hadith book logo

জামাআতে নামাযের চল্লিশটি উপকারিতা

লেখকঃ জাহিদুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

৬) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ পালন, তাঁর সুন্নতের অনুসরণ, হেদায়াত অর্জন করা, গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ এবং শাস্তি থেকে শান্তি লাভ

জামাআতে নামায আদায় করা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ বাস্তবায়ন করা, তাঁর আদেশকৃত ও পালনীয় সন্নতের অনুসরণ করা। তিনি জামাআতে শরীক হয়ে নামায আদায় করার আদেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন,

مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ ثُمَّ لَمْ يَأْتِهِ، فَلا صَلاةَ لَهُ إِلا مِنْ عُذْرٍ

যে ব্যক্তি আযান শুনে বিনা কারণে মাসজিদে আসবে না তার কোন নামায হবে না [- আবু দাউদ, সহীহ ইবনু খুযায়মা।]

টিকাঃ উক্ত হাদীসটি সম্পর্কে বিদ্যানগণের কিছু উক্তি শেষের পৃষ্ঠাগুলোতে আলোচিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন,

إِذَا كَانُوا ثَلَاثَةً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُمْ بِالْإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ

যখন কোন স্থানে তিনজন লোক থাকবে তাদের মধ্যে জামাআত প্রতিষ্ঠা করবে এবং তাদের একজন ইমামতি করবে। যে সবচেয়ে উত্তমরূপে কুরআনপাঠকারী সে ইমামতির যোগ্য। [- সহীহ মুসলিম, শরহে নববী: ৫ম খন্ড ১৭২ পৃ:।] জামাআতে নামাযসহ অন্যান্য সকল প্রকার ইবাদতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ-অনুকরণ করা হল হেদায়াত লাভ করার মাধ্যম এবং আল্লাহ তাআলার ভালবাসা অর্জন সহ গুনাহ মাফ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا﴾

যদি তোমরা তাঁর অনুকরণ কর তবে হেদায়াত পাবে। [- সূরা নূর: ৫৪।] আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

﴿قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾

বলুন যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করে দিবেন। [- সূরা আল ইমরান: ৩১।]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَأْبَى قَالَ مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى

আমার উম্মতের প্রত্যেকেই জান্নাতে প্রবেশ করবে কিন্তু যে অস্বীকার করে সে নয়, তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে আমার অনুসরণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং যে আমার অবাধ্যতা করে সে অস্বীকার করে। [- সহীহ বুখারী, ফাতহুল বারী: ১৩তম খন্ড: ২৪৯পৃ:।] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,

إِنَّ أَثْقَلَ صَلَاةٍ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ وَصَلَاةُ الْفَجْرِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلَاةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حُزَمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لَا يَشْهَدُونَ الصَّلَاةَ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّار

নিশ্চয়ই মুনাফেকদের উপর সবচেয়ে কঠিন হল ফজর ও ইশার নামায। মানুষ যদি জানতো এই দু নামাযের মধ্যে কি মর্যাদা রয়েছে তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উহাতে আসতো। আমার ইচ্ছা হয় আমি নামায কায়েম করার আদেশ দেই অত:পর একজনকে নামাযের ইমামতি করার আদেশ প্রদান করি। অত:পর লাকড়ি-খড়ি বহনকারী একদল লোক নিয়ে যারা নামাযে আসে না তাদের বাড়ি-ঘর আগুনদিয়ে ভষ্মিভূত করে দেই। [- মুসলিম, অধ্যায়: জামাআতে নামাযের ফযীলত।]