১
অন্তরের আমল দ্বীনদারি
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৮
নিজের দোষ নিয়ে মাথা ঘামানো অন্যের দোষের চর্চা হতে বিরত থাকা:
যারা নিজেদের দোষ দেখে না কিন্তু অন্যদের দোষ চর্চা করতে খুব মজা পায় তারা মুনাফেক বৈ আর কিছু নয়। এ ধরনের মানুষ আমাদের সমাজে অনেক আছে, যারা মানুষের দোষ তালাশ করে বেড়ায়। কিন্তু নিজের দোষ চোখে দেখে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ ধরনের লোকদের জন্য আখিরাতে বেদনাদায়ক শাস্তি নির্ধারণ করেছেন এবং দুনিয়ার জীবনেও রয়েছে অশান্তি ও যন্ত্রণা। আমাদের নিজেদের দোষগুলো আমাদের দু চোখের অতি নিকটে। তা স্বত্বেও আমরা তা দেখতে পাই না। কিন্তু অন্যের দোষ আমার দু-চোখ থেকে অনেক দূরে। তারপরও সেগুলো আমাদের চোখের সামনে পড়ে। এটি আমাদের জন্য মারাত্মক ব্যাধি। যার চিকিৎসা অতীব জরুরি। সুতরাং আমাকে আগে আমার নিজের দোষ দেখতে হবে। তারপর অন্যের দোষ নিয়ে মাথা গামাতে হবে। আর আমি যখন কারো মধ্যে কোন দোষ দেখব, তখন তা গোপন রাখতে চেষ্টা করব। মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হতে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কিন্তু আমি যদি দোষী ব্যক্তির সংশোধন চাই, তাহলে আগে তাকে জানাতে হবে এবং বলতে হবে আপনার মধ্যে এ দোষ আছে আপনি সংশোধন হয়ে যান। আর গোপনে তাকে উপদেশ দিয়ে বোঝাতে হবে, যাতে সে তার দোষ থেকে ফিরে আসে। ইব্রাহিম আদহমকে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, কিসের দ্বারা তাকওয়া পরিপূর্ণ হয়? উত্তরে তিনি বললেন, তুমি তোমার গুনাহের দিকে দেখার মাধ্যমে তাকওয়ার পূর্ণতা আসবে। আর মানুষের অন্যায়ের সমালোচনা করা বা প্রচার করা হতে বিরত থাকার মাধ্যমেও তোমার মধ্যে তাকওয়া পূর্ণতা পাবে। আর যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে তোমার অন্তর দুর্বল তার কথা চিন্তা করে, তুমি তোমার অন্তর থেকে খুব সুন্দর কথা বলবে। তুমি তোমার গুনাহের বিষয়ে করনীয় সম্পর্কে চিন্তা কর এবং তোমার প্রভুর নিকট তওবা কর, তাতে তোমার অন্তরে তাকওয়া বা দ্বীনদারি প্রতিষ্ঠিত হবে [হুলিয়াতুল আওলিয়া: ১৬/৮.]।