hadith book logo

হিযবুল্লাহ সম্পর্কে কী জানেন

লেখকঃ আলী আস-সাদিক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

শিয়া সংগঠন ‘হিযবুল্লাহ’ লেবাননির প্রতিষ্ঠাকাল

লেবাননের শিয়া সংগঠন ‘হিযবুল্লাহ’র প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮২-ই. সনে, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অনুপ্রবেশ ঘটে ১৯৮৫-ই. সালে। ইরানের মদদপুষ্ট সংগঠন حركة أمل الشيعية اللبنانية [লেবাননি শিয়াদের স্বার্থ বাস্তবায়নকারী আন্দোলন] থেকে ‘হিযবুল্লাহ’র জন্ম। প্রথমে মূল সংগঠনের নামানুসারে হিযবুল্লাহর নামকরণ করা হয় حركة أمل الشيعية [শিয়াদের স্বার্থ বাস্তবায়নকারী আন্দোলন]। অতঃপর বৃহৎ লক্ষ্যে এ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় أمل الإسلامية [ইসলামি স্বার্থ বাস্তবায়নাকরী আন্দোলন], যেন শিয়া সম্প্রদায়ের সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে বের করে সমগ্র মুসলিম উম্মাকে তাতে শামিল করা যায়। কারণ حركة أمل الشيعية এর তৎপরতা লেবাননি শিয়াদের রাজনৈতিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ ছিল, তাকে ব্যাপক করে ‘আমালুল ইসলামিয়াহ’ নামকরণ করা হয়, যেন লেবানন ও অন্যান্য মুসলিম দেশে শিয়া মতবাদ প্রচারে ‘আমালুল ইসলামিয়া’কে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এ জন্য তারা জিহাদি গ্রুপের আকৃতি ধারণ করে, যেন মানুষ বোঝে তাদের উদ্দেশ্য মুসলিম উম্মাহ থেকে ইয়াহূদী আগ্রাসন প্রতিরোধ করা ও ইসলামের পবিত্র ভূমিসমূহ সংরক্ষণ করা।

তবে অতীতে আহলে সুন্নার উপর حركة أمل الشيعية যে ঘৃণ্য নির্যাতন ও আক্রমণ পরিচালনা করেছে, যার কালো দাগ এখনো মানুষ ভুলেনি, তার থেকে জন্ম নেওয়া ‘আমালুল ইসলামিয়া’ মুসলিম উম্মাহ থেকে বিদেশী [বিশেষ করে ইয়াহূদী] আগ্রাসন প্রতিরোধ করবে কারো বিশ্বাস হয়নি। এটা নতুন নামে পুরনো কার্য সম্পাদন করার ফন্দি সবাই বুঝে গেছে। এ থেকে সম্পূর্ণ নতুন নামে অপর একটি সংগঠনের জন্ম দেওয়া হল, যা বর্তমান ‘হিযবুল্লাহ’ নামে প্রসিদ্ধ”। [দেখুন: আমাল ওয়াল মুখাইয়ামাতুল ফিলিস্তিনিয়াহ, (পৃ.১৮১)]

নাম পরিবর্তন করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু লোককে হিরো বানানো হল। সংবাদ পত্রগুলো কতক কপট বীর বাহাদুর আবিষ্কার করল, যারা গতকালও সুন্নি মুসলিমদের উপর নিধনযজ্ঞ পরিচালনা করেছে। দক্ষিণ বৈরুতে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির “বারাজানাহ ক্যাম্পে” নিরীহ নিরপরাধ নিরস্ত্র সুন্নি মুসলিমদেরকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করেছে। হলুদ সাংবাদিকতার কল্যাণে তারাই আজ বীর মুজাহিদ!

সন্দেহ নেই, হিযবুল্লাহ বিদেশী আগ্রাসন প্রতিরোধ করবে এরূপ কল্পনা করা দিবাস্বপ্ন বৈ কিছু নয়, কারণ হিযবুল্লাহ মঞ্চে সাজানো শিয়াদের একটি নাটক, যা ব্যক্তি থেকে সমষ্টি পর্যায়ে সকল উম্মতের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য। বিশেষ করে যেসব মুসলিম দীন বোঝে না, সহি আকিদা বোঝে না, ইতিহাস পড়ে না, বরং মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারী পত্র-পত্রিকার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়; বিশুদ্ধ জ্ঞান, বাস্তব ঘটনা ও সঠিক তথ্যের উপর নির্ভর করে না, তারাই হিযবুল্লাহর প্রধান টার্গেট।

এভাবেই ‘হিযবুল্লাহ’র জন্ম, যার উদ্দেশ্য أمل الشيعية থেকে আরো ব্যাপক আকারে মুসলিম উম্মার উপর ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করা, কারণ ‘আমালে শিয়া’র কাজ ছিল রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতার আচ্ছাদনে শিয়া সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করা, কিন্তু হিযবুল্লাহর পরিধি তার চেয়েও বিস্তর। পরবর্তীতে মুসলিম উম্মার উপর হিযবুল্লাহর ক্ষোভ, প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘হরকতে আমাল’ ও ‘হিযবুল্লাহ’ একই মুদ্রার এপিট ওপিট। তারা ক্ষোভে আহলে সুন্নার উপর দাঁত কিড়মিড় করে।