hadith book logo

গীবত থেকে বাঁচার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

গীবত সম্পর্কে ভুল ধারণা

প্রচলিত সমাজে যদি কাউকে এ কথা বলে যে, তুমি অমুকের গীবত করছ কেন? তখন সে বলে, আমি যা বলছি তাতো সকলেই জানে। এমন তো নয় যে, আমি বলার কারণেই মানুষ জানতে পারছে। অতএব এটা গীবত হবে কেন? এভাবে অনেকেই গীবত সম্পর্কে ভুল ধারণা করে থাকে। আবার অনেকেই গীবতকে নিজেদের মনমত সংজ্ঞায়িত করে থাকে। অথচ প্রকৃতপক্ষে সেগুলোও গীবতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন-

১. কেউ বলে, যে দোষ ব্যক্তির সামনে বলা যায় তা গীবত নয়।

২. কেউ বলে, নিজের অধীনে যারা আছে তাদের দোষচর্চা গীবত নয়।

৩. কেউ বলে, যে দোষ ব্যক্তির মাঝে আছে তা বলা গীবত নয়।

এভাবে গীবতকে সংজ্ঞায়িত করা কু-প্রবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়। তারা এগুলো বলে থাকে শুধুমাত্র নিজেদের মনের ধারণা অনুযায়ী, অথচ ধারণা দ্বারা সঠিক জ্ঞান লাভ হয় না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

وَاِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِيْ مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا

‘‘ধারণা দ্বারা সঠিক জ্ঞান অর্জিত হয় না (প্রকৃত অবস্থা জানা যায় না)।’’

(সূরা নজম- ২৮)

মোটকথা, বিনা প্রয়োজনে কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা যা শুনলে সে অসন্তুষ্ট হবে, তাকেই শরীয়তের পরিভাষায় গীবত বা পরনিন্দা বলে। এটা বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন, মুখের দ্বারা, লেখনির দ্বারা, অঙ্গ-প্রতঙ্গের দ্বারা। আবার এটা মুসলিম-অমুসলিম যে কারো ব্যাপারে হতে পারে। যদি বর্ণিত দোষগুলো ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান থাকে তবে তা গীবত হবে, আর যদি তা ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান না থাকে তবে তা হবে অপবাদ। সুতরাং জায়েয ক্ষেত্র ছাড়া কারো যেকোন প্রকারের দোষ অপরের কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।