১
অন্তরের আমল দ্বীনদারি
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
জয়নাব বিনতে জাহাসের দ্বীনদারি:
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা এর অপবাদের ঘটনায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জয়নব বিনতে জাহাস রাদিআল্লাহু আনহা কে তার দ্বীনদারির কারণে হেফাজত করেন। মুনাফেকরা যখন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার ব্যাপারে বিপথগামী হলেন এবং তাদের সাথে অন্যান্য লোকেরাও তাদের কথার আলোচনা করতে আরম্ভ করেন, তখন যয়নব বিনতে জাহাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর সতিন হওয়া এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা এর উপর নিজের বড়ত্ব প্রকাশ ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এর প্রতি তার বৈরিতা থাকা স্বত্বেও আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা সম্পর্কে কোন খারাপ মন্তব্য করেননি। যখন তাকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, তখন তিনি বললেন, আমি তার সম্পর্কে ভাল জানি। তার মধ্যে আমি কখনো কোন খারাপী দেখি নাই। তিনি এ ঘটনায় নিজেকে জড়ানো হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন।
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা নিজেই জয়নাব বিনতে জাহাস সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে বলেন,
«كان رسول الله يسأل زينب بنت جحش رضي الله عنها عن أمري، فقال يَا زَْينبَُ، مَا عَلمِتِ؟ مَا رَأْيتِ فقالت : يا رسول الله أحمي سمعي وبصري، والله ما علمت عليها إلا خيرا . قالت : وهي التي كانت تساميني، فعصمها الله بالورع»
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সম্পর্কে জয়নাব বিনতে জাহাস রাদিআল্লাহু আনহার নিকট জিজ্ঞাসা করেন, তিনি বলেন, হে জয়নব তুমি তার সম্পর্কে কি জান এবং কি দেখছ? তখন জয়নব বিনতে জাহাস রাদিআল্লাহু আনহা বলেন, হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর রাসূল! আমি আমার চোখ ও কানকে হেফাজত করে বলছি। আমি তার সম্পর্কে একমাত্র ভালো ছাড়া খারাপ কিছু জানি না। আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেন, তিনিই আমার উপর বড়াই করতেন। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার দ্বীনদারি দ্বারা তাকে হেফাজত করেন [বুখারি ২৬৬১, মুসলিম ২৭৭০।]।
এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজেও সংঘটিত হয়। যখন এ ধরনের কোন ঘটনা দেখা যায়, তখন আমাদের উচিত হল চুপ থাকা। কোন প্রকার সাক্ষী ছাড়া এ ধরনের রটনা সম্পর্কে মন্তব্য করা খুবই খারাপ।
আমাদের দেশে দেখা যায় সতীনকে বরদাশত করতে পারে না। তার কোন দোষ-ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার সাথে তাকে কিভাবে অপমান করা যায় সে চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ছিল দুনিয়ার সমস্ত মহিলাদের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এত বড় একটি সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের সতীনের বিষয়ে কোন খারাপ মন্তব্য করাতো দূরের কথা, বরং তিনি সাথে সাথে বললেন, না, হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর রাসূল! আমরা তার মধ্যে কখনো কোন খারাপ অভ্যাস প্রত্যক্ষ করিনি। তার মধ্যে আমরা সব সময় ভালো গুণই দেখতে পেতাম। এ ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের অবস্থা; তারা তাদের নিজেদের স্বার্থের কারণে কখনো দ্বীনদারির পরিপন্থী কোন কথা বা কাজে জড়িত হত না।
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা নিজেই জয়নাব বিনতে জাহাস সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে বলেন,
«كان رسول الله يسأل زينب بنت جحش رضي الله عنها عن أمري، فقال يَا زَْينبَُ، مَا عَلمِتِ؟ مَا رَأْيتِ فقالت : يا رسول الله أحمي سمعي وبصري، والله ما علمت عليها إلا خيرا . قالت : وهي التي كانت تساميني، فعصمها الله بالورع»
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সম্পর্কে জয়নাব বিনতে জাহাস রাদিআল্লাহু আনহার নিকট জিজ্ঞাসা করেন, তিনি বলেন, হে জয়নব তুমি তার সম্পর্কে কি জান এবং কি দেখছ? তখন জয়নব বিনতে জাহাস রাদিআল্লাহু আনহা বলেন, হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর রাসূল! আমি আমার চোখ ও কানকে হেফাজত করে বলছি। আমি তার সম্পর্কে একমাত্র ভালো ছাড়া খারাপ কিছু জানি না। আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেন, তিনিই আমার উপর বড়াই করতেন। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার দ্বীনদারি দ্বারা তাকে হেফাজত করেন [বুখারি ২৬৬১, মুসলিম ২৭৭০।]।
এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজেও সংঘটিত হয়। যখন এ ধরনের কোন ঘটনা দেখা যায়, তখন আমাদের উচিত হল চুপ থাকা। কোন প্রকার সাক্ষী ছাড়া এ ধরনের রটনা সম্পর্কে মন্তব্য করা খুবই খারাপ।
আমাদের দেশে দেখা যায় সতীনকে বরদাশত করতে পারে না। তার কোন দোষ-ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার সাথে তাকে কিভাবে অপমান করা যায় সে চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ছিল দুনিয়ার সমস্ত মহিলাদের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এত বড় একটি সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের সতীনের বিষয়ে কোন খারাপ মন্তব্য করাতো দূরের কথা, বরং তিনি সাথে সাথে বললেন, না, হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর রাসূল! আমরা তার মধ্যে কখনো কোন খারাপ অভ্যাস প্রত্যক্ষ করিনি। তার মধ্যে আমরা সব সময় ভালো গুণই দেখতে পেতাম। এ ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের অবস্থা; তারা তাদের নিজেদের স্বার্থের কারণে কখনো দ্বীনদারির পরিপন্থী কোন কথা বা কাজে জড়িত হত না।