hadith book logo

জামাআতে নামাযের চল্লিশটি উপকারিতা

লেখকঃ জাহিদুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

২১) মুনাফেকী ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ

জামাআতের সাথে নামায আদায় করার একটি মহান উপকারিতা হল, যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার (প্রথম তাকবীর) সাথে নামায আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার জন্যে দুটি মুক্তি লিপিবদ্ধ করবেন। একটি মুনাফেকী থেকে মুক্তি, অপরটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি।

আনাস (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الْأُولَى كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَتَانِ بَرَاءَةٌ مِنْ النَّارِ وَبَرَاءَةٌ مِنْ النِّفَاقِ

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে জামাআতে শরীক হয়ে চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার সাথে নামায আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার জন্যে দুটি মুক্তি লিপিবদ্ধ করবেন। একটি জাহান্নাম থেকে অপরটি মুনাফেকী থেকে। [- তিরমিযী, অধ্যায়ঃ তাকবীরে উলার ফযীলত। সহীহুল জা'মে ৬৩৬৫ নং।]

বিদ্বানগণ বলেছেন, উক্ত ছোয়াব শুধু মাসজিদে নববীতে নামায আদায় করার সাথে নিদিষ্ট নয় বরং দুনিয়ার সকল মাসজিদের ব্যাপারে তা সমান।

টিকাঃ আমাদের দেশের কতিপয় হাজ্জী সাহেব হজ্জ করতে এসে মদীনা শরীফ যিয়ারত করতে যেয়ে চল্লিশ ওয়াক্ত নামায মাসজিদে নব্বীতে পড়া ওয়াজিব মনে করেন। অথচ তাদের এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। এটা হজ্জের সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না। তাছাড়া যারা মনে করেন যে, চল্লিশ ওয়াক্ত নামায তাকবীরে উলার সাথে মাসজিদে নব্বীতে আদায় করলে আল্লাহ তাকে মুনাফেকী ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লিখে দিবেন এটাও ঠিক নয়। রবং এটা সকল মাসজিদের সাথেই সম্পর্ক রাখে।

ইবরাহীম বিন ইয়াযীদ আত্‌তাইমী (রহ:) বলেছেন, যদি তুমি কোন মানুষকে তাকবীরে উলার সাথে নামায পড়ার ব্যাপারে অবহেলা করতে দেখ তবে তার থেকে সম্পূর্ণ দূরে অবস্থান কর। [- সিয়ারে আলামুন্নুবালা, পঞ্চম খন্ড ৬০ পৃ:।]

বিশিষ্ট তাবেয়ী সাঈদ বিন মুসায়্যেব ও আহমাশসহ কোন কোন সালাফে সালেহীনদের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, তাঁরা চল্লিশ বছর জামাআতে নামায তাকবীরে ঊলার সাথে আদায় করেছেন।