hadith book logo

অন্তরের আমল দ্বীনদারি

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

এক. নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দূরে থাকা:

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সব কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, সেগুলো থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে দ্বীনদারি অর্জন করতে হবে। নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ হতে বিরত থাকা দ্বীনদারি অর্জনের পূর্ব শর্ত। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,

اجتنب ما حرم عليك تكن من أورع الناس

“আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের জন্য যা হারাম করেছে, তা হতে বিরত থাক, তাহলে তুমি বড় পরহেজগার হতে পারবে” [শুয়াবুল ঈমান: ২০১.]।

ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট একজন লোক এসে কোন একটি বিষয়ে সাক্ষী দিল, তার কথা শোনে তিনি তাকে বলেন, আমি তোমাকে চিনি না। আর আমার না চেনা তোমার কোন ক্ষতি হবে না। তুমি একজন লোক নিয়ে আস যে তোমাকে চেনে। এ কথা শোনে উপস্থিত লোকদের একজন বলল, আমি তাকে চিনি। ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি তার সম্পর্কে কি জান? সে বলল, আমি জানি লোকটি ইনসাফগার ও দ্বীনদার। সে তোমার নিছক একজন প্রতিবেশী তুমি কি তার রাত-দিন এবং যাওয়া আসা সব বিষয়ে জান? তখন সে বলল, না। তুমি কি তার সাথে টাকা-পয়সার লেন-দেন করেছ? টাকা পয়সার লেন-দেন মানুষের দ্বীনদারির প্রমাণ। লোকটি বলল, না আমি তার সাথে টাকা পয়সার কোন লেন-দেন করি নাই। তারপর সে বলল, তুমি তার সাথে সফরের সঙ্গী হয়েছিলে? যা তার চরিত্র ভালো হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করে। লোকটি বলল, না। আমি তার সাথে কখনো সফর করিনি। তখন তিনি বললেন, তুমি তার সম্পর্কে জান না। সুতরাং, তুমি একজন লোক নিয়ে আস যে তোমার সম্পর্কে জানে [সুনানুল বাইহাকি আল কুবরা: ২০১৮৭ আলবানী সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন।]।

সুফিয়ান সাওরী রহ. কে দ্বীনদারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, উত্তরে তিনি বললেন,

إنِّي وَجَدتُ فَلا تَظُنوُّا غَيْرَهُ

هَذَا التَّورَُّع عِنْدَ هَذَا الدِّرْهَمِ

فإذَِا قِدرْتِ عَليْهِ ثُمَّ تَرْكَتهُ

فَاعْلَمْ بأَنَّ هُنَاكَ تَقْوَى المُسْلِمِ

“মনে রাখবে, আমি দিরহামের নিকট দ্বীনদারিকে পেয়েছি, এর বাহিরে কোন কিছু তোমরা চিন্তা বা ধারণা করো না। যখন তুমি দিরহাম অর্জনে সক্ষম হও, কিন্তু তা তুমি গ্রহণ না করে রেখে দিলে এবং তার লোভকে তুমি সামাল দিলে, [এটিই হল, সত্যিকার দ্বীনদারি] তবে তুমি মনে রাখ! এখানেই একজন মুসলিমের তাকওয়া বা দ্বীনদারি প্রমাণিত হয়” [মুখতাছারু শুয়াবুল ঈমান: ৮৬.]। [তার মধ্যে কি অর্থের লোভ বেশি না আখিরাতের প্রতি আগ্রহ বেশি]

অপর এক কবি কাব্য আবৃত্তি করে বলেন,

لَا يَغُرَّنْكَ مِنَ المَرْءِ قَمِيصٌ رَقَعَهْ

أَوْ إزَارٌ فَوْقَ كَعْبِ السَّاقِ مِنهُْ رَفَعَهْ

أَْو جَبيِن لَاح فِيهِ أَثٌر قْد قَلَعَهْ

وَلَدَى الدِّرْهَمِ فَانُظرْ غَيَّهُ أَو ورَعَه

“যখন কোন মানুষকে তুমি ছিড়া জামা পরিধান করতে দেখবে, তাকে তুমি বুজুর্গ বা পরহেজগার মনে করে ধোঁকায় যেন না পড়। অনুরূপভাবে যখন তুমি কোন মানুষকে যখন দেখবে সে গোড়ালির উপর কাপড় পরিধান করে, তখন তাকে তুমি পরহেজগার ধারণা করে, অথবা তার চেহারার মধ্যে এমন কোন আঘাত রয়েছে যা তার দ্বীনদারি বুঝায়, তা দেখে তুমি যেন ধোঁকায় না পড়। তোমাকে একজন মানুষের দ্বীনদারি পরীক্ষা করতে হলে, দেখতে হবে টাকা পয়সা যখন তার সামনে রাখা হয়, তখন সে তাকে কিভাবে গ্রহণ করে। তখন তার দ্বীনদারি প্রাধান্য পায় নাকি তার গোমরাহি [এহইয়ায়ু উলুমুদ্দিন: ৮২/২.]!