১
অন্তরের আমল দ্বীনদারি
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৭
বিশেষ দ্বীনদারি
সাধারণ মানুষের দ্বীনদারি আর বিশেষ মানুষের দ্বীনদারি এক হতে পারে না। কিছু কিছু বিষয়ে দ্বীনদারি আছে যেগুলো শুধু বিশেষ লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এ ধরনের দ্বীনদারিকে সূক্ষ্ম বা খাস দ্বীনদারি বলা হয়, যা সব মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বিশেষ কিছু লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লামা ইবন রজব রহ. বলেন, এখানে একটি বিষয় আছে, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া একান্ত জরুরি। আর তা হল, সন্দেহযুক্ত বস্তু থেকে বিরত থাকা তার জন্য মানায়, যার যাবতীয় সব অবস্থা স্থির এবং তার আমলসমূহ তাকওয়া ও দ্বীনদারির ক্ষেত্রে একটি অপরটির পরিপূরক। কিন্তু যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে হারামে লিপ্ত হয়, তারপর সে সূক্ষ্ম বস্তু বা সন্দেহযুক্ত বস্তু হতে দ্বীনদারি অবলম্বন করে, তার জন্য এ ধরনের তাকওয়া বা দ্বীনদারি মানায় না। তার ক্ষেত্রে এ ধরনের দ্বীনদারি কোন ক্রমেই প্রযোজ্য নয় বরং তাকে এ ধরনের দ্বীনদারি অবলম্বন থেকে বিরত রাখাই বাঞ্ছনীয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইরাকের এক অধিবাসী ব্যাঙের প্রস্রাবের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, তারা আমাকে ব্যাঙের পেশাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে, অথচ তারা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে হত্যা করছে। আর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
« هُمَا رَيَحانَتَايَ مِن الدُّنْيَا»
দুনিয়াতে তারা উভয় আমার দুই বাহু [বুখারি :৫৬৪৮.]।
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রহ. কে জিজ্ঞাসা করা হল, একজন লোক সবজি কেনার সময় শর্ত দিয়ে বলল, আমি তোমার থেকে সবজি এ শর্তে ক্রয় করতে পারি, তুমি আমাকে একটি দড়ি দেবে যার দ্ধারা আমি আমার সবজিগুলো বেধে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি। ইমাম আহমদ রহ. তার কথা শুনে বলল, এ ধরনের কাজ কে করে? তখন তাকে জানানো হল, ইব্রাহীম ইবনে আবি নুয়াইম এ ধরনের কাজ করে থাকে। তখন তিনি বললেন, যদি ইব্রাহীম ইবন আমি নুয়াইম এ ধরনের কাজ করে থাকে তবে তা বৈধ। কারণ, দড়িটি সবজির সাথে সম্পৃক্ত [জামেয়ুল উলুম ওয়াল হিকাম: ১১১.]।
মোট কথা: কোন জিনিষ থেকে বিরত থাকবো আর কোন জিনিষ থেকে বিরত থাকবো না ব্যক্তির অবস্থার উপর নির্ভর করে। মানুষ যখন পরিস্থিতির স্বীকার হয় তখন পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়াই হল, তাকওয়া বা দ্বীনদারি। একজন খাদ্যের অভাবে মারা যাচ্ছে, তখন তার জন্য মৃত জন্তু খাওয়াও বৈধ। তার জান বাঁচানোর জন্য তখন হারাম বলে তা থেকে বিরত থাকা দ্বীনদারি নয়, তা খাওয়াই হল, দ্বীনদারি। যে ব্যক্তি ফরজ সালাত আদায় থেকে বিরত থাকে তার জন্য নফল সালাত কোন বুজুর্গি নয়। অনেক লোক এমন আছে যারা রমজানের রোজা রাখে না কিন্তু শাওয়ালের রোজা নিয়ে টানাটানি করে এটা কোন বুজুর্গি নয়। এগুলো নিছক ভন্ডামী ও পাগলামি বৈ কিছু নয়। কিছু কিছু বিষয় আছে এত সূক্ষ্ম যার থেকে বেচে থাকা কারো ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। বরং যারা এ সব থেকে বেচে থাকতে চায়, তারা যদি ফাসেক বা সুযোগ সন্ধানী লোক হয়, তাদেরকে তা হতে বিরত রাখতে হবে এবং তাদের প্রতিহত করতে হবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ইরাকের এক অধিবাসী ব্যাঙের প্রস্রাবের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, তারা আমাকে ব্যাঙের পেশাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে, অথচ তারা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে হত্যা করছে। আর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
« هُمَا رَيَحانَتَايَ مِن الدُّنْيَا»
দুনিয়াতে তারা উভয় আমার দুই বাহু [বুখারি :৫৬৪৮.]।
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রহ. কে জিজ্ঞাসা করা হল, একজন লোক সবজি কেনার সময় শর্ত দিয়ে বলল, আমি তোমার থেকে সবজি এ শর্তে ক্রয় করতে পারি, তুমি আমাকে একটি দড়ি দেবে যার দ্ধারা আমি আমার সবজিগুলো বেধে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি। ইমাম আহমদ রহ. তার কথা শুনে বলল, এ ধরনের কাজ কে করে? তখন তাকে জানানো হল, ইব্রাহীম ইবনে আবি নুয়াইম এ ধরনের কাজ করে থাকে। তখন তিনি বললেন, যদি ইব্রাহীম ইবন আমি নুয়াইম এ ধরনের কাজ করে থাকে তবে তা বৈধ। কারণ, দড়িটি সবজির সাথে সম্পৃক্ত [জামেয়ুল উলুম ওয়াল হিকাম: ১১১.]।
মোট কথা: কোন জিনিষ থেকে বিরত থাকবো আর কোন জিনিষ থেকে বিরত থাকবো না ব্যক্তির অবস্থার উপর নির্ভর করে। মানুষ যখন পরিস্থিতির স্বীকার হয় তখন পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়াই হল, তাকওয়া বা দ্বীনদারি। একজন খাদ্যের অভাবে মারা যাচ্ছে, তখন তার জন্য মৃত জন্তু খাওয়াও বৈধ। তার জান বাঁচানোর জন্য তখন হারাম বলে তা থেকে বিরত থাকা দ্বীনদারি নয়, তা খাওয়াই হল, দ্বীনদারি। যে ব্যক্তি ফরজ সালাত আদায় থেকে বিরত থাকে তার জন্য নফল সালাত কোন বুজুর্গি নয়। অনেক লোক এমন আছে যারা রমজানের রোজা রাখে না কিন্তু শাওয়ালের রোজা নিয়ে টানাটানি করে এটা কোন বুজুর্গি নয়। এগুলো নিছক ভন্ডামী ও পাগলামি বৈ কিছু নয়। কিছু কিছু বিষয় আছে এত সূক্ষ্ম যার থেকে বেচে থাকা কারো ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। বরং যারা এ সব থেকে বেচে থাকতে চায়, তারা যদি ফাসেক বা সুযোগ সন্ধানী লোক হয়, তাদেরকে তা হতে বিরত রাখতে হবে এবং তাদের প্রতিহত করতে হবে।