hadith book logo

গীবত থেকে বাঁচার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

তওবার পরিচিতি

‘তওবা’ আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ হল- ফিরে আসা। এ শব্দটি আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত হয় আবার বান্দার দিকেও সম্পৃক্ত হয়। বান্দার দিকে সম্পৃক্ত হলে এর অর্থ হয়, গুনাহের কাজ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা। এটা বান্দার তওবা। আর আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত হলে এর অর্থ হয়, পাপের কারণে আল্লাহ ঐ বান্দাকে শাস্তি দিতে চান, কিন্তু তওবা করার কারণে আল্লাহ শাস্তির দিকে না গিয়ে বান্দাকে ক্ষমা করার দিকে ফিরে আসেন।

‘তওবা’ শব্দের আরো একটি অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মনোযোগী হওয়া। যবান দ্বারা তওবার শব্দ উচ্চারণ করা হোক বা না হোক- যদি পাপী ব্যক্তি আন্তরিক লজ্জা ও অনুতাপ এবং ভবিষ্যতে আর পাপ না করার দৃঢ়-সংকল্পের সাথে পাপ কাজ থেকে ফিরে আসে তবেই তা তওবা বলে গণ্য হবে।

নিচের ছয়টি বিষয়ের সমন্বয়ে তওবা পূর্ণতা লাভ করে ।

১. অতীত মন্দকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।

২. যেসব ফরয তরক করা হয়েছে, সেগুলোর কাজা আদায় করা।

৩. কারো ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে থাকলে তা ফেরত দেয়া, অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়া।

৪. কাউকে হাতে বা মুখে কষ্ট দিয়ে থাকলে সেজন্য ক্ষমা চেয়ে নেয়া।

৫. ভবিষ্যতে সেই গুনাহের কাছে না যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা।

৬. নিজেকে যেমন আল্লাহ তা‘আলা নাফরমানী করতে দেখেছিল, তেমনি এখন আনুগত্য করতে দেখা।

মানুষ তার নিজের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে এবং চিন্তা করবে যে, আল্লাহ তা’আলা আমার স্রষ্টা ও মালিক। তিনি আমাকে অস্তিত্তব দান করেছেন, নানা প্রকার নিয়ামত দ্বারা পুরস্কৃত করেছেন, অঙ্গ-প্রতঙ্গসমূহ দান করেছেন, সম্পদশালী করেছেন। আর আমি তাঁর নিয়ামতসমূহকে আনুগত্যের বদলে পাপকর্মসমূহে ব্যবহার করেছি! এটা কত বড় অকৃতজ্ঞতা!! তাই লজ্জার সাথে দৃঢ় সংকল্প চিত্তে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে যে, ভবিষ্যতে আর এসব পাপ করব না এটাই হবে যথার্থ তওবা। শুধুমাত্র যবান দ্বারা তওবা করলেই তওবা হয় না।