hadith book logo

হিযবুল্লাহ সম্পর্কে কী জানেন

লেখকঃ আলী আস-সাদিক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

ইরান-ইরাক যুদ্ধে কি লেবাননী হিযবুল্লাহ ইরানের সাথে যোগ দিয়েছিল? আওয়াযে সুন্নী ছাত্রদের অসন্তোষ দমনেও কি তারা অংশ নিয়েছিল?

ইরাক-ইরান যুদ্ধ ও ইরানের ‘আহওয়ায’ নগরীতে সুন্নি ছাত্রদের আন্দোলন দমনে হিযবুল্লাহ অংশ গ্রহণ করেছিল।

১৯৯৯ই. সালে ইরানের খোযিস্তান প্রদেশের রাজধানী আহওয়ায নগরীর ছাত্র-বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে সৃষ্ট রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও তার পরবর্তী ঘটনাসমূহে ইরানি সরকারের পক্ষে অংশ নেয় হিযবুল্লাহ। ছাত্র-বিদ্রোহে অংশ নেওয়া নেতাদের ব্যতীত একাধিক সূত্র ও এরাবিক গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, শতশত আরব যোদ্ধা (হিযবুল্লাহর সদস্য) নিরাপত্তা বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ হয়ে ছাত্রদের দমন করে ও তাদের (আরব ইরানি) বিদ্রোহ নিঃশেষ করে দেয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে একটি বিষয় নিশ্চিত প্রমাণিত যে, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের ইউনিটে অংশ গ্রহণকারী যোদ্ধারা ‘ইরাকি ইসলামি [শিয়া] বিপ্লবের সর্বোচ্চ পরিষদে’র অনুগত ‘ফিলাক বদর’ এর সামরিক শাখার সদস্য।

তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কতক লোকের ভাষা ছিল লেবাননি ও সিরিয়ানদের ন্যায়, যা থেকে তাদের জাতীয়তা সম্পর্কে সন্দেহের উদ্রেক করেছে! তার প্রমাণ মিলেছে কিছু দিন পূর্বে দেওয়া আলি আকবর মুহতাশিমি বুর-এর ভাষণে, তাকে হিযবুল্লাহর ধর্মীয় পিতা জ্ঞান করা হয়। ইতোপূর্বে তিনি ইরানের পক্ষ থেকে সিরিয়ায় রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ইরানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সভার সেক্রেটারিও ছিলেন তিনি। ১৯৮২ই. সালে তিনিই ‘হরকতে আমাল’ থেকে হিযবুল্লাহর জন্ম দেন। তিনি বলেছেন: ইরান-ইরাক যুদ্ধে বিপ্লবী গার্ডের পাশাপাশি হিযবুল্লাহর যোদ্ধারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল।

গত বুধবার ‘আলি মুহতাশিমি বুর’ ইরানি সংবাদ «شرق» ‘শারক’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে হিযবুল্লাহ ও লেবাননের সর্বশেষ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, (উল্লেখ্য যে, তিনি ইমাম খোমেনির ছাত্র ও হুজ্জাতুল ইসলাম খেতাব প্রাপ্ত) “হিযবুল্লাহর অভিজ্ঞতার একাংশ যুদ্ধের ময়দান থেকে শেখা, আর দ্বিতীয় অংশ শিখেছে প্রশিক্ষণ থেকে, সন্দেহ নেই ইরান-ইরাক যুদ্ধ থেকে হিযবুল্লাহ অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, কারণ হিযবুল্লাহর সদস্যরা আমাদের বাহিনীর পাশা-পাশি অথবা সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করত”।

‘মুহতাশিমি বুর’ হিযবুল্লাহর শক্তি সম্পর্কে আরো বলেন: “শেষের বছরগুলোতে লেবানন ও তার অঞ্চলসমূহে হিযবুল্লাহ রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করেছে, তার যোদ্ধাদের সামরিক অভিজ্ঞতা ও সামরিক ক্ষেত্রে অংশ গ্রহণের বিষয়টি বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ আমরা দেখছি যে, বৈরুত, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বেক্কা প্রদেশের দূরদূরান্ত যেখানে হিযবুল্লাহর সদস্যরা থাকত ও তাদের মিসাইলের ঘাঁটি ছিল, যা ইসরাইলের বিমানগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে, এত কিছু সত্যেও হিযবুল্লাহ এখন লাগাতার ইসরাইলের দিকে মিসাইল নিক্ষেপ করার শক্তি অর্জন করেছে, যে কারণে ইসরাইল বাধ্য হয়েই ধীরেধীরে তার পদাতিক বাহিনী লেবাননে দাখিল করছে, তবে বিনতে জাবিল, মারুনুর রাস ও আইতারুনের তিন রাস্তা মোড়ে তাদেরকে কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে”।

মুহতাশিমির বর্ণনা মোতাবেক, লেবাননে হিযবুল্লাহর জন্ম থেকে ১০০-হাজারের অধিক শিয়া যুবক যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে, প্রত্যেক প্রশিক্ষণে ৩০০-যোদ্ধা অংশ গ্রহণ করে, এখনও লেবানন ও ইরানে বহু প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে। [দেখুন: الشرق الأوسط তারিখ: ১১/৭/১৪২৭হি. মোতাবেক: ৫/৯/২০০৬ই., সংখ্যা: (১০১১২) আলী নূরী যাদাহ এর প্রবন্ধ থেকে। যার শিরোনাম ছিল এই যে, আলী আকবর মুহতাশিমী পূর, সিরিয়ায় নিযুক্ত ইরানের সাবেক রাষ্ট্রদুত ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি যে, “হিযবুল্লাহর যোদ্ধারা ইরানী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাথে মিশে ইরাক যুদ্ধে এবং আহওয়ায এর ছাত্র অসন্তোষ দমনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল।”]