hadith book logo

জামাআতে নামাযের চল্লিশটি উপকারিতা

লেখকঃ জাহিদুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

দুটি কথা

মহান আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা এবং দরূদ ও সালাম বর্ষিত আমাদের শেষ নবীর প্রতি। এই নিখিল বিশ্বে একজন মুমিন নর-নারী যত দিন জীবন ধারণ করবে তাঁকে তার প্রভুর ইবাদতের উপর অবিচল থাকতে হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ

আর তোমার রবের ইবাদত করতে থাক সুনিশ্চিত ক্ষণের (অর্থাৎ মৃত্যুর) আগমন পর্যন্ত। (সূরা হিজরঃ ৯৯) এ ইবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হল দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায সঠিক ভাবে আদায় করা। নামায ছাড়া কিয়ামতের দিন মুক্তির কোন ব্যবস্থা হবে না। যে নামায পড়বে তার জন্যই রয়েছে মুক্তি প্রতিশ্রুতি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى إِنِّى فَرَضْتُ عَلَى أُمَّتِكَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ وَعَهِدْتُ عِنْدِى عَهْدًا أَنَّهُ مَنْ جَاءَ يُحَافِظُ عَلَيْهِنَّ لِوَقْتِهِنَّ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهِنَّ فَلاَ عَهْدَ لَهُ عِنْدِى

আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তোমার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং এ প্রতিশ্রুতি আমার কাছে রেখেছি যে, যে কেউ এইগুলো উহার সময় অনুপাতে আদায় করবে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে এ গুলোর প্রতি যত্ন নিবে না তার জন্য কোন প্রতিশ্রুতি নেই। [- আবু দাউদ। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী (রহ) উক্ত হাদীসটি সহীহ বলেছেন।]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ

أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ فَإِنْ صَلَحَتْ صَلَحَ لَهُ سَائِرُ عَمَلِهِ، وَإِنْ فَسَدَتْ فَسَدَ سَائِرُ عَمَلِهِ

ক্বিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম হিসাব হবে নামাযের, যদি তা সঠিক হয় তবে তার সকল আমলই সঠিক বলে গণ্য হবে। আর যদি বাতিল হয় তবে তার সকল আমলই বাতিল হয়ে যাবে। [-ত্ববরানী। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী (রহ:) সিলসিলা সহীহাতে উক্ত হাদীসটি সহীহ বলেছেন।] নামাযই একমাত্র জান্নাত ওয়াজেব হওয়ার কারণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ

যে কোন ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করে, একনিষ্ঠতার সাথে দুরাকাআত নামায আদায় করে তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। [- মুসলিম।]

একজন মুসলিম ও একজন অমুসলিম (কাফেরের) মধ্যে পার্থক্য হল কেবল মাত্র নামায। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ

আমাদের মাঝে ও তাদের (কাফেরদের) মাঝে অঙ্গিকার হল নামায। সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিবে সে কাফের হয়ে যাবে। [- তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।] তাই আসুন আমরা সকলেই নামাযের প্রতি যত্নবান হই। আল্লাহ সকল মুসলিম নর-নারীকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পাবন্দী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন। -অনুবাদক।