hadith book logo

গীবত থেকে বাঁচার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

চাঁদার টাকা

সমাজে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের হাতে জনকল্যাণমূলক কিছু ফান্ড বা তহবিল রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ করার জন্য মানুষের নিকট থেকে চাঁদা তুলে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় তারা সে ফান্ডের কিছু অংশ নিজেদের প্রয়োজনেও ব্যবহার করছে, যা মোটেই শরীয়ত সম্মত নয়।

যারা কোন মসজিদ-মাদরাসা অথবা কোন ওয়াকফ্ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদেরকে নিজেদের কাজকর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অতীব জরুরি। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অনেকেই জেনে বা না জেনে উদাসীনতা করে থাকেন এবং হিসাবে গরমিল করে ফেলেন। এটা তাদের জন্য পরকালের শাস্তির কারণ হবে।

আবার কেউ কেউ প্রতিনিধিরূপে মসজিদ-মাদরাসার জন্য চাঁদা সংগ্রহ করে থাকেন। এক্ষেত্রে অনেক লোক টাকা-পয়সা দিয়ে দেন; কিন্তু প্রতিনিধিদের ধর্মপরায়ণতার উপর নির্ভর করে তারা প্রমাণস্বরূপ কোন রসিদ চান না। এ প্রক্রিয়ায় যে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তা হতে আত্মসাৎ করা খুবই সহজ। যদি কারো পরকালের জবাবদিহির দৃঢ় বিশ্বাস না থাকে তাহলে প্রবৃত্তি ও শয়তান আত্মসাৎ করিয়েই ছাড়ে।

আবার অনেককেই দেখা যায় চাঁদার টাকা ও নিজের টাকা এক করে ফেলেন এবং তা হতে খরচ করতে থাকেন। কত টাকা চাঁদা থেকে খরচ হল আর কত টাকা নিজের থেকে খরচ হল তারা তা ভাবেন না। যখন হিসাব করা হয় তখন কাট-ছাট করে মিলিয়ে নেন। চাঁদা গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা এসব পদ্ধতির দ্বারা বান্দার হক নষ্ট হচ্ছে, অথচ বান্দা তা জানতে পারছে না। বান্দার কাছ থেকে সহজেই নজর এড়ানো যাচ্ছে। কিন্তু যিনি সর্বদ্রষ্টা বা সবকিছু দেখেন তার চোখ এড়ানো যায় না। তিনি একে ঠিকই ধরে ফেলবেন।

এ ধরনের খেয়ানত কোন একক ব্যক্তির অর্থসম্পদ আতমসাৎ করা থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর। কেননা একক ব্যক্তির নিকট হতে ক্ষমা চেয়ে নেয়া অথবা আদায় করে দেয়া সহজ, কিন্তু সর্বসাধারণের প্রদত্ত চাঁদা আত্মসাৎ করার পর ক্ষতিপূরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। যদি আল্লাহ তা‘আলা তওবার তাওফীক দেন তবুও হকদারগণের নাম অজ্ঞাত থাকার কারণে তাদের নিকট তাদের হক পৌঁছানোর কোন উপায় থাকে না। তাই এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি।