hadith book logo

অন্তরের আমল দ্বীনদারি

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

দ্বীনদারি অবলম্বন দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য অর্জনের কারণ:

একজন লোক তখন কামিয়াব হবে, যখন দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবি লাভে সে ধন্য হয়। দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্য লাভ করার জন্য একজন মানুষকে অবশ্যই তাকওয়া বা দ্বীনদারি অর্জন করতে হবে। ফুজাইল ইবন আয়ায রহ. বলেন, পাঁচটি জিনিষ সৌভাগ্য লাভের কারণ: অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস। দ্বীনের বিষয়ে দ্বীনদারি অবলম্বন করা, দুনিয়া হতে বিমুখ হওয়া, লজ্জা করা এবং জ্ঞান অর্জন করা [হুলিয়াতুল আওলিয়া: ২১৬.]।

এখানে যে পাঁচটি বিষয়ের কথা আলোচনা করা হয়েছে, এগুলো খুবই জরুরি। যখন মানুষের ঈমান মজবুত হবে না, তখন তার যাবতীয় সব কর্মে হতাশা বিরাজ করবে। কোন কাজেই সে সাহস ও শক্তি পাবে না। আর যখন একজন মানুষের ঈমান মজবুত হবে, তখন তাকে কোন কিছুই পরাহত করতে পারবে না। যে যত বেশি বিশ্বাসী হবে, সে তত বেশি শক্তিশালী হবে।

আর দ্বীন হল, মানব প্রকৃতির সাথে সরাসরি জড়িত একটি বিধান। যারা দ্বীনকে মানবে তারা তাদের মানবতাকে সহযোগিতা করবে। আর যারা দ্বীনকে মানবে না, তারা মানবতার শত্রু ও বিরোধী। তারা কোন কাজেই সফলতা পাবে না।

দুনিয়া হল, মানুষের জন্য পরীক্ষাগার। এখানে কেউ চিরদিন থাকতে পারবে না। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী জীবন, আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন একেবারেই নগণ্য। এ কথা আমাদের কারোই অজানা নয়। কিন্তু তারপরও এ দুনিয়া নিয়ে আমরা এত ব্যস্ত থাকি, তা আর বলে বোঝানোর অপেক্ষা রাখে না। যারা রাতদিন সবসময় দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তারা কখনোই পরহেজগার হতে পারে না। দুনিয়া ও আখিরাত দুটি এক সাথে কামাই করা যায়না। যারা দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তারা তাদের আখিরাতের ক্ষতি করে। আর যারা আখেরাত নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারাও দুনিয়ার কাজ কর্মে অমনোযোগি হয়।

লজ্জা মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূষণ। যাদের লজ্জা থাকে না, তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে। প্ক্ষান্তরে যাদের মধ্যে লজ্জা থাকে, তারা ইচ্ছা করলে যা ইচ্ছা তা করতে পারে না। তাদের লজ্জা তাদের বাধা দেয়। এ কারণেই হাদিসে বলা হয়েছে, লজ্জা ঈমানের একটি অন্যতম শাখা। লজ্জার সাথে ঈমানের সম্পর্ক গভীর। লজ্জাহীন লোক কখনোই ঈমানদার হতে পারে না। যারা পরহেজগার হয়, তাদের মধ্যে অবশ্যই লজ্জা থাকে। তারা মানবতা বিরোধী কোন কাজ করে না। তাদের লজ্জা তাদের বাধা দেয় এবং বিরত রাখে।

পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে, ইলম ছাড়া দ্বীনদারি অর্জন করা সম্ভব নয়। কারণ, ইলম ছাড়া কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম তা জানার কোন উপায় নাই। হারাম হালাল সম্পর্কে জানা ছাড়া কারো জন্য মুত্তাকী বা পরহেজগার হওয়া সম্ভব নয়।