ আমেরিকা। এ জন্য ইরাকের নতুন সরকারকে সমর্থন দানকারী রাষ্ট্রের মধ্যে ইরান অগ্রগামী, যদিও তার প্রকৃত বৈধতা এখনো হাসিল হয়নি। ‘মুজাহিদি খলক’ অর্গানাইজেশনকে প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে সরিয়ে গায়েব করা হয়েছে। অনুরূপ আমেরিকাও ইরানকে অনেক ছাড় দিয়েছে, বর্তমান পারমানবিক কেন্দ্র স্থাপনার ক্ষেত্রেও তাকে ছাড় দিচ্ছে আমেরিকা। অচিরে পুরনো সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে গোপন যোগাযোগের ভিত্তিতে উভয় বিরাট চুক্তি করবে।

আমেরিকা-ইরাকের যুদ্ধে ইরান সম্পৃক্ত ছিল না, এ কথা মোটেও সঠিক নয়। কারণ, সকল প্রমাণ দ্বারা স্পষ্ট যে, ইরান অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ইরাক যুদ্ধে শতভাগ সন্তুষ্ট ছিল। যদিও ভবিষ্যতে ইরানের সীমানায় আমেরিকান সেনাবাহিনী থাকার প্রয়োজন হয়, যাদেরকে সে ‘শয়তানে আকবর’ বলে।