hadith book logo

গীবত থেকে বাঁচার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬১

মান-সম্মানের হক

মান-সম্মানের হক সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণের অর্থ এই যে, কেউ কাউকে বিনা দোষে প্রহার করে থাকে, গালি দিয়ে থাকে, অথবা পরনিন্দা করে থাকে, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে, অথবা যেকোন প্রকারে দৈহিক অথবা মানসিক কষ্ট দিয়ে থাকে। কেউ এমনটি করে থাকলে প্রতিপক্ষের নিকট হতে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করিয়ে নেয়া কর্তব্য। নতুবা কিয়ামতের দিন তার নেকী পাওনাদাররা নিয়ে যাবে আর সে নিঃস্ব ব্যক্তিতে পরিণত হবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ اَبِى هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُولَ اللهِ -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- قَالَ « اَتَدْرُوْنَ مَا الْمُفْلِسُ » . قَالُوا اَلْمُفْلِسُ فِيْنَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهٗ وَلَا مَتَاعَ . فَقَالَ « اِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ اُمَّتِى يَأْتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ وَيَأْتِى قَدْ شَتَمَ هٰذَا وَقَذَفَ هٰذَا وَاَ كَلَ مَالَ هٰذَا وَسَفَكَ دَمَ هٰذَا وَضَرَبَ هٰذَا فَيُعْطٰى هٰذَا مِنْ حَسَنَاتِهٖ وَهٰذَا مِنْ حَسَنَاتِهٖ فَاِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهٗ قَبْلَ اَنْ يُقْضٰى مَا عَلَيْهِ اُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِى النَّارِ »

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী ﷺ জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা কি জান গরীব কে? সাহাবাগণ উত্তরে বললেন, আমরা তো সে লোককেই গরীব মনে করি, যার নিকট দিরহাম অথবা মাল-সামানা নেই। তখন নবী ﷺ বললেন (না), নিশ্চয় আমার উম্মতের মধ্যে সে লোক (প্রকৃত) গরীব, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে আগমন করবে। অর্থাৎ সে নামায পড়েছে, রোযা রেখেছে এবং যাকাতও আদায় করেছে; কিন্তু সে হাশরের ময়দানে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, কাউকে সে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাত করেছে, কারো রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে।

(আর কিয়ামতের দিন তার ফায়সালা এভাবে করা হবে যে,) যাকে সে কষ্ট দিয়েছিল অথবা যার হক মেরে খেয়েছিল, তাদের মধ্যে তার নেকী বণ্টন করে দেয়া হবে। তারপরও যদি মানুষের হক আদায় হওয়ার পূর্বেই তার নেকী শেষ হয়ে যায়, তবে হকদারদের গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম হা: ৬৭৪৪)

উক্ত হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, শুধুমাত্র টাকা-পয়সা মেরে দেয়ার নামই যুলুম নয়। বরং গালি দেয়া, মিথ্যা অপবাদ দেয়া, অনর্থক প্রহার করা, সম্মান নষ্ট করা- এগুলোও যুলুম এবং হক নষ্ট করার অন্তর্ভুক্ত। অনেক লোক মনে করে যে, তারা ধর্মপরায়ণ অথচ এসব বিষয় হতে আদৌ বিরত থাকে না। এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর হক তওবা ও ইস্তেগফার দ্বারা ক্ষমা করেন কিন্তু বান্দার হক তখনই ক্ষমা হবে যখন তা আদায় করে দেয়া হবে অথবা ক্ষমা চেয়ে নেয়া হবে।